অযাচিত বিভীষিকা - জাকিয়া রহমান

অযাচিত বিভীষিকা
- জাকিয়া রহমান
আমার সমস্ত সত্তা জুড়ে আজ হাহাকার।
সারা জীবনের আকাঙ্ক্ষিত বাসনা
ও স্বপ্ন পূরণের অন্তে—
পথ রুখে দাঁড়াল এক অযাচিত বিভিষিকা।
এক আঁধারের কুহেলিকা এসে গ্রাস করে নিল,
সব সফলতার রূপকথাকে।
মনে আজ তীব্র প্রশ্ন জাগে—
আমি কি সেই জাতির উত্তরসূরি?
যারা নিজেরই প্রজন্মকে নিষ্পেষিত করে
কি পৈশাচিক আনন্দে মত্ত?
কি মহা উল্লাসে তারা মানুষের মৃত্যুর জ্বালা করে উপভোগ!
অসহায় কোন মানুষকে দুমড়ে মুচড়ে
মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে দেখে
কি মহানন্দে তারা মেতে ওঠে!
মনুষত্ব কি নেই ওদের?
আঘাতে আঘাতে ছিন্নভিন্ন মানুষের আত্মচিৎকার শুনে,
ওদের কি হৃদয় বিদীর্ণ হয়না?
আমি প্রশ্ন করি নিজেকেই বারবার—
আমি কি সেই জাতেরই বংশধর?
আমরা তো সবাই আদমের বংশধর,
তাঁর রক্তের প্রবাহ আমাদের শিরা-উপশিরায়,
তাঁর বুকের মমতা আমাদের মানসে বয়।
একটি মানুষের এত কষ্ট দেখেও,
তাদের মন কোনো দয়া-মায়ার অনুভবে
কি আকুল হয়না?
কেন? ওরা কি তবে আদমের বংশধর নয়?
কি আনন্দ জাগে ওদের ওই কুৎসিত মননে—
একটি রক্তাক্ত শরীর,
দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া বেদনা
আর গগন বিদারী আর্তচিৎকারে!
কে জোগায় ওদের এই দানবীয় উল্লাসের ইন্ধন?
এ কেমন অন্যায়ের এক অন্ধ প্রতশোধ?
নিজেরা পাপে ডুবে,
কীভাবে ওর মেটায় পাপের বদলা?
আমার শ্রবণে আর ভাবনার অতলে—
এক বিষাক্ত দূষণ সবকিছু ক্লান্ত করে দিয়ে যায়,
কলুষিত করে তোলে আমার শুদ্ধ আত্মা।
বারবার নিজের কাছেই প্রশ্ন জাগে সেই আবার—
আমি কি তবে ওদেরই বংশধর,
ওদের মত রক্তই কি বয় আমার শিরা-উপশিরায়?
আমি কি সেই মানুষ নই যারা ছিল আদমের বংশধর?
নাকি ওদের মত মানুষ নামের জীব?
ভাবনাগুলো নিশিদিন মানসপটে,
এক তীব্র আশঙ্কায় শিউরে শিউরে ওঠে!
কী এক অজানা আঁধার বাস্তবতার চরম পরিণতি—
আমাকে টেনে নিয়ে চলেছে কোন অতল খাদের মুখে!
