পটাশিয়ামের ঘাটতির লক্ষণ ও তা দূর করার উপায়

লাইফস্টাইল ৬ আগস্ট ২০২৬ ২৯৯৮

দেহে পটাশিয়ামের মাত্রা কমে গেলে শারীরিক দুর্বলতা, পেশির টানসহ নানান জটিলতা দেখা দিতে পারে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং চিকিৎসকের পরামর্শের মাধ্যমে এই ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতি দূর করা সম্ভব।

পটাশিয়ামের ঘাটতির লক্ষণ ও তা দূর করার উপায়

মানবদেহে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে পটাশিয়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শরীরে এই খনিজের পরিমাণ কমে গেলে হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং উচ্চ রক্তচাপের আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন মানুষের প্রতিদিন অন্তত ৪ হাজার ৭০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম গ্রহণ করা প্রয়োজন। ভারতের মণিপাল হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ চিকিৎসা ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ডা. পার্থসারথি মণ্ডল জানান যে, পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও পটাশিয়ামের অভাবে অলসতা ও দুর্বলতা অনুভূত হতে পারে। এছাড়া পেশিতে খিঁচুনি বা যন্ত্রণা এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গে অসাড়তার মতো উপসর্গও দেখা দেয়।

দীর্ঘদিন ধরে দেহে পটাশিয়াম কম থাকলে ইনসুলিনের নিঃসরণ হ্রাস পায়, যার ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। এর পাশাপাশি পরিপাকের সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা, মাথা ব্যথা, বমি ভাব এবং কাজে অনীহার সৃষ্টি হতে পারে। এমনকি অনিয়মিত স্পন্দন ও পেশির কাঁপুনিও এই খনিজের ঘাটতির লক্ষণ। কিডনির ব্যাধি, বহুমূত্র রোগ, খাদ্যে লবণের তারতম্য, পাতলা পায়খানা, অতিরিক্ত বমি কিংবা অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়া ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার অন্যতম কারণ।

তবে এসব লক্ষণ অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার কারণেও দেখা দিতে পারে। তাই উপসর্গ তীব্র হলে বা বেশিদিন স্থায়ী হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই শরীরে এর পরিমাণ নির্ধারণ করা যায়। উল্লেখ্য, ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নিজস্ব উদ্যোগে পটাশিয়ামের ওষুধ খাওয়া অনুচিত, কারণ এর আধিক্য ও ঘাটতি দুটোই ক্ষতিকর। খাদ্যতালিকায় কলা, কমলা, ডাবের পানি, পালং শাক, টমেটো, আলু, মিষ্টি আলু, ডাল, শিম, দই ও অ্যাভোকাডো রাখলে পটাশিয়ামের অভাব পূরণ করা সম্ভব।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন