জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে নির্বাচিত সরকারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান

সম্পাদকীয় ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৮১৩

২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের পর গণতান্ত্রিক রূপান্তরের যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা এগিয়ে নিতে নির্বাচিত সরকারকে জনপ্রত্যাশা পূরণ ও প্রয়োজনীয় সংস্কারে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে নির্বাচিত সরকারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান

২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টের ছাত্র-জনতার তুমুল আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটে। রাজনৈতিক নিপীড়ন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ এবং অর্থনৈতিক লুণ্ঠন ও অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে পুঞ্জীভূত জনক্ষোভের জেরে এই পরিবর্তন আসে। শিশু, শিক্ষার্থী, নারী ও শ্রমিকসহ প্রায় ১ হাজার মানুষের প্রাণহানি ও সুদৃঢ় প্রতিরোধের মুখে এই অভ্যুত্থান পূর্ণতা পায়।

স্বৈরাচারী শাসনের পতন পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও নাগরিক স্বাধীনতার পরিধি পুনরায় বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার, বিচার এবং নতুন নির্বাচন—এই তিন প্রধান লক্ষ্য নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করে। তাদের মেয়াদে মব সহিংসতা ও উগ্রপন্থীদের প্রভাব বৃদ্ধির মতো চ্যালেঞ্জ থাকলেও, ১২ ফেব্রুয়ারির সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরিত হয়।

গণ-অভ্যুত্থানের ফলে সৃষ্টি হওয়া বিশাল জনপ্রত্যাশা পূরণের দায়িত্ব এখন বিএনপি সরকারের ওপর ন্যস্ত। ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংক ও জ্বালানি খাতের বিশৃঙ্খলা দূরীকরণ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করা বর্তমান প্রশাসনের প্রধান আশুকর্তব্য। বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ, আমলাতন্ত্র এবং আর্থিক খাতের মৌলিক সংস্কার ছাড়া এসব প্রতিশ্রুতি পূরণ করা সম্ভব নয়।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন অনুসন্ধানে আন্দোলনকালীন ব্যাপক হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ উঠে এসেছে। ওই সময়ে অপরাধে জড়ানো সাবেক সরকারি দল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নজর রাখা জরুরি। গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ধরে রাখতে নবনির্বাচিত সরকারকে জনপ্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ জোর দিতে হবে।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন