বিয়ানীবাজারের চার প্রার্থীকে ঘিরে সভায় ঐক্য, অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়
বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন-২০২৬

নিউইয়র্ক (ইউএনএ): বাংলাদেশ সোসাইটির আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিয়ানীবাজারের চার প্রার্থীর প্রার্থিতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সিলেট জেলার বিয়ানীবাজারের মুরব্বি ও তরুণ সমাজের সঙ্গে এক আন্তরিক ও প্রাণবন্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বিপুলসংখ্যক মুরব্বি, তরুণ ও কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও বিয়ানীবাজারবাসী উপস্থিতি ছিলেন। সোসাইটির নির্বাচনে প্রার্থীরা হলেন- বাংলাদেশ সোসাইটির বর্তমান সাংস্কৃতিক সম্পাদক অনিক রাজ, প্রচার ও জনসংযোগ সম্পাদক রিজু মোহাম্মদ, কার্যকরী সদস্য হাছান খান এবং বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি মরহুম কামাল আহমদের কন্যা রুমানা আহমদ। সভায় চার প্রার্থীর প্রতি বিয়ানীবাজারবাসীর আন্তরিকতা ও সমর্থন ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে প্রবীণ মুরব্বিদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি এবং তাঁদের মূল্যবান মতামত চার প্রার্থীকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। খবর ইউএনএ’র।
সিটির ওজনপার্কের একটি মিলনায়তনে সোমবার (১০ আগষ্ট) এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার আয়োজকরা জানান, বাংলাদেশ বিয়ানীবাজার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমিতি ইউএসএ’র সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে এবং সমিতির নির্বাচন কমিশনের অন্যতম সদস্য আমিনুল হোসেনের সঞ্চালনায় সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত ও দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা রফিক উদ্দীন। সভায় সঞ্চালক বাংলাদেশ সোসাইটির আসন্ন নির্বাচনে বিয়ানীবাজার থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আগ্রহী চার প্রার্থীকে উপস্থিত সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।
পরবর্তীতে চার প্রার্থীর পক্ষ থেকে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রিজু মোহাম্মদ। তিনি অত্যন্ত বিনয় ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উপস্থিত মুরব্বি ও তরুণ সমাজের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, অতীতে বিয়ানীবাজারবাসী তাঁদের আস্থা ও ভালোবাসা দিয়ে নির্বাচিত করে বাংলাদেশ সোসাইটিতে পাঠিয়েছেন। সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা এবং বিয়ানীবাজার উপজেলার সম্মান ও মর্যাদা সমুন্নত রাখার জন্য তাঁরা সাধ্যমতো কাজ করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের কোনো কর্মকাণ্ডের কারণে যেন আমাদের মুরব্বি, আমাদের জন্মস্থান এবং বিয়ানীবাজারের মানুষের সম্মান ক্ষুণ্ন না হয়, আমরা সবসময় সেই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেছি।
বাংলাদেশ সোসাইটির আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি জানান, গত নির্বাচনে যে সেলিম-আলী পরিষদ থেকে তাঁরা নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন, এবারও সেই পরিষদ থেকে তাঁদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিয়ানীবাজারের মুরব্বি ও তরুণ সমাজের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কারণেই এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে।
রিজু মোহাম্মদ বলেন, আপনারা যদি আমাদের চারজনকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি ও সমর্থন দেন, তাহলে আমরা ‘সেলিম-আলী’ পরিষদের সঙ্গে নির্বাচন করতে আগ্রহী। তবে আপনারা যদি মনে করেন, বিয়ানীবাজার থেকে আমাদের চেয়েও যোগ্য কোনো প্রার্থীকে সামনে আনা উচিত, সেটিও আপনারা বিবেচনা করতে পারেন। আপনাদের যে সিদ্ধান্তই হোক, আমরা সেটিকে সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করব এবং বিয়ানীবাজারের স্বার্থে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।
তিনি আরও জানান, গত প্রায় এক বছর ধরে বিয়ানীবাজারসহ বৃহত্তর কমিউনিটির সদস্য নিবন্ধন কার্যক্রমে চার প্রার্থী সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন এবং প্রবাসীদের সদস্যপদ গ্রহণে উৎসাহিত করেছেন। বিশেষ করে বিয়ানীবাজার উপজেলার সদস্য নিবন্ধন কার্যক্রমে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
পরবর্তীতে অপর তিন প্রার্থীও তাদের বক্তব্য রাখেন এবং বিয়ানীবাজারের মুরব্বি ও তরুণ সমাজের পরামর্শ, দিকনির্দেশনা ও সিদ্ধান্তকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সভায় অরো বক্তব্য রাখেন বিয়ানীবাজার সমিতির সাবেক সভাপতি মকবুল রহিম চুনই, মোস্তফা কামাল, উপদেষ্টা গহর চৌধুরী কিনু, অধ্যাপক কামাল চৌধুরী, শাহীন চৌধুরী, এনাম আহমদ, ছমীর উদ্দিন, সাবেক রেফারি ইসলাম উদ্দীন, মরহুম কামাল আহমদের ভাই আবুল ফজল লিটন, আব্দুল করিম, উজ্জ্বল চৌধুরী, শাব্বির আহমদ, ফয়সল আলমসহ আরও অনেকে।
সভাপতির বক্তব্যে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, প্রবীণের অভিজ্ঞতা ও যুক্তি এবং তারুণ্যের শক্তি ও উদ্যমের কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, শুধু মতামত গ্রহণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না, সেই মতামতকে বাস্তব কাজে পরিণত করতে হবে।
তিনি চার প্রার্থীকে মুরব্বি ও তরুণ সমাজের সঙ্গে পরামর্শ করে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান এবং উপস্থিত সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
সভায় উপস্থিত মুরব্বিরা চার প্রার্থীর বিষয়ে উপস্থিত সবার মতামত জানতে চাইলে উপস্থিত সকলে হাত তুলে তাঁদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রতি সমর্থন জানান। মুহূর্তটি সভায় এক আবেগঘন ও উৎসাহপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করে। এ সময় চার প্রার্থী মুরব্বি এবং উপস্থিত সবার এই ভালোবাসা, আস্থা ও সমর্থনে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, এই সমর্থন তাঁদের জন্য শুধু নির্বাচনী শক্তি নয়, বরং বিয়ানীবাজারের মানুষের প্রতি আরও বেশি দায়িত্বশীল হওয়ার অনুপ্রেরণা।
সভায় উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যে আজিজুর রহমান পাখি, ছমির উদ্দিন, আব্দুল হান্নান কটন, ফারুক আহমদ, এনাম উদ্দিন, আব্দুল হামিদ, আব্দুল করিম, আহমদ হোসেন, ময়েজ উদ্দিন, আহমদ মুস্তফা বাবুল, শাহীন চৌধুরী, আব্দুল আহাদ, কামাল চৌধুরী, আব্দুল জলিল বাবুল, ফখর উদ্দিন লোদী, সেহিমুল্স তানিম, শাহিন আহমদ, আবুল হোসেন, নাজিম উদ্দিন, মাহবুব আহমদ জনু, রফিকুল আলম বাবু, ফখরুল ইসলাম, আলি হাসান চৌধুরী বাবলা, মোহাম্মদ নুরুল সায়েব, শাব্বির আহমদ, মোহাম্মদ আসিফ, হেলাল উদ্দিন, হারিছ আলী, মিজানুর রহমান, মামুনুর রশীদ, ফয়সল আহমদ, মুন্না আহমদ, জসিম উদ্দিন, ইব্রাহীম, অলিউর রায়েন, তারেক আহমদ, মাসুম মুন্না বখসী, আশরাফুজ্জামান মুক্তা, রেদ্বোয়ান আল মামুন, জিল্লুর রহমান, মোহাম্মদ হাফিজ লোদী, জুনায়েদ উদ্দিন, আদনান খান রবি, তাহিদুর রহমান তওয়াব, আহরার হোসেন রিফাত, শাহেদুজ্জামান অনিক, আহলাম হোসেন, কায়েস আহমদ, খালেদ খান, মোহাম্মদ আনিছুর রহমান, সুহেল আহমদ, মাতবুর রহমান মাতাব, জালাল আহমদ, জামিল আহমদ, আব্দুল গাফফার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ছবিতে দেখুন


