নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে আজ (শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) যথাযোগ্য মর্যাদায় “মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬” উদযাপিত হয়। এসময় বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন পেশাজীবি, সাংবাদিক, নতুন প্রজন্ম ও কমিউনিটি সদস্যসহ অতিথি উপস্থিত ছিলেন।  দিবসটি উপলক্ষ্যে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত বাণী পাঠ করা হয়। অনুষ্ঠানে ৫২'র সকল ভাষা শহীদ, ৭১-এর সকল শহীদ ও ২০২৪ এর জুলাই-আগষ্টে সকল শহীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। তাঁদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এবং দেশের অব্যাহত শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।  কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক তাঁর স্বাগত বক্তব্যে “মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস- ২০২৬” এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মূলত: ৫২'র ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের ভিত্তি প্রোথিত হয় যা পূর্ণতা পায় মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। তিনি ৫২'র মহান ভাষা শহিদ সালাম, রফিক, জব্বার, বরকত, শফিউরসহ সকল ভাষা শহীদ, ৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধে সকল শহীদ, শহীদ বুদ্ধিজীবী এবং শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ২০২৪ এর জুলাই-আগষ্ট বিপ্লবে সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন যে একজন ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক, মানসিক, সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক দক্ষতার সঠিক চর্চা তার মাতৃভাষার মাধ্যমে বিকশিত হয়। তাই নিজের মাতৃভাষা লেখা ও ব্যবহার করার অধিকার প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য অপরিহার্য।

২১শে ফেব্রুয়ারি এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মূল চেতনা হল পৃথিবীর সকল ভাষা ও সংস্কৃতির নিজস্বতা রক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করা মর্মে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ২১শে ফেব্রুয়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে, যা জাতি হিসেবে আমাদেরকে গৌরবান্বিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী ভাই-বোনেরা আমাদের মাতৃভাষা বাংলার চর্চা এবং প্রসারে, বিশেষতঃ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে, যে চমৎকার ভূমিকা পালন করছেন, তিনি তার ভূয়সী প্রশংসা করেন।  কনসাল জেনারেল আরো বলেন যে, ১২ ই ফেব্রুয়ারীর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হয়। তিনি দৃঢ়ভাবে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নবনির্বাচিত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান-এর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বৰ্তমান সরকার ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি মানুষের ভাষা ভিত্তিক অধিকার সমুন্নত রাখবে এবং সকল ভাষার মর্যাদা রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।  উন্মুক্ত আলোচনায় নিউইয়র্কস্থ বীরমুক্তিযোদ্ধাগণ এবং কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।  অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদেরকে ইফতার পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।