মশিউর আনন্দ: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপানে তাঁর সরকারি সফরের প্রথম দিনে জাপানের মহামহিম সম্রাট নারুহিত্যের সাথে সম্রাটের বাসভবন ইম্পেরিয়াল প্যালেসে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। মহামহিম সম্রাট মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে জাপানে স্বাগত জানান এবং দুইদেশের সম্পর্ক আরো গভীরতর হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই সৌজন্য সাক্ষাতের জন্য জাপানের সম্রাটকে ধন্যবাদ জানান।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-কে গার্ড অব অনার দিয়ে নিজ কার্যালয়ে অভ্যর্থনা জানান। এরপর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের সরকার প্রধানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠকে মাননীয় কৃষি মন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা, বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রীসহ উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক কৌশলগত অংশিদারিত্বে উন্নীত হয়েছে যা আগামী পঞ্চাশ বছরের।দু'দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের রূপরেখা হিসেবে বিবেচিত হবে। এই বৈঠকে দুইদেশের মধ্যে দ্রুততম সময়ে ইকোনোমিক পার্টনারশিপ চুক্তি সম্পন্ন, বিগ-বি প্রকল্পের মাধ্যমে আঞ্চলিক যোগাযোগ জোরদারকরণ, অর্থনৈতিক অবকাঠামোর উন্নয়ন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, জাপান ওভারসীজ কোঅপারেশন ভলান্টিয়ার প্রকল্প পুনরায় চালুকরণ, বাণিজ্য, বাংলাদেশের বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলে জাপানি বিনিয়োগ, মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক, ঢাকা-টোকিও সরাসরি বিমান চলাচল, ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হয়। এছাড়াও, জাপান সরকার বাংলাদেশকে বাজেট সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের সহযোগিতার জন্য জাপান পক্ষকে ধন্যবাদ জানান এবং দ্রুত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য জাপানের সহযোগিতা আশা করেন। বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্কের এই সূচনালগ্নে উভয় দেশের মধ্যে কৃষি, মেট্রোরেল, ইন্ডাস্ট্রিয়াল আপ গ্রেডেশন, শিপ রিসাইক্লিং, কাস্টমস ম্যাটারস, ইণ্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি, ডিফেন্স কোঅপারেশন, আইসিটি এবং সাইবার সিকিউরিটি কো-অপারেশন ইত্যাদি সেক্টরে মোট ৮ টি চুক্তি ও সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। পরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে আয়োজিত নৈশভোজের মাধ্যমে শীর্ষ বৈঠকের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।

এছাড়াও, সকালে জাপান বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল এন্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন (জেবিসিসিইসি) এর চেয়ারম্যান জনাব ফুমিও কোকুবু, জাইকার প্রেসিডেন্ট জনাব তানাকা আকিহিকো, জেটরোর চেয়ারম্যান ও সিইও জনাব ইশিগুরো নরিহিকো এবং জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লীগ (জেবিপিএফএল) এর প্রেসিডেন্ট জনাব তারো আসো এবং বিকালে পানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ইয়োশিমাসা হায়াশি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন আকাসাকা প্যালেসে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং দ্বি-পাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেন।

বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কৌশলগত অংশীদারিত্বে (Strategic Partnership) আগামীর রূপরেখা প্রণয়নকল্পে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি কৃষি, নবায়নযোগ্য জ্বালানী, সুনীল অর্থনীতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, তথ্য প্রযুক্তি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা, কর্মসংস্থান ও জন-যোগাযোগ ইত্যাদি ক্ষেত্রে নতুন ভাবে সহযোগিতা স্থাপনের মধ্যে দিয়ে দু'দেশই লাভবান হবে বলে আশা করা যায়।