বিশ্বশান্তি ও অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় মহানবির কালজয়ী বার্তা

মতামত ৮ আগস্ট ২০২৬ ৩১০৯

সংঘাত ও বৈষম্যময় বিশ্বব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী শান্তি আনয়নে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রদর্শিত সম্প্রীতি, সুবিবেচনা ও পরমতসহিষ্ণুতার শিক্ষা অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশ্বশান্তি ও অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় মহানবির কালজয়ী বার্তা

বর্তমান পৃথিবী প্রতিনিয়ত নানা সামাজিক অস্থিরতা, ধর্মীয় বিদ্বেষ ও প্রাকৃতিক দূর্যোগের মুখোমুখি হচ্ছে। সম্প্রতি ইউরোপের ফ্রান্স ও স্পেনে নজিরবিহীন তাপদাহের পর দাবানল ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে বহু গ্রাম ধ্বংস হয় এবং লাখ লাখ লোক আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে। পার্থিব নানা পদক্ষেপ সত্ত্বেও বিশ্বজুড়ে দুঃখ-কষ্ট ও সংঘাত দিন দিন কেবল বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলো বৈষম্য ও দারিদ্র্যের টেকসই কোনো সমাধান বের করতে পারছে না। আন্তর্জাতিক সংস্থায় কেবল ক্ষোভ প্রকাশ করে এই অস্থিরতা দূর করা সম্ভব নয়। ইসলাম শান্তি ও ন্যায়বিচারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে। মহানবি হজরত মুহাম্মদ (সা.) স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রথমেই হৃদয় থেকে হিংসা ও বিদ্বেষ দূর করা জরুরি। পবিত্র কোরআনের সুরা আর-রাদের ২৮ নম্বর আয়াতেও মন ও আত্মার প্রশান্তির জন্য সৃষ্টিকর্তার স্মরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

মহানবি (সা.) নিজ জীবনের আচরণ দিয়ে অসাম্প্রদায়িকতা ও সৌহার্দ্যের বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। ৬২৮ খ্রিষ্টাব্দে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের জন্য তিনি একটি ঐতিহাসিক আদেশনামা জারি করেন। সেখানে সব খ্রিষ্টান নাগরিকের প্রাণ, সম্পত্তি ও ধর্মীয় স্বাধীনতার পূর্ণ সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এতে উল্লেখ ছিল, তাদের উপাসনালয় নষ্ট বা দখল করা যাবে না, যাজক বা বিচারকদের পদচ্যুত করা যাবে না এবং তাদের ওপর কোনো জোরজুলুম চালানো যাবে না।

ঐতিহাসিক সেই সনদে আরও বলা হয়েছিল, মুসলিম পুরুষের সঙ্গে বিবাহিত খ্রিষ্টান নারীদের নিজ ধর্মাচরণে কোনো বাধা দেওয়া যাবে না এবং কিয়ামত পর্যন্ত এই চুক্তি বলবৎ থাকবে। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুমহান আদর্শ, সত্যবাদিতা এবং ধর্মীয় সহনশীলতার নীতি বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন