ইসলামি শরিয়তে যেসব উপায়ে উপার্জিত অর্থ নিষিদ্ধ বা হারাম

লাইফস্টাইল ৮ আগস্ট ২০২৬ ৩০৭২

ইসলামি বিধান অনুযায়ী অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ, ঘুষ, সুদ ও ওজনে কম দেওয়াসহ বিভিন্ন অনৈতিক উপায়ে অর্জিত অর্থকে হারাম বলে গণ্য করা হয়। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে এসব পন্থায় উপার্জন থেকে বিরত থাকার স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে।

ইসলামি শরিয়তে যেসব উপায়ে উপার্জিত অর্থ নিষিদ্ধ বা হারাম

ইসলামি জীবনাচারে অবৈধ বা নিষিদ্ধ পন্থায় অর্জিত অর্থকে ‘হারাম’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে অর্থনৈতিক লেনদেন সম্পর্কিত নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে, যেখানে বেশ কিছু উপায়ে অর্থ উপার্জন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রথমত, অপরের সম্পত্তি বা আমানত আত্মসাৎ করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আখেরাতের বিচারে এই খিয়ানতের জন্য জবাবদিহি করতে হবে বলে কোরআনে সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি আইনি চাতুরি কিংবা ছলচাতুরির আশ্রয়ে অন্যের ধনসম্পদ বা জমিজমা হস্তগত করা অন্যায় হিসেবে গণ্য হয়।

দ্বিতীয়ত, যেকোনো লেনদেনে লেনদেনকারীদের মধ্যে ঘুষের আদান-প্রদানকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে ধরা হয়। হাদিস অনুযায়ী, ঘুষদাতা ও গ্রহীতা উভয়ের ওপরই অভিশাপ দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে সাধারণ ব্যবসাকে বৈধ করা হলেও সুদভিত্তিক যেকোনো লেনদেনকে ইসলামি শরিয়তে সরাসরি হারাম ঘোষণা করা হয়েছে।

তৃতীয়ত, চুরি কিংবা ছিনতাই ও ডাকাতির মাধ্যমে ধনসম্পদ লুট করা ইসলামে নিষিদ্ধ এবং এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া অভিভাবকহীন এতিমদের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করাকে পেটে জাহান্নামের আগুন ভরার শামিল বলে অভিহিত করা হয়েছে।

চতুর্থত, ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে পণ্য ওজনে কম দেওয়া কিংবা মাপে কারচুপি করে অতিরিক্ত লাভ করা ইসলামে অত্যন্ত অপরাধমূলক কাজ। অতীতে এমন আচরণের কারণে জাতি ধ্বংস হওয়ার দৃষ্টান্ত কোরআনে উল্লেখ রয়েছে। সর্বশেষে, মাদকদ্রব্য, জুয়া, অশ্লীলতার বিস্তার কিংবা সমাজ বিনষ্টকারী পণ্য ও সেবার ব্যবসার মাধ্যমে সংগৃহীত আয়কেও ইসলামে সম্পূর্ণরূপে হারাম করা হয়েছে।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন