কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ভাইরাসের জিনোম তৈরি: চিকিৎসায় নতুন আশা ও সুরক্ষার উদ্বেগ

প্রযুক্তি ৭ আগস্ট ২০২৬ ২৯৯৮

এআই ব্যবহার করে প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ ব্যাকটেরিওফেজ ভাইরাসের নকশা তৈরি করেছেন বিজ্ঞানীরা। চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি এ প্রযুক্তি জৈব নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ভাইরাসের জিনোম তৈরি: চিকিৎসায় নতুন আশা ও সুরক্ষার উদ্বেগ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কাজে লাগিয়ে প্রথমবারের মতো একটি পূর্ণাঙ্গ ভাইরাসের জিনগত নকশা তৈরি করেছেন একদল বিজ্ঞানী। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই ঘটনাকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে ধরা হলেও, প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ফলে জৈব নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

গবেষণায় প্রস্তুত করা এই ভাইরাসগুলো মূলত ‘ব্যাকটেরিওফেজ’, যা বিশেষভাবে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির কেমিক্যাল প্রকৌশলী ডক্টর ব্রায়ান হাইয়ের নেতৃত্বে গবেষক দল এআই মডেলের সাহায্যে এই নকশা তৈরি করেন। এআই মডেলটি চ্যাটবটে ব্যবহৃত লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের আদলে জিনোমের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা হয়েছে।

গবেষক দল ‘ইভো-১’ ও ‘ইভো-২’ নামের দুটি এআই মডেলকে প্রশিক্ষণ দিতে প্রায় ২০ লাখ ব্যাকটেরিওফেজের জিনগত তথ্য ব্যবহার করেন। বিপজ্জনক ঝুঁকি এড়াতে মানুষ, উদ্ভিদ কিংবা অন্য প্রাণীকে আক্রমণ করে এমন কোনো ভাইরাসের তথ্য এতে যুক্ত করা হয়নি। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এআই হাজার হাজার বিকল্প তৈরি করার পর গবেষকরা পরীক্ষাগারে তৈরির জন্য ৩০০টি বেছে নেন। পরে ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে সেই কৃত্রিম জিনোম প্রবেশ করালে প্রাকৃতিকভাবেই তৈরি হয় নতুন ব্যাকটেরিওফেজ। যদিও ৩০০টির মধ্যে মাত্র ১৬টি কার্যকর ছিল, তবে এদের সংমিশ্রণ সাধারণ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভেঙে ক্ষতিকর ‘ই-কোলাই’ ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে সমর্থ হয়।

এই গবেষণার ফলে ফেইজ থেরাপি এবং বায়োটেকনোলজির পরিসর বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা। তবে একই সাথে তারা সতর্ক করেছেন যে, জেনারেটিভ এআই দিয়ে রোগজীবাণুর জিনোম তৈরি সহজ হলেও এটি নিয়ন্ত্রণে এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট আইনি নীতিমালা নেই।

বাল্টিমোরের জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর হেলথ সিকিউরিটির অধ্যাপক টম ইঙ্গলসবি ও ডক্টর মরিৎস হাঙ্কে এ ধরনের প্রযুক্তিতে বায়ো-সিকিউরিটির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। তারা মানুষ বা প্রাণীদের ক্ষতি করতে পারে এমন কোনো প্যাথোজেন নিয়ে গবেষণা না করার তাগিদ দিয়েছেন। অন্যদিকে ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক টম এলিস মনে করেন, এআই এখনো খুব সহজ এবং ছোট আকারের জিনোম তৈরি করতে পেরেছে, তবে ক্ষতিকর ডেটা দিয়ে প্রশিক্ষণ দিলে বড় বিপদের ঝুঁকি থেকে যায়। এই আশঙ্কা কমাতে জিনগত উপাত্ত নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষতিকর নকশা তৈরির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন