নিউইয়র্কে ট্যাক্সিচালকদের ওপর ধারাবাহিক হামলা, গাড়ি চালকদের নিরাপত্তায় ক্যামেরা বসানোর দাবি

প্রবাস সংবাদ ৬ আগস্ট ২০২৬ ২৯২৪

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি চালক রুহুল আমিন নাসিরসহ একের পর এক রাইডশেয়ার ও ট্যাক্সিচালক হামলার শিকার হচ্ছেন। চালকদের নিরাপত্তা ও দ্রুত অপরাধী শনাক্তে সব গাড়িতে ক্যামেরা স্থাপনের দাবি উঠেছে।

নিউইয়র্কে ট্যাক্সিচালকদের ওপর ধারাবাহিক হামলা, গাড়ি চালকদের নিরাপত্তায় ক্যামেরা বসানোর দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে ট্যাক্সি ও রাইডশেয়ার চালকদের ওপর একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটছে। কর্মসংস্থানের তাগিদে রাতে গাড়ি চালানো পেশাজীবীদের জীবনের ঝুঁকি ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। সাম্প্রতিক একাধিক ঘটনায় চালকদের নিরাপত্তা জোরদার করা এবং অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সর্বশেষ ২৪ জুলাই ভোরে ব্রুকলিনের ফোর্ট গ্রিন এলাকায় হুইটম্যান হাউসেসের সন্নিকটে এক বাংলাদেশি চালক বন্দুক হামলার শিকার হন। ৫০ বছর বয়সী ওই চালকের নাম রুহুল আমিন নাসির, যিনি কমিউনিটিতে মোহাম্মদ আমিন নামে পরিচিত। প্রায় ১৬ বছর ধরে কুইন্সে বসবাসকারী এই প্রবাসী গাড়ি চালিয়ে পরিবার লালন-পালন করছেন। ঘটনার পর হামলাকারী পালিয়ে যায় এবং পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

ট্যাক্সি চালকদের সংগঠন সূত্রে জানা যায়, মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে এটি চালকদের ওপর দ্বিতীয় আগ্নেয়াস্ত্র হামলা। এর আগে ১১ জুলাই ব্রুকলিনেই অন্য এক চালক গুলিতে জখম হন এবং গত বছর ব্রংকসে রাইডশেয়ার গাড়ির ভেতর এক পাকিস্তানি চালককে হত্যা করা হয়। স্বল্প সময়ের মধ্যে ঘটা এসব সহিংসতা রাতের শিফটে কর্মরত চালকদের চরম নিরাপত্তাহীনতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।

ট্যাক্সি অ্যান্ড লিমুজিন কমিশন এই সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে চালকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশের অধিকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। অন্যদিকে ট্যাক্সি ড্রাইভার্স ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠাতা ফার্নান্দো মাতেও সব ট্যাক্সি ও রাইডশেয়ার যানবাহনে সিসিটিভি ক্যামেরা বাধ্যবাধকতার জোরালো তাগিদ দিয়েছেন। তার মতে, গাড়িতে ভিডিও রেকর্ডার থাকলে পুলিশ দ্রুত আসামি ধরতে পারবে এবং সম্ভাব্য হামলাকারীরাও অপরাধ করতে নিরুৎসাহিত হবে।

অভিবাসী এই চালকদের বড় অংশই পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী। সড়ক দুর্ঘটনা, ছিনতাই কিংবা গোলাগুলির মাঝখানে পড়ে যাওয়ার মতো বহুমুখী ঝুঁকিতে কাজ করতে হয় তাদের। আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে হলে কিংবা গাড়ি চালানো বন্ধ থাকলে তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েন। ফলে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন প্রবাসী চালকেরা।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন