মানসিক চাপ কমিয়ে মন ভালো রাখার সহজ দৈনন্দিন অভ্যাস
জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন ও সঠিক খাদ্যভ্যাসের মাধ্যমে কর্টিসল হরমোন নিয়ন্ত্রণে রেখে মন ফুরফুরে রাখা সম্ভব। প্রিয়জনের সঙ্গ, প্রিয় শখ চর্চা ও ভেষজ খাবার মানসিক প্রশান্তি ফিরিয়ে আনতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও মানসিক চাপের কারণে মানবদেহে কর্টিসল হরমোনের ক্ষরণ বৃদ্ধি পায়। রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ, বিপাকপ্রক্রিয়া সামলানো এবং প্রদাহ কমানোর ক্ষেত্রে এই হরমোনের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও এর মাত্রা বেড়ে গেলে মন খারাপ হতে থাকে। তবে দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসে পরিবর্তন আনলে এই হরমোন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
প্রিয় মানুষদের সান্নিধ্য মানসিক চাপ কমাতে দারুণ কাজ করে। সকালে সন্তানকে জড়িয়ে ধরা, সঙ্গীর হাত ধরা কিংবা বয়োজ্যেষ্ঠদের পাশে কিছুক্ষণের জন্য বসলেও মনে প্রশান্তি আসে। এ ছাড়া মনের জমানো অনুভূতি কোনো বিশ্বস্ত ব্যক্তির কাছে ব্যক্ত করলে বা ডায়েরিতে লিখে রাখলেও মনের চাপ হালকা হয়।
নিয়মিত শখ চর্চাও মন ফুরফুরে রাখতে সহায়তা করে। বাগান করা, রান্না, ছবি আঁকা, গান বা নাচের মতো কাজে মন দিলে মানসিক স্বস্তি মেলে। চার দেয়ালের মাঝে সীমাবদ্ধ না থেকে সকালে উন্মুক্ত হাওয়ায় হাঁটা, সাইকেল চালানো কিংবা শিশিরভেজা ঘাসে খালি পায়ে হাঁটলে কর্টিসলের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে বলে চিকিৎসকেরা জানান।
পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসেও সচেতন হওয়া জরুরি। সকালে খালি পেটে চা-কফি পানের অভ্যাস কিংবা ডুবোতেলে ভাজা খাবার কর্টিসল বাড়িয়ে দিতে পারে। এর বদলে খালি পেটে ভেষজ চা এবং ম্যাগনেশিয়ামযুক্ত খাবার যেমন কাঠবাদাম, কলা ও সালাদ খাওয়া উচিত। ডিম, মাছ ও কুমড়ার বীজের মতো ট্রিপটোফ্যান সমৃদ্ধ খাবার খেলে শরীরে সেরোটোনিন বা মন ভালো করার হরমোনের নিঃসরণ বৃদ্ধি পায়।
