বর্ণিল আয়োজনে ডব্লিউইউএসটির সমাবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের একটি শুভেচ্ছাপত্র পেলো ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (ডব্লিউইউএসটি) শিক্ষার্থীরা। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র এই ইউনিভার্সিটির চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপকে অভিবাদন-শুভেচ্ছা জানিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করলেন মার্কিন সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা সিনেটর চাক শ্যুমার, কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং এবং কংগ্রেসম্যান গ্যারি কনোলি, স্টেট সিনেটর শেখ রহমান ও চ্যাপ পিটারসন ছাড়াও সাবেক কংগ্রেসম্যান জিম মোরান।
১৭ জুন শনিবার ডব্লিউইউএসটির শিক্ষার্থীগণের (ক্লাস অব টোয়েন্টি টোয়েন্টি থ্রি)সমাবর্তন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য এক অনুষ্ঠানে বিশ্বে সবচেয়ে প্রভাবশালী যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি উদ্যোক্তা ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জড়ো হয়েছিলেন বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সমাদৃত শিক্ষানুরাগীসহ সমাজকর্মীরা। ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধাগণও। ভার্জিনিয়ার ফলস চার্চে জর্জ সি মার্শাল হাই স্কুলের আলো ঝলমাল অডিটরিয়ামে গাউন ও হ্যাট পরে শিক্ষার্থীরা গ্র্যাজুয়েশন প্যারেডে অংশ নেন। আর গ্রহণ করেন গ্র্যাজুয়েশন সনদ। এ উপলক্ষে প্রাঙ্গণটি ভরে উঠেছিলো কালো ও কমলার গাউন পরা নব্য গ্র্যাজুয়েটদের আনাগোনায়। আর অভ্যাগত অতিথিরা পরে ছিলেন কালোর সঙ্গে হরেক রঙ মিশিয়ে-কোনোটি নীল, কোনটি মেজেন্ডা কিংবা লাল। সব মিলিয়ে এক বর্ণিল গ্র্যাজুয়েশন। সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তা বহন করে এনেছিলেন তারই প্রশাসনিক কর্মকর্তা বব জে ন্যাশ। চিঠিতে সাবেক ইউএস প্রেসিডেন্ট ডব্লিউইউএসটির কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। ডব্লিউইউএসটি যেভাবে শিক্ষার সেবা দিয়ে যাচ্ছে এই সেবা যেন অব্যাহত থাকে তার আহবান জানান। আর গ্র্যাজুয়েটেড শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, "পরিবর্তনশীল পৃথিবীটাকে সঠিক পথ ধরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব এখন আপনাদের।" সমার্তন শুরু হয় বেলা ২টায়। তখন গাউনধারী শিক্ষার্থীরা গ্র্যাজুয়েশন প্যারেড করে নির্ধারিত আসনে বসেন। ওদিকে আগে থেকেই মঞ্চ ততক্ষণে ঝলমল গুরুত্বপূর্ণ সকল অতিথির উপস্থিতিতে। তাদের সঙ্গে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ, শিক্ষকরাও। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানের মূল পর্ব। এরপর মঞ্চে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপ। তুলে ধরেন তার জীবনের গল্প। সাফল্যের পথটি যে নয় মসৃণ। সেখানে কত থাকে উত্থান-পতনের গল্প-তা উপস্থাপন করেন প্রাঞ্জল ভাষায়।
