বেকারত্ব দূরীকরণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর স্টার্টআপের বিপুল সম্ভাবনা

মতামত ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৮৮৭

বাংলাদেশে প্রতিবছর ২০ লাখ তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থান মিলছে না। এই সংকট কাটাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নতুন আশার সঞ্চার করছে।

বেকারত্ব দূরীকরণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর স্টার্টআপের বিপুল সম্ভাবনা

বাংলাদেশে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকা শিক্ষিত বেকারত্ব বর্তমানে কেবল আর্থিক সংকটেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সামাজিক ও মানসিক অস্থিতিশীলতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উচ্চশিক্ষা শেষ করে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী শ্রমবাজারে এলেও সে অনুপাতে কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। সীমিত সরকারি নিয়োগের পেছনে ছুটতে গিয়ে অনেক তরুণ জীবনের মূল্যবান সময় নষ্ট করছেন।

এই জটিল পরিস্থিতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-ভিত্তিক নতুন ব্যবসা বা স্টার্টআপ বাংলাদেশে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে। সাধারণ ধারণার বিপরীতে এআই মানুষের চাকরি কেড়ে নেওয়ার বদলে প্রযুক্তি খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিত্যনতুন পেশা ও ব্যবসার দিগন্ত উন্মোচন করছে। বিশেষ করে কৃষি, চিকিৎসা, শিক্ষা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ে উদ্ভাবনী সমাধানের মাধ্যমে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার পথ সুগম হচ্ছে।

কৃষিপ্রধান এ দেশে এআই প্রযুক্তির সাহায্যে ছবির মাধ্যমে ফসলের রোগ নির্ণয়, সেচ ও সারের সঠিক মাত্রা নির্ধারণ এবং আবহাওয়ার বার্তা আগেই জানা সম্ভব। একইভাবে, প্রত্যন্ত অঞ্চলে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব মেটাতে স্বয়ংক্রিয় স্বাস্থ্যসেবা প্ল্যাটফর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শিক্ষা খাতে প্রতিটি শিক্ষার্থীর শেখার ধরন অনুযায়ী স্বনির্ধারিত পাঠ্য পরিকল্পনা তৈরি করতেও এই প্রযুক্তি সাহায্য করছে।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর কাজের চাহিদা বাড়ায় দেশের তরুণরা ফ্রিল্যান্সিং ও অনলাইনভিত্তিক কাজ শুরু করে পরবর্তীতে সেগুলোকে স্থায়ী প্রতিষ্ঠানে রূপ দিচ্ছেন। বিশেষত নারী উদ্যোক্তারা ঘরে বসেই সফটওয়্যার উন্নয়ন, শিক্ষাদান ও ই-কমার্সের মতো প্রযুক্তিভিত্তিক খাতে নিজেদের নিয়োজিত করতে পারছেন, যা তাঁদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করছে।

তবে এই খাতের প্রসারে কিছু উল্লেখযোগ্য বাধা রয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তির ঘাটতি, নতুন ব্যবসার জন্য প্রারম্ভিক মূলধনের অভাব, বাংলা ডেটাসেটের সীমাবদ্ধতা এবং বাণিজ্যিক অভিজ্ঞতার অভাব তরুণদের পিছিয়ে রাখছে। এই সমস্যা দূর করতে জাতীয় তহবিল গঠন, সহজ শর্তে ঋণ ও কর ছাড় প্রদান, এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন কেন্দ্র স্থাপন করা জরুরি।

প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারের পাশাপাশি তথ্যের নিরাপত্তা, সাইবার ঝুঁকি এবং অনৈতিক ব্যবহার রোধে কার্যকর নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। চাকরির প্রত্যাশী হওয়ার মানসিকতা ছেড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর উদ্ভাবনে মনোযোগ দিলে দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী বোঝা না হয়ে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন