‘৩২ নম্বর’ কেনো এতো শক্তিধর'....কাওসার চৌধুরী

সুপ্রিয় বন্ধুগণ,
১৫ আগস্টে নিবন্ধটি ছাপানোর কথা ছিল একটি প্রথম শ্রেণীর পত্রিকায়। তারা ছাপেনি। এর কারন এবং তারপরের ঘটনা পরম্পরা নিয়ে কথা বলে কলেবর খরচ করা ঠিক হবেনা। এখন ওসবে না গিয়ে বরং নিবন্ধটি আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাটাই উত্তম বলে মনে করছি। অবশ্য আমার কোন লেখা কাগজে প্রকাশিত হোক বা না হোক সেটা বরাবরই তো ফেসবুকে দিয়ে থাকি আপনাদের জন্য। আজও সেটাই করেছি। -কাওসার চৌধুরী, ১৯ আগস্ট। ২০২৬, ঢাকা, বাংলাদেশ।
নিবন্ধঃ
এই নিবন্ধটি লিখতে গিয়ে আজ বারবার মনে পড়ছে; চলতি বছরের ২৩ জুন- ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগে’র ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সারাদেশে সতর্কাবস্থা জারির কথা। নাশকতার শংকায় ওইদিন ছয় জেলায় সেনাবাহিনী ও পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েনসহ কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছিল সরকার। ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত ছিল আঠারো হাজার অতিরিক্ত পুলিশ। ‘প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী’ ঘিরে আওয়ামী লীগের তৎপরতা ঠেকাতে সারাদেশে তৎপর ছিল বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-সহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন (সমকাল, ২৪ জুন, ২০২৬)।
লক্ষ্যনীয়, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ছিল আওয়ামী লীগের। সেটা প্রতিহত করার জন্য সরকার কঠোর ব্য্যবস্থা নিয়েছে, এই পর্যন্ত ‘রাজনৈতিক-হিসেব’ ঠিক আছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সেদিন উল্লেখিত ওই রাজনৈতিক দলগুলোকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে সমাবেশ করতে হলো কেনো, তাও সাত সকালে! জঙ্গলাকীর্ণ, বিলুপ্তপ্রায় ‘ইট-সিমেন্টে’র এই বাড়িটিতে কী এমন অবশিষ্ট আছে- যা এই রাজনৈতিক দলগুলোকে শংকিত করে তুলেছে!
৫ আগস্ট ২০২৪-এ, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িটি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘোষণা দিয়ে, ২০২৫-এর ৫-৬ ফেব্রুয়ারি বাড়িটির দুই তৃতীয়াংশ ভেঙ্গে দেয়া হয় বুল ডোজার এবং এক্সকাভেটর দিয়ে। তারও পরে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই বাড়িটি পুনরায় ভাঙ্গা হয়। ফলে ‘ইট সিমেন্টের’ এই বাড়িটির তেমন কিছুই আর অবশিষ্ট নেই, গোটা দুই তিনেক দেয়াল ছাড়া।
এই ভাঙ্গাভাঙ্গি এবং আগুন দেয়ার কাজটি কারা করেছে, কেন করেছে- সে সম্পর্কে দেশবাসীসহ বিশ্বের সংশ্লিষ্ট অংশ অবগত আছে। ওসব কারন এবং ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ লিখে কলেবর অপচয় করবো না। বরং, ভগ্নপ্রায় এই বাড়িটির অন্তর্নিহিত শক্তির দিকেই নজর দেয়াটা হবে যৌক্তিক কাজ।
মজার বিষয়; রাজউকের নথি অনুযায়ী আলোচিত এই বাড়িটির প্লট নম্বর কিন্তু ৬৭৭। ‘৩২’ হলো সড়ক নম্বর। কিন্তু দেশে-বিদেশে এই বাড়িটিকে সবাই ’৩২ নম্বর বাড়ি’ হিসেবেই চেনে-জানে। এক সময় শ্রমজীবী মানুষের কাছে ওটা ছিল ‘শেখের বাড়ি’; মধ্যবিত্তরা বলতো ‘শেখ সাহেবের বাড়ি’। প্রকৃতপক্ষে ওটা ছিল আসলে পূর্ব বাংলার সাড়ে সাত কোটি মানুষের বাড়ি; তাদের স্বপ্ন এবং আস্থার প্রতীক, শেষ আশ্রয়স্থল।
১৯৬১ সালে বাড়িটিতে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস শুরু করেন শেখ মুজিবুর রহমান। বাড়িটি শেখ মুজিবের নামে নথিবদ্ধ হলেও সংসারটি কিন্তু পরিচালনা করতেন তাঁর সহধর্মীনি বেগম ফজিলাতুন নেসা মুজিব। কারন, ৫৫ বছরের সংক্ষিপ্ত জীবনে বঙ্গবন্ধু প্রায় ১৩ বছরই কাটিয়েছেন পাকিস্তানিদের কারাগারে। জীবনের বাকী সময়টা তিনি ব্যয় করেছেন বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, পাকিস্তানি শোষণ নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাঙ্গালিকে ঐক্যবদ্ধ করে লড়াই সংগ্রাম করার পেছনে। এতকিছুর মধ্যে ‘সংসার’ করার মতো ফুরসত উনার ছিল কোথায় বলুন!