আনুষ্ঠানিক সমার্বতন বক্তৃতায় তিনি গ্র্যাজুয়েটেড শিক্ষার্থীদের উদ্যেশ্যে বলেন, ‘জীবনের প্রকৃত যুদ্ধ এখান থেকেই শুরু, একটা দৃঢ়চেতা মন নিয়ে অব্যহত চেষ্টাই পারবে জীবনের অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে।’ সমাবর্তনে প্রধান অতিথি ও কি-নোট স্পিকার ছিলেন সাবেক ইউএস রিপ্রেজেন্টেটিভ জিম মোরান। তার উপদেশমূলক বক্তব্য মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শোনেন শিক্ষার্থী এবং অভ্যাগত অতিথিরা। নিয়মিতভাবে শারিরিক ব্যায়াম, প্রতিদিন নতুন কিছু শেখা, এবং নিজেকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার পরামর্শ রাখেন তিনি। গেস্ট স্পিকার ছিলেন ভার্জিনিয়ার স্টেট সিনেটর চ্যাপ পিটারসেন। মাস্টার্স সম্পন্ন করা গ্র্যাজুয়েটদের তাদের শিক্ষার আলো নানাভাবে সর্বত্র ছড়িয়ে দেবার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ডাইভার্সিটিই যুক্তরাষ্ট্রের সেরা সৌন্দর্য। একজন প্রথম বাংলাদেশি আমেরিকান হিসেবে আবুবকর হানিপ এখানে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলেছেন যা আমাদের গৌরবান্বিত করে-বলেন চ্যাপ পিটারসেন। ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলোজির গ্র্যাজুয়েটদের এবং চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপকে শুভেচ্ছা জানান ইউএস সিনেটের মেজোরিটি লিডার সিনেটর চ্যাক শ্যুমার। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে সকল সেক্টরেই রয়েছে শিক্ষার্থীদের সুযোগ, এই সুযোগকে কাজে লাগাতে এগিয়ে যেতে হবে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সেটা পারবে বলে আশা ব্যক্ত করেন সিনেটর চাক শ্যুমার। ভিডিও শুভেচ্ছা বার্তায় কংগ্রেসম্যান গ্যারি কনোলি ও কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং সফলভাবে উচ্চ শিক্ষাসম্পন্নকারিদেরকে যুক্তরাষ্ট্রের বৈচিত্রমন্ডিত সমাজ ব্যবস্থায় একাকার হয়ে নিজ নিজ মেধার সমন্বয় ঘটিয়ে চলমান উন্নয়ন-অভিযাত্রায় অবদান রাখার উদাত্ত আহবান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হয়ে এসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে স্বীয় ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত আরও অনেক বাংলাদেশি-আমেরিকান। যারা এই গ্র্যাজুয়েশন-কনভোকেশনে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। জর্জিয়ার ডেমোক্র্যাট স্টেট সিনেটর শেখ রহমান তুলে ধরেন তার জীবনে গল্প। একটি বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি তার জীবনটাকে কিভাবে বদলে দিয়েছে তা তুলে ধরেন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে। টেম্পল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল মেডিসিনের অধ্যাপক বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ তার বক্তব্যে তুলে আনেন কতগুলো ডিগ্রি তাকে নিতে হয়েছে তার বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে, নেতৃত্বের দিকে এগিয়ে নিতে। আইটি বিশেষজ্ঞ ও আইটি উদ্যোক্তা ড. ফয়সাল কাদির নব্য গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরেন পরবর্তী করণীয় দিকগুলো। প্রকৌশল-উদ্যোক্তা ও ফিলানথ্রপিস্ট, মোলি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি সৈয়দ জাকি হোসেন বলেন, অসীম সম্ভাবনার দেশ এই যুক্তরাষ্ট্র। শিক্ষার্থীদের সামনে রয়েছে অপার সুযোগ। এছাড়াও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ডব্লিউইউএসটির উপদেষ্টা মো: মিজানুর রহমান এবং মো: সিদ্দীক শেখ। ডব্লিউইউএসটির সিএফও ফারহানা হানিপ শিক্ষা-উদ্যোগে তার পারিবারিক ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে বলেন যে, ওয়াশিংটন ইউনিভর্সিট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির শিক্ষার্থীরা তাদের পরিবারকেই খুঁজে পাবে এই ক্যাম্পাসে। শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দুই