জাপানে ভাত রান্নার চার ঐতিহ্যবাহী ও আধুনিক কৌশলের আদ্যোপান্ত

লাইফস্টাইল ৬ আগস্ট ২০২৬ ২৯৯৮

জাপানি সংস্কৃতিতে চাল ফোটানোর প্রক্রিয়াকে একটি শিল্পের মর্যাদা দেওয়া হয়। পাত্র ও প্রণালীর ভিন্নতায় ভাতের স্বাদ ও গঠন বদলাতে সে দেশে চারটি বিশেষ পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে।

জাপানে ভাত রান্নার চার ঐতিহ্যবাহী ও আধুনিক কৌশলের আদ্যোপান্ত

জাপানের রন্ধনশৈলীতে চাল সেদ্ধ করা কেবল একটি সাধারণ কাজ নয়, বরং এটিকে শৈল্পিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা হয়। ভাতের সঠিক স্বাদ ও বিন্যাস নিশ্চিত করতে সেখানে নির্দিষ্ট পাত্র নির্বাচন, নির্দিষ্ট তাপ নিয়ন্ত্রণ ও সঠিক সময়সীমা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। রন্ধনপাত্রের পার্থক্যের কারণে একই চাল দিয়ে ভিন্ন স্বাদের ভাত তৈরি করা সম্ভব। বর্তমানে এই দেশটিতে প্রধানত চার উপায়ে চাল ফোটানো হয়ে থাকে।

বর্তমান ব্যস্ত নাগরিক জীবনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে রাইস কুকার। বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে বহুল প্রচলিত হওয়া এই বৈদ্যুতিক সরঞ্জামটি চাল ও জলের সঠিক পরিমাপ পেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রান্না শেষ করে এবং খাবার দীর্ঘ সময় গরম রাখে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই যন্ত্রে ইনডাকশন হিটিং ও প্রেশার কুকারের মতো আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত হয়ে এর কার্যকারিতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্য একটি জনপ্রিয় প্রাচীন মাধ্যম হলো ডোনাবে, যা একটি ছিদ্রযুক্ত পোড়ামাটির পাত্র। এই পাত্রের মোটা মাটির দেয়াল ধীরগতিতে সুষমভাবে তাপ ছড়ায়, যার ফলে চালের প্রতিটি দানা ভালোভাবে আর্দ্রতা শোষণ করে স্ফীত হতে পারে। এতে রান্না করা ভাতে মাটির সুবাস ও হালকা ধোঁয়াটে স্বাদ পাওয়া যায়। আঁচ বন্ধ করার পর পাত্রটি ঢেকে আরও পনেরো মিনিট রেখে দিলে অবশিষ্ট ভাপে ভাত পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে যায়।

বৈদ্যুতিক প্রযুক্তির বিকাশের পূর্বে জাপানিরা হাগামা নামের একটি ভারী লোহার পাত্র ব্যবহার করত। সাধারণত কাঠ বা কয়লার ওপর বসিয়ে এটিতে প্রথমে ঢিমে আঁচে রান্না শুরু করে পরে আঁচ বাড়িয়ে ফুটানো হতো এবং শেষে আঁচ কমিয়ে ভাপে রাখা হতো। আধুনিকতার ছোঁয়া পেলেও আজও অনন্য গঠন ও স্বাদের খাতিরে অনেক পরিবার এই লোহার পাত্র ব্যবহার করে থাকে।

এছাড়া পাথর বা মাটি দিয়ে তৈরি ঐতিহ্যবাহী উনুন কামাদো আজও বেশ সমাদৃত। এই উনুনে কাঠের আগুন জ্বেলে তার ওপর হাগামা চাপিয়ে ভাত রান্না করার প্রথা বহু পুরোনো। এককালে প্রায় প্রতিটি বাড়িতে কামাদোর উপস্থিতি দেখা গেলেও বর্তমানে তা মূলত ঐতিহ্যগত রন্ধনকর্মে ব্যবহৃত হয়। ধীরে ধীরে কাঠের আগুনে সেদ্ধ হওয়ায় এই ভাতে আলাদা এক ধরনের চমৎকার সুগন্ধ তৈরি হয়।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন