জাতীয় সংসদে খাদ্যমন্ত্রী: দেশে খাদ্যশস্যের পর্যাপ্ত মজুত, নেই ঘাটতি
দেশে বর্তমানে খাদ্যশস্যের কোনো ঘাটতি নেই বলে সংসদে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। তিনি জানান, সরকারি গুদামগুলোতে নির্ধারিত নিরাপত্তার তুলনায় বেশি শস্য গচ্ছিত রয়েছে।

জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম জানান যে, বাংলাদেশে বর্তমান সময়ে খাদ্যশস্যের কোনো ঘাটতি নেই। সরকারি গুদামসমূহে যে পরিমাণ নিরাপত্তা মজুত রাখার নিয়ম রয়েছে, বর্তমানে সংরক্ষিত খাদ্যশস্যের পরিমাণ তার চেয়েও অনেক বেশি।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সংসদীয় অধিবেশনে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য মো. মশিউর রহমান খানের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি তথ্য দেন যে, ২০২৬ সালের ৩০ আগস্ট পর্যন্ত সরকারি শস্যাগারগুলোতে মোট ২৪ লাখ ৩৭ হাজার ৮০৭ মেট্রিক টন খাদ্য সামগ্রী গচ্ছিত ছিল।
খাদ্যমন্ত্রী জানান, গত ৬ আগস্ট খাদ্য পরিকল্পনা ও পর্যবেক্ষণ কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বাভাবিক সময়ে সরকারি পর্যায়ে ১৪ লাখ মেট্রিক টন এবং সংকটকালে ১৫ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য নিরাপত্তা মজুত রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে চাল বা গমের সংকট তৈরি হওয়ার কোনো অবকাশ নেই।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ‘ফুড আউটলুক’ প্রতিবেদনের তথ্য দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে চালের সার্বিক চাহিদা ছিল ৪ কোটি ২৩ লাখ মেট্রিক টন। এর বিপরীতে বাজারে মোট সরবরাহ ছিল ৪ কোটি ৩৬ লাখ ৫২ হাজার মেট্রিক টন। সরবরাহকৃত চালের মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে এসেছে ৪ কোটি ২৪ লাখ ৬৭ হাজার মেট্রিক টন এবং আমদানির মাধ্যমে আনা হয়েছে ১২ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন।
একই অর্থবছরে ৮২ লাখ মেট্রিক টন গমের চাহিদার বিপরীতে সার্বিক সরবরাহ ছিল ৮৩ লাখ ৬৭ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে দেশীয় উৎপাদন ছিল ১০ লাখ ২৯ হাজার মেট্রিক টন এবং বাকি ৭৩ লাখ ৩৮ হাজার মেট্রিক টন আমদানি করা হয়।
আন্তর্জাতিক সংস্থার পূর্বাভাস তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে চালের চাহিদা বেড়ে ৪ কোটি ২৬ লাখ মেট্রিক টন এবং গমের চাহিদা ৮৩ লাখ মেট্রিক টন হতে পারে। বাজারে খাদ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ অক্ষুণ্ন রাখা এবং দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারি ও বেসরকারি উভয় মাধ্যমেই চাল ও গম ক্রয়ের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে।