১৯৪৭-এ ভারত বিভক্ত হয়ে জন্ম নিল দ্বিজাতি-ভিত্তিক রাষ্ট্র পাকিস্তান। আর ’৪৮-এর ১১ মার্চেই শুরু হয় শেখ মুজিবের জীবনের ‘কারাবাস’ পর্ব। পাকিস্তানের ২৩ বছর শাসনকালে শেখ মুজিব সর্বমোট ৪,৬৮২ দিন বা প্রায় ১৩ বছর পাকিস্তানিদের কারাগারে অন্তরীণ ছিলেন। তাঁর দীর্ঘ এই কারাভোগ কিন্তু একটি তাৎপর্যপূর্ণ (significant) বিষয়।
দীর্ঘ সময় ধরে শেখ মুজিবের ‘পৌণঃপুনিক’ এই কারাভোগ- নীতি আদর্শের প্রতি তাঁর আনুগত্য, দাবীর প্রশ্নে আপোষহীনতা, জাতির লক্ষ্য অর্জনে তাঁর নেতৃত্বের দৃঢতাকেই নির্দেশ করে। নির্দেশ করে তাঁর দেশ-প্রেমের হিমালয়সম উচ্চতা। চাইলে তো তিনি পারতেন, পাকিস্তানিদের সাথে আপোষ করে নিজের পরিবারকে পাকিস্তানের চরম সুবিধাভোগী ’২২ পরিবারে’র স্থলে ‘২৩ নম্বর পরিবারে’ পরিনত করতে। সেটা তো তিনি করেন নি।
পূর্ব বাঙলার সাড়ে সাত কোটি মানুষের আস্থা শেখ মুজিব অর্জন করতে পেরেছিলেন নিজের সততা এবং জীবনের সকল কর্মকাণ্ড দিয়ে। ছয় দফা প্রণয়নের পরে পূর্ব বাংলার মানুষ স্বপ্ন দেখতে শুরু করে- স্বাধীকার ও স্বাধীনতার। সেই স্বাধীকার আন্দোলনে তাদের নেতৃত্বের ভার বাঙালি অর্পন করে শেখ মুজিবের হাতে। মুজিব হয়ে উঠেন এই জনপদের অবিসংবাদিত নেতা, বাঙলার মানুষের আপনজন- ‘বঙ্গবন্ধু’।
সেই থেকে, তাঁর বসত বাড়িটিও হয়ে উঠে বাঙলার মানুষের আপন ঠিকানা, আশা আকাঙ্ক্ষা এবং স্বপ্ন বাস্তবায়নে নির্ভরতার প্রতীক। ১৯৬১ সালের পরে ধানমন্ডির ৬৭৭ নম্বর প্লটের বাড়িটি কখন কোন ফাঁকে ‘৩২ নম্বর বাড়ি’ হয়ে উঠলো তা খুঁজে বার করা কঠিন। তবে, ‘৩২ নম্বরের’ সকল শক্তি আসলে মুজিবের প্রতি বাঙলার মানুষের আস্থা, তাদের আশা আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সম্মিলিত লড়াই সংগ্রামের মধ্যেই নিহিত।
উনসত্তরের গণ অভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচনে বাঙালি এই বাড়িটির দিকেই তাকিয়ে থেকেছে; অপেক্ষা করেছে একটি অঙ্গুলির নির্দেশনার। একাত্তরে অসহযোগ, ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর বিশ্বখ্যাত ভাষণের আগে- পরে স্বাধীনতার প্রত্যয়ে উদ্বেলিত বাঙালি- ‘৩২ নম্বরে’র এই বাড়িটি ঘিরেই অবস্থান নেয় সশরীরে। ৩২ নম্বরের সেই বাড়িটি হয়ে উঠলো কাংঙ্ক্ষিত স্বাধীন বাংলার বাতিঘর। উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধের অব্যবহিত পূর্বে এই বাড়িতেই ‘আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের পতাকা’ উত্তোলন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু এই বাড়ি থেকেই স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রদান করেন। মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় দলের নেতা-কর্মীদের পরিকল্পনা এবং নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি এখান থেকেই। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট এ বাড়িতেই বঙ্গবন্ধু সপরিবারে প্রাণ হারান বিপথগামী কিছু সেনা সদস্য আর ষড়যন্ত্রকারিদের হাতে।
