বয়োজ্যেষ্ঠ অভিভাবকদের জেদি আচরণ ও সন্তানদের দুশ্চিন্তার মনস্তাত্ত্বিক কারণ
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বহু অভিভাবক স্বাস্থ্যবিধি ও সন্তানদের পরামর্শ মানতে অনীহা দেখান। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয় ও মানসিক অস্থিরতাই মূলত এই আচরণের প্রধান কারণ।
পঁচাশ বা ষাটোর্ধ্ব অভিভাবকদের স্বাস্থ্য ও জীবনযাপন সামলাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত প্রতিকূলতার মুখোমুখি হচ্ছেন প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানরা। শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও নিয়মিত ওষুধ না খাওয়া, চিকিৎসকের কাছে যেতে না চাওয়া কিংবা অনিয়মিত জীবনযাত্রার বিষয়ে সন্তানরা কথা বলতে গেলে অনেক অভিভাবকই তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
সম্প্রতি সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়া এক নারীর ঘটনায় এই চিত্র স্পষ্ট হয়। কর্মময় জীবনের রুটিন বদলে যাওয়ায় তিনি গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকছেন এবং সকালের নাশতা খাচ্ছেন দুপুরে। হাঁটুর ব্যথা ও শারীরিক দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও তিনি হাসপাতালে যাবেন না। সন্তান এ বিষয়ে বারবার অনুরোধ করলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের বিষয়ে অন্যদের হস্তক্ষেপ না করার কড়া বার্তা দেন।
এমন অভিজ্ঞতা প্রায় প্রতিটি পরিবারেই দেখা যায়। রাহাত নামের এক যুবক জানান, তাঁর বাবা দূরসম্পর্কের স্বজনদের চাহিদামাত্র টাকা দিয়ে দেন। সে বিষয়ে বারণ করলে তাঁর বাবা রাগ করে কথা বলা বন্ধ করে দেন। আবার রাশেদ নামের আরেক যুবকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তাঁর বাবা সুস্থ থাকলেও ইন্টারনেটে রোগের লক্ষণ দেখে অহেতুক চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। সেখানে কোনো সমস্যা ধরা না পড়লে চিকিৎসককে অযোগ্য ভেবে পুনরায় পরীক্ষা করানোর জিদ ধরেন। স্বাস্থ্যের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও মিষ্টি খাওয়া বা গ্রামে অনাবশ্যক বাড়ি নির্মাণের সিদ্ধান্ত সামলাতেও সন্তানদের হিমশিম খেতে হয়।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএন এবং মার্কিন সাময়িকী ফোর্বসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বয়স্কদের এই অনীহার পেছনে রয়েছে পাঁচটি প্রধান মানসিক কারণ। এর মধ্যে রয়েছে হঠাৎ পরিচিত পরিবেশ বদলে যাওয়ার অস্তিত্ব সংকট, কমতে থাকা শারীরিক সক্ষমতা মেনে না নেওয়া, পরিবর্তনের ভয়, সন্তানদের পরামর্শকে নিজের ব্যর্থতা হিসেবে গণ্য করা এবং জীবনের স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলার তীব্র দুশ্চিন্তা।
