গোশতকে ‘মাংস’ বললে কি পাপ হয়: ইসলামি বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা
গোশতকে ‘মাংস’ বললে কোনো পাপ হয় না বলে জানিয়েছেন ইসলামি গবেষকরা। সংস্কৃত শব্দ ‘মাংস’-এর প্রকৃত অর্থ জীবদেহের নরম অংশ, মায়ের অংশ নয়।
-6a99421b2170b.jpg)
পশুদেহের হাড় ও চামড়ার ভেতরের কোমল অংশকে গোশত বা মাংস বলা হয়ে থাকে। তবে গোশতকে ‘মাংস’ বলা অনুচিত এবং তা বললে গুনাহ হবে—এমন একটি ভুল ধারণা সমাজে প্রচলিত রয়েছে। একাংশের মতে, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের গরু ভক্তির কারণে ‘মাংস’ শব্দটির অর্থ নাকি ‘মায়ের অংশ’। তবে খাসি কিংবা মহিষের পশুর ক্ষেত্রেও এই শব্দ ব্যবহার হওয়ায় এই দাবির কোনো যৌক্তিকতা দেখা যায় না।
ভাষাবিজ্ঞান ও অভিধান অনুযায়ী, ‘মাংস’ শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে সংস্কৃত রূপ ‘মন+স’ থেকে। এর প্রকৃত অর্থ হলো জীবদেহের ভেতরের হাড় ও চর্মের মধ্যবর্তী নরম টিস্যু। ফলে শব্দটির সঙ্গে ‘মায়ের অংশ’ ধারণার কোনো সম্পর্ক নেই। তাই গরুসহ যেকোনো হালাল পশুর গোশতকে মাংস বলতে কোনো ধর্মীয় বাধা বা গুনাহ নেই।
ধর্মীয় গবেষকদের মতে, গোশতকে মাংস সম্বোধন করতে কোনো সমস্যা নেই। ইসলামে প্রচলিত এসব প্রতিশব্দ ব্যবহারে কোনো ধরনের নিষেধ করা হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইসলামি বক্তা শায়খ আহমাদুল্লাহ জানান, গোশতকে মাংস বললে গুনাহ হবে—এমন জোরযুক্ত ধারণার ভিত্তি নেই। তিনি উল্লেখ করেন, মুসলিমরা মায়ের অংশ বিবেচনা করে গরু বা অন্য পশুর গোশতকে মাংস বলে না। তাই গোশতের বদলে মাংস ব্যবহারে পাপ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