হত্যাকাণ্ডের পরে বাড়িটি সামরিক সরকার অধিগ্রহণ করে। পরে, ’৮১ সালের ১২ জুন বঙ্গবন্ধুর জীবিত কন্যাদ্বয় তাদের পৈত্রিক এই বাড়িটি ফিরে পান। ১৯৯৪-এর ১৪ আগস্ট এই বাড়িটিতেই তাঁরা প্রতিষ্ঠা করেন ‘বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর’। একইসঙ্গে বাড়িটি হস্তান্তর করা হয় ‘বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টে’র কাছে। পরবর্তীকালে জাদুঘরটির নতুন নাম হয়- ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর’। আইনগতভাবে বাড়িটি এখন এই জাদুঘরের মালীকানাধীন।
২০২৪-এর ৫ আগস্ট এ বাড়িতে আগুন দেয়ার পর পুড়ে গেছে বঙ্গবন্ধুর দৃশ্যমান সকল স্মৃতিচিহ্ন। পুড়ে গেছে আদালতে প্রদর্শিত বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সকল নথিপত্র, দলিলাদি। ২০২৫-এর ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারিতে বুলডোজার দিয়ে ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে সেই দেয়ালগুলো- যেখানে রক্ষিত ছিল পঁচাত্তরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের রক্তের দাগ, ছিটকে পড়া মাথার মগজের টুকরো এবং অন্যান্য স্মৃতিচিহ্ন, আলামত।
’৩২ নম্বর’ আক্রান্ত হওয়ার পর দেশের সর্বস্তরের মানুষ নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। কিন্তু কারো পক্ষে এই বাড়িটি রক্ষায় কিংবা আক্রমণ প্রতিরোধে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। প্রথমত আইনী বাধা, দ্বিতীয়ত ‘মব’-এর উন্মত্ততার কারনে। অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের ১২ মে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সকল অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
বাড়িটি যখন বুল ডোজার এবং এক্সকাভেটর দিয়ে ভাঙ্গা হচ্ছিল তখন একজন মধ্য বয়সী নারীকে শারিরীকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় ‘জয় বাংলা’ কিংবা বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণের ‘অজুহাতে’! সারা রাত মবের দখলে থাকে ৩২ নম্বর।
পরদিন সকালে ৩২-এর আশেপাশের রাস্তাগুলো পর্যন্ত দখলে নেয় ‘মব’। সেখানে কাওকে ‘আওয়ামী লোক’ বলে সন্দেহ হলে; এমন কি কাওকে কালো জামা পরা দেখলেই তাকে মারধর করা হয় নির্মমভাবে। কাওকে কাওকে বিবস্ত্র করে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়।
৩২ নম্বরের পাশের রাস্তা থেকেও ‘সন্দেহজনক’ মানুষদের ধরে বেদম প্রহার করে আটকে রাখা হয়। পরে সেনা সদস্যরা গিয়ে ওখান থেকে কয়েকজনকে উদ্ধার করে। কিন্তু ওই নির্যাতিতদের একজনকে মুমুর্ষ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই তিনি মৃত্যু বরণ করে।
এই রকম একটি অবস্থায় কারো পক্ষে আর ’৩২ নম্বর’ রক্ষায় কিংবা ওখানে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য শারিরীকভাবে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।
এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে ন্যাক্কারজনক এবং নিন্দনীয় কাজটি করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস। ৩২ নম্বরে ‘মবে’র উন্মত্ত্বতা এবং তাণ্ডব চলাকালে তিনি ছিলেন ‘নিরব দর্শকে’র ভূমিকায়! ঘটনা ঘটে যাওয়ার কয়েক দিন পরে তিনি একটি বিবৃতিতে জানান- “পুলিশ, ভয়ে ঘটনাস্থলে যেতে সাহস পায়নি”-সে জন্য মবের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া যায়নি! হাস্যকর। পুলিশ ছাড়া কি দেশে আর কোন বাহিনী নেই আইন শৃংখলা রক্ষার জন্য!
