গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে নির্বাচিত সরকারকে প্রাধান্য দিতে হবে
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের মাধ্যমে দায়িত্ব পাওয়া সরকারের সামনে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ ও অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণের চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও সঠিক বিচার নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে এক স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক ধারায় ফেরার ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়। দীর্ঘদিনের গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, বিরোধী মতদমন, বাকস্বাধীনতা হরণ এবং অর্থ পাচার ও দুর্নীতিজনিত অর্থনৈতিক সংকটের ফলে ক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ঘটে। প্রায় এক হাজার মানুষের জীবনদানের মাধ্যমে অর্জিত এ পরিবর্তনের স্মরণে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
দুই বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর প্রাপ্তির খাতায় কিছু অসন্তোষ থাকলেও এই অভ্যুত্থানের গুরুত্ব অপরিসীম। শেখ হাসিনার কর্তৃত্ববাদী শাসনের পতনের পাশাপাশি রাজনৈতিক অধিকার এবং নাগরিক স্বাধীনতা অনেকটা পুনপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রবণতা বন্ধের পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং পরবর্তীতে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে ২৪-এর অভ্যুত্থান একটি বার্তা পৌঁছে দিয়েছে যে, ভবিষ্যতে দেশ পরিচালনায় অগণতান্ত্রিক পথ অবলম্বনের আর সুযোগ নেই। তবে অন্তর্বর্তীকালীন শাসনকালে মব সংঘাত, উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর দৌরাত্ম্য ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের লক্ষ্যকে কিছুটা ব্যাহত করেছিল। বিচারপ্রক্রিয়া ও সংস্কারের কাজ এগিয়ে নিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের পর ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকার তাদের দায়িত্ব শেষ করে।
বর্তমানে দেশ পরিচালনার ভার পাওয়া বিএনপি সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো অস্থিতিশীল অর্থনীতি পুনর্গঠন, ব্যাংক ও জ্বালানি খাতের বিশৃঙ্খলা দূর করা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি হ্রাস এবং আইনশৃঙ্খলা ফেরানো। এসব সংস্কার বাস্তবায়ন ছাড়া সামাজিক সম্প্রীতি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা অসম্ভব। এছাড়া বিচার বিভাগ, পুলিশ, দুদক এবং আমলাতন্ত্র সংস্কারের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া প্রয়োজন।
জাতিসংঘসহ বিভিন্ন অনুসন্ধানে উঠে আসা জুলাই-আগস্টের গণহত্যা, নির্বিচার গ্রেপ্তার ও গুমের সঙ্গে জড়িত বিগত সরকারের ব্যক্তি ও বলপ্রয়োগকারী বাহিনীর সদস্যদের উপযুক্ত বিচার নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে নিরপরাধ কেউ হয়রানির শিকার না হন। গণতান্ত্রিক রূপান্তরের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা এগিয়ে নিতে বর্তমান নির্বাচিত সরকারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
