লং আইল্যান্ডে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো “ইউএসএ ৯৭-৯৯ পিকনিক ২০২৬”
পুরোনো বন্ধুদের মিলনমেলা, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নানা আয়োজনে দিনভর উৎসব

গত ১১ আগস্ট লং আইল্যান্ডের সানকেন মেডো স্টেট পার্কে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশে ১৯৯৭ সালে এসএসসি এবং ১৯৯৯ সালে এইচএসসি পাস করা বন্ধুদের নিয়ে গড়ে ওঠা সংগঠন “ইউএসএ ৯৭-৯৯”-এর ৮ম বার্ষিক পিকনিক।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে সংগঠনের সদস্যরা পরিবার-পরিজন নিয়ে এ পিকনিকে অংশগ্রহণ করেন। নারী, পুরুষ ও শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল প্রাণচাঞ্চল্য, আনন্দ ও উৎসবের আমেজ। এবারের পিকনিকে দেড় শতাধিক বন্ধু ও তাদের পরিবারের সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
সংগঠনের অ্যাডমিন জামিল সরোয়ার-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে পিকনিক কো-অর্ডিনেটর সোনিয়া হক চলতি বছর বাংলাদেশ ও প্রবাসে মৃত্যুবরণকারী ইউএসএ ৯৭-৯৯-এর বন্ধুদের স্মরণে এবং অসুস্থ গ্রুপ সদস্য ও তাদের পরিবারের জন্য বিশেষ দোয়ার আয়োজন করেন।
গ্রুপের অ্যাডমিন সামস শাহরিয়ার তার বক্তব্যে সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই সদস্যদের প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন বন্ধুদের চাকরির তথ্য ও কর্মসংস্থানে সহযোগিতা, বিভিন্ন সামাজিক ও গ্রুপভিত্তিক অনুষ্ঠান আয়োজন এবং অসুস্থ বন্ধুদের আর্থিক ও মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে ইউএসএ ৯৭-৯৯। ভবিষ্যতেও এসব কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সকলের মধ্যে সুসম্পর্ক ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সংগঠনের অ্যাডমিন জামিল সরোয়ার বলেন, বাংলাদেশ কিংবা প্রবাসে কোনো বন্ধু অসুস্থ হয়ে আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন হলে সংগঠনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশে শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সংগঠনটি নিয়মিতভাবে অংশগ্রহণ করে আসছে।
পিকনিককে ঘিরে ছিল নানা ধরনের দেশীয় খাবারের আয়োজন, খেলাধুলা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণ, লটারি ড্র ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শিশু থেকে শুরু করে নারী ও পুরুষ—সবাই বিভিন্ন খেলাধুলা ও প্রতিযোগিতায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফেসবুকভিত্তিক একটি ছোট্ট গ্রুপ হিসেবে যাত্রা শুরু করে ইউএসএ ৯৭-৯৯। মাত্র ১০ জন সদস্য নিয়ে শুরু হওয়া এই সংগঠন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে থাকা প্রায় পাঁচ শতাধিক সদস্যের একটি বৃহৎ ও বন্ধুত্বপূর্ণ নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সংগঠনটির সামাজিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ কার্যক্রমও আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
পিকনিকে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহর থেকে বন্ধুদের আগমনে পুরো আয়োজন পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়। দীর্ঘদিন পর পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা, আড্ডা, স্মৃতিচারণ এবং নতুন প্রজন্মের সদস্যদের সঙ্গে পরিচয়ের মধ্য দিয়ে তৈরি হয় সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্বের এক অনন্য বন্ধন।
এ বছরের পিকনিক পরিচালনা কমিটিতে ছিলেন সোনিয়া হক, ওমর জুন্না, খন্দকার সুমন ও ফেরদৌসী নিলু। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, সমন্বয় ও আন্তরিকতায় পুরো আয়োজনটি আরও সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়। পিকনিকের নানা আয়োজনের পাশাপাশি নিলুর হাতে তৈরি ঝালমুড়ি ছিল সবার কাছে বিশেষ আকর্ষণ।
সকাল ১১টায় শুরু হওয়া পিকনিকের আনুষ্ঠানিকতা বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে চলে। রাত পর্যন্ত চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আনন্দ-উৎসব। এতে সংগীত পরিবেশন করেন প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পী সজীব, জুন্না, রিমা ও তানভীর হাসান। এছাড়া কবিতা আবৃত্তি করেন সিদ্দিক ও মুন।
পুরোনো দিনের বন্ধুত্বকে আরও দৃঢ় করা এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে পারস্পরিক পরিচয় ও সম্প্রীতির বন্ধন তৈরি করার মধ্য দিয়ে এবারের “ইউএসএ ৯৭-৯৯ পিকনিক ২০২৬” হয়ে ওঠে স্মরণীয় এক মিলনমেলা।
ছবিতে দেখুন