ভ্যালেডিক্টরিয়ান স্কুল অব বিজনেসের কেলি ডি আলসেন্টারা এবং ইনফরমেশন টেকনোলজিতে মাস্টার্স সম্পন্ন করে সনদপ্রাপ্ত অফুনি এডা আগাডা। তারা তাদের এগিয়ে যাওয়ার উদ্দীপনার কথা তুলে ধরেন। যা তারা পেয়েছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টিদের কাছ থেকে। পরে একে একে শিক্ষার্থীদের মাঝে তাদের গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রির সনদ তুলে দেওয়া হয় বিপুল করতালির মধ্যে। প্রথমেই মঞ্চে আসে স্কুল অব আইটির গ্র্যাজুয়েটরা।
এই স্কুলের পরিচালক অধ্যাপক ড. পল এপোস্টোলস আগাসপোলস শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ তুলে দেন। আর স্কুল অব বিজনেসের গ্র্যাজুয়েটদের সনদ দেন এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মার্ক রবিনসন। শিক্ষার্থীরা সনদ নিয়ে ছবি তোলার সুযোগ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপ ও প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কারাবার্কের সঙ্গে। পরে সনদ হাতে শিক্ষার্থীরা নিজ আসনে বসলে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রিপ্রাপ্ত হিসেবে ঘোষণা করেন ড. হাসান কারাবার্ক। শিক্ষার্থীরা তাদের গ্র্যাজুয়েশন হ্যাটে ট্যাসলটি ডান দিক থেকে বাম দিকে সরিয়ে দিয়ে গ্র্যাজুয়েশন রিচুয়াল শেষ করে। আর এর পরপরই সেই অনন্য দৃশ্য। শিক্ষার্থীরা তাদের হ্যাট খুলে ছুঁড়ে মারে উপরে আর মেতে ওঠে আনন্দ উদযাপনে। যা শেষ হয় ফটো সেশনের মধ্য দিয়ে। সনদ বিতরণ শেষে অভ্যাগত অতিথিরা যোগ দেন কনভোকেশন ডিনারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. জাফর পিরিম, ড. শ্যান চো, অ্যাসোসিয়েট ডাইরেক্টর ড. হুয়ান লি ছাড়াও শিক্ষকদের অনেকেই অংশ নেন এই কনভোকেশনে। মাস্টার অব দ্য সিরিমনি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা র্যাচেল রোজ। উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০২১ সাল থেকে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সফল বাংলাদেশি উদ্যোক্তা ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপের ব্যবস্থাপনা ও নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি আমেরিকানের হাতে পরিচালিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ একটি বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে তথ্য-প্রযুক্তি, সাইবার সিকিউরিটি ও এমবিএ- বিবিএ কোর্সে বর্তমানে বিশ্বের ১২১ দেশের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে।
বর্ণিল আয়োজনে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির সমাবর্তন
প্রকাশিত: ০৭ মার্চ, ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম
প্রবাস রিলেটেড নিউজ
GOVERNOR HOCHUL ANNOUNCES START OF CONSTRUCTION ON $24 MILLION AFFORDABLE HOUSING DEVELOPMENT IN SENECA FALLS
Bangladesh seeks ASEAN’s support to become its Sectoral Dialogue Partner
বাইডেন-ট্রাম্প বিতর্কে কে কত মিথ্যা বললেন
লাও গণপ্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতির নিকট পরিচয়পত্র পেশ করলেন রাষ্ট্রদূত লুৎফর রহমান
ঢাকা জেলা এসোসিয়েশন ইউএসএ ইঙ্ক এর নতুন কমিটি : দুলাল বেহেদু সভাপতি ও কাজি আমিনুল ইসলাম স্বপন সাধারণ সম্পাদক
নৃত্যশিল্পী নারমিন রহমানের জানাযা সম্পন্ন : আজ দাফন
A M M Newaj Sharif: The Bangladeshi Bass Maestro in New York
ছড়াটে-র আয়োজনে নিউইয়র্কে রিটনময় সন্ধ্যা