৩২ নম্বরে উন্মত্ততা চলাকালে, ঘটনাস্থলের দুই দিকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তারাও ছিলেন নিরব দর্শক! তারা কি ‘মব’কে নিরাপত্তা দেবার জন্যই গিয়েছিলেন নাকি শুধুমাত্র নিজেদের উপস্থিতি জানান দেবার জন্যই গিয়েছিলেন ওখানে, সেটা অবশ্য বোঝা যায়নি।
উল্লেখ্য, নিবন্ধের শুরুতে বর্ণিত ‘শংকিত রাজনৈতিক দল’গুলো কী তাহলে সম্পূর্ণভাবে মুছে দিতে চায় স্বাধীনতার ইতিহাসের উত্থান পর্ব! হায়…।
বুল ডোজার দিয়ে বাড়ি ভেঙ্গে দেয়া যায় বটে, কিন্তু ইতিহাস কী মুছে ফেলা যায় মানুষের হৃদয় থেকে? মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, স্বাধীনতার ইতিহাস বাড়ির দেয়ালে নয়, মানুষের হৃদয়ে লেখা আছে।
যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা উচ্চারিত হবে হাজার বার। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি, বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা, তিনি জাতির পিতা। তিনি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি; এটা সবাই মানেন।
দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব, সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও গণতন্ত্রের অন্তর্ভুক্তি তাঁর অন্যতম অবদান। স্মর্তব্য, পাকিস্তান ছিল ধর্মভিত্তিক একটি সাম্প্রদায়িক রাষ্ট। বাহাত্তরের সংবিধানে ‘ধর্ম নিরপেক্ষতা’র অন্তর্ভূক্তি ছিল পাকিস্তানি সাম্প্রদায়িক পশ্চাৎপদ ধারণার বিপরীতে দেশকে উদার রাজনীতির পথে পরিচালনার এক মহতী উদ্যোগ।
তিনিই বাঙালিকে আত্ম-পরিচয়, আত্ম-মর্যাদা এবং বীরত্বের গৌরব নিয়ে এগিয়ে যাবার মন্ত্র আর সাহস যুগিয়েছিলেন পাকিস্তানের ২৩ বছরে। তাই বঙ্গবন্ধু আজো বাঙলার মানুষের হৃদয়ে সম্মানের আসনে সমুজ্জল, তিনি আজো জোরালোভাবে প্রাসঙ্গিক। বাংলাদেশের মানুষের নিত্য দিনের জীবনে, রাজনৈতিক জীবনে তিনি থাকবেন শ্রদ্ধা ভালোবাসা আর সম্মানের চুড়ায় সমাসীন।
কবি অন্নদাশংকর রায় লিখেছিলেন- ‘যতদিন রবে পদ্মা যমুনা গৌরী মেঘনা বহমান/ ততদিন রবে কীর্তি তোমার, শেখ মুজিবুর রহমান! দিকে দিকে আজও অশ্রুগঙ্গা রক্তগঙ্গা বহমান/ তবু নাই ভয়, হবে হবে জয়, জয় মুজিবুর রহমান!’
----------
ছবিতে দেখুন

