রেস্টলেস লেগ সিনড্রোমের লক্ষণ, কারণ ও প্রতিরোধের উপায়
বিশ্রামের সময় পায়ে তীব্র অস্বস্তি ও পা নাড়ানোর প্রবণতা ‘রেস্টলেস লেগ সিনড্রোম’ নামের স্নায়বিক রোগের লক্ষণ। সঠিক জীবনযাপন, আয়রনের ঘাটতি পূরণ ও চিকিৎসকের পরামর্শে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

রাতে ঘুমানোর উদ্দেশ্যে বিছানায় যাওয়ার পর পায়ে এক ধরনের অস্বস্তি অনুভব করা এবং বারবার পা নাড়ানোর তাগিদ পাওয়া ‘রেস্টলেস লেগ সিনড্রোম’ বা আরএলএসের প্রধান লক্ষণ। নড়াচড়া করলে সাময়িক স্বস্তি মিললেও স্থির হলেই অস্বস্তি ফিরে আসে। যদিও এটি সরাসরি মারাত্মক কোনো ব্যধি নয়, তবে দীর্ঘমেয়াদে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটিয়ে মানুষের কর্মক্ষমতা ও জীবনযাত্রার মান ব্যাহত করে।
সাধারণত সন্ধ্যা বা রাতের বেলা শুয়ে কিংবা বসে বিশ্রাম নেওয়ার সময় এই সমস্যাটি বেশি অনুভূত হয়। আক্রান্তরা অনেক সময় পায়ের ভেতরে পিঁপড়া হাঁটা, পেশিতে টান ধরা কিংবা কিলবিল করার মতো অস্বস্তিকর অনুভূতি বর্ণনা করেন। কিছুটা স্বস্তি পাওয়ার আশায় অনেকে রাতে পায়ে শক্ত করে কাপড় বা রশি বেঁধে ঘুমানোর চেষ্টা চালান।
গবেষকদের মতে, মস্তিষ্কে ডোপামিনের কার্যকারিতায় পরিবর্তন এবং লৌহের ঘাটতির সঙ্গে এই স্নায়বিক ব্যাধির প্রত্যক্ষ সংযোগ রয়েছে। পাশাপাশি শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের অভাব হলেও পেশির অস্বস্তি ও নিদ্রাহীনতা বাড়তে পারে। তাই শরীরে রক্তের আয়রন ও ফেরিটিনের মাত্রা পরীক্ষা করানো আবশ্যক। খাদ্যাভ্যাসে সবুজ শাকসবজি, বীজজাতীয় খাদ্য, ডাল ও বাদাম যুক্ত করা ফলপ্রসূ হতে পারে। গর্ভবতী নারী, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি ব্যধিতে আক্রান্ত ব্যক্তি, রক্তশূন্যতার রোগী এবং পারিবারিক ইতিহাস যাদের আছে, তাদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
চিকিৎসার শুরুতে মানবদেহে আয়রনের অপর্যাপ্ততা রয়েছে কি না তা পরীক্ষা করা হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হয়। অনেক রোগীর ক্ষেত্রেই কেবল আয়রনের মাত্রা ঠিক করলে উপসর্গের উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটে। তবে যেকোনো ওষুধ দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্যই অভিজ্ঞ চিকিৎসকের দিকনির্দেশনা মেনে চলা জরুরি।
শারীরিক চর্চা ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপন এ ব্যাধি নিয়ন্ত্রণের মূল চাবিকাঠি। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকা ও রুটিনে নিয়মিত হাঁটা, সাইক্লিং ও স্ট্রেচিং অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। দীর্ঘ সময় একটানা বসে না থেকে কাজের ফাঁকে বা ভ্রমণের সময় একটু হাঁটাচলা করা ভালো। রাতে পায়ে অস্বস্তি বাড়লে হালকা মালিশ, গরম পানিতে গোসল বা অল্প সময় হাঁটাচলা করলে স্বস্তি পাওয়া যায়। এ ছাড়া প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠা, সন্ধ্যার পর চা-কফি পানের অভ্যাস কমানো এবং শোবার আগে মুঠোফোন ব্যবহারের মানসিকতা ত্যাগ করা প্রয়োজন।
