বাংলার গৌরবময় অতীত নিয়ে আত্মপ্রকাশ করল 'স্বর্গভূমি বাংলা' বইটি
বিশ্ব সভ্যতায় বাংলার ঐতিহাসিক অবদান ও অনন্য সমৃদ্ধির তথ্য নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে সাংবাদিক মোহাম্মদ মাহমুদুজ্জামানের নতুন গবেষণাগ্রন্থ ‘স্বর্গভূমি বাংলা’।

সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতাব্দীতে বৈশ্বিক অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল বাংলা অঞ্চল। উর্বর জমি, পর্যাপ্ত শস্য উৎপাদন এবং সুলভ যোগাযোগব্যবস্থার কল্যাণে এটি মোগল সাম্রাজ্যের প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়। মোগল শাসক হুমায়ূন এই ভূখণ্ডকে 'জান্নাতাবাদ' এবং সম্রাট আওরঙ্গজেব একে 'জাতির স্বর্গ' হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। বিশ্ব সভ্যতায় বাংলার ঐতিহাসিক এই অবদান ও সমৃদ্ধির ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরে প্রকাশিত হয়েছে সাংবাদিক ও গবেষক মোহাম্মদ মাহমুদুজ্জামানের বিশেষ বই ‘স্বর্গভূমি বাংলা’।
কৃষি, বাণিজ্য, শিক্ষা ও শিল্পে দীর্ঘ সময় ধরে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছিল বাংলা। প্রাচীন গ্রিক, রোমান, মিসরীয় কিংবা চিনা সভ্যতার মতোই অত্যন্ত উন্নত ছিল এ দেশের ব্যবস্থা। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক বিকাশ, যুক্তরাজ্যের শিল্প বিপ্লব কিংবা ইউরোপ জুড়ে বস্ত্রের বিপুল চাহিদার মূলে ছিল বাংলার প্রাচুর্য ও অনন্য উৎপাদনক্ষমতা। এ ছাড়া এশিয়া, আফ্রিকা ও আরব বিশ্বেও বাংলার পণ্যের ব্যাপক সমাদর ছিল।
যুদ্ধ কিংবা উপনিবেশ স্থাপনের বদলে উদার মানবিকতা, অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মেধা, দক্ষতা ও সৃষ্টির মানসিকতা দিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রভাব বিস্তার করেছিল এ অঞ্চল। প্রায় দুই দশকের দীর্ঘ অনুসন্ধান ও গবেষণার ভিত্তিতে রচিত এই বইটিতে প্রথাগত ইতিহাসের বাইরে গিয়ে নতুন এক বাংলাকে উপস্থাপন করা হয়েছে। রুটস প্রকাশনী থেকে বাজারে আসা এই বইটির প্রচ্ছদ তৈরি করেছেন চিত্রশিল্পী সব্যসাচী হাজরা।
