মায়ানমারে গৃহযুদ্ধ থামাতে ব্যাংককে শান্তি বৈঠক, সমঝোতার পক্ষে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো
মায়ানমারের সংঘাত নিরসনে ব্যাংককে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে। সশস্ত্র পথ ছেড়ে রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে সম্মত হয়েছে অভ্যুত্থানবিরোধীরা।

মায়ানমারের দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বহুপক্ষীয় শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে। ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী আউং সান সু চির সমর্থক ‘ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্মেন্ট’ (এনইউজি)-এর নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক মোর্চা ‘স্টিয়ারিং কাউন্সিল ফর দ্য এমার্জেন্স অফ আ ফেডারেল ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন’ (এসসিইএফ) এবং বিভিন্ন সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন এতে অংশ নিয়েছে। প্রথম দফার আলাপ-আলোচনা ইতিবাচকভাবে অগ্রসর হচ্ছে।
থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইনের মধ্যস্থতায় আয়োজিত এই বৈঠকের নেপথ্যে সম্মতি ছিল মায়ানমারের সামরিক জান্তা প্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের। জুলাই মাসে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের প্রাথমিক বৈঠকের পর চলতি সপ্তাহের শুরুতে পুনরায় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন, কাচিন ইন্ডিপেনডেন্স অর্গানাইজেশন, চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট ও কারেনি ন্যাশনাল প্রোগ্রেসিভ পার্টির প্রতিনিধিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে সামরিক শাসন উৎখাতের একমুখী লক্ষ্য থেকে কিছুটা সরে এসে আলোচনার মাধ্যমে শাসনের বিকেন্দ্রীকরণ ও সর্বজনীন প্রতিনিধিত্ব সুনিশ্চিত করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে বিদ্রোহী মোর্চা। রাজনৈতিক পথেই সমাধানের বার্তা দিয়ে বুধবার তাদের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। পরবর্তী দফার আলোচনায় যোগ দিতে বৃহস্পতিবার ব্যাংকক গিয়েছেন জুন্টা প্রধান হ্লাইং নিজেই।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মায়ানমারে রক্তক্ষয়ী অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে ১ লক্ষেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে আরাকান আর্মি, টিএনএলএ এবং এমএনডিএএ মিলে ‘অপারেশন ১০২৭’ নামে বড় আক্রমণ শুরু করেছিল। পরবর্তীতে চীনের হস্তক্ষেপে কিছু বিদ্রোহী দলের সঙ্গে জান্তা সরকারের সাময়িক সংঘর্ষবিরতি চুক্তি হয়।
