রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য ও জীবনের পাতায় গভীর দেশপ্রেম
১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে নাইটহুড বর্জন—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পুরো জীবন ও সাহিত্যে দেশপ্রেম এবং নিখাদ মানবপ্রেমের অনন্য প্রতিফলন ঘটেছে।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর বিপুল সাহিত্যকর্ম ও ব্যক্তিগত জীবনের মাধ্যমে স্বদেশপ্রেম ও মানবকল্যাণের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ১৯০৫ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশকারীদের বাংলা ভাগের সিদ্ধান্তের পর তিনি ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি রচনা করেন। মাতৃভূমির প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা প্রকাশে তিনি বিভিন্ন কালজয়ী কবিতা ও গান সৃষ্টি করেন।
রবীন্দ্রনাথের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস ‘গোরা’-তেও দেশপ্রেম ও অসাম্প্রদায়িকতার মেলবন্ধন দেখা যায়। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের প্রেক্ষাপটে জন্ম নেওয়া আইরিশ বংশোদ্ভূত অনাথ শিশু গোরাকে দত্তক নেন কৃষ্ণদয়াল ও আনন্দময়ী দম্পতি। গোরা চরিত্রটির রূপান্তরের মাধ্যমে কবি জাতি, ধর্ম ও বর্ণভেদ ভুলে সর্বজনীন মানবতাবোধ ও মাতৃভূমির প্রতি গভীর অনুরাগের বার্তা দিয়েছেন।
রাজনৈতিক ও সামাজিক সচেতনতার ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন আপসহীন। ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগে জেনারেল ডায়ারের নির্দেশে ব্রিটিশ সেনা নিরীহ ভারতীয়দের ওপর গণহত্যা চালায়। এই নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে রবীন্দ্রনাথ তৎকালীন রাজনৈতিক নেতা মহাত্মা গান্ধী এবং পরে চিত্তরঞ্জন দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
অন্যদের কাছ থেকে প্রতিবাদে সাড়া না পেয়ে রবীন্দ্রনাথ একাই সোচ্চার হন। সাম্রাজ্যবাদী সরকারের এই বর্বরতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও ঘৃণা প্রকাশ করে তিনি ব্রিটিশদের দেওয়া ‘নাইটহুড’ উপাধি ত্যাগ করেন এবং নামের পূর্বে ‘স্যার’ ব্যবহার বন্ধ করে দেন। আজীবন সাহিত্যচর্চা ও কর্মের মধ্য দিয়ে বিশ্বজুড়ে তিনি স্বদেশ ও মানবতার বন্দনা করে গেছেন।
