ক্যানসার ও জটিল রোগ দ্রুত শনাক্তে জরুরি ৫টি স্বাস্থ্য পরীক্ষা

লাইফস্টাইল ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪৬২৬

লক্ষণ প্রকাশের আগেই ক্যানসারের মতো মারাত্মক ব্যাধি শনাক্ত করতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জুড়ি নেই। সঠিক সময়ে স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে ফুসফুস, স্তন ও কোলন ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বহুলাংশে কমানো সম্ভব।

ক্যানসার ও জটিল রোগ দ্রুত শনাক্তে জরুরি ৫টি স্বাস্থ্য পরীক্ষা

মানবদেহে বহু জটিল ব্যাধি অলক্ষে ছড়াতে থাকে, যার বাহ্যিক লক্ষণ অনেক বিলম্বে দেখা দেয়। ততদিনে অসুস্থতা চরম রূপ নিতে পারে। তাই নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষা ও প্রতিরোধমূলক স্ক্রিনিং অত্যন্ত জরুরি। শুরুতেই ব্যাধি ধরা পড়লে উপযুক্ত চিকিৎসার সুযোগ মেলে, যা জীবনরক্ষায় বড় ভূমিকা রাখে।

পরিপাকতন্ত্র ও বৃহদন্ত্র পর্যবেক্ষণ করতে কোলনোস্কপি ও সিগময়েডোস্কপির মতো এন্ডোস্কোপিক পরীক্ষা করা হয়। ক্যানসার হওয়ার আগেই অস্বাভাবিক টিস্যু বা পলিপ কেটে ফেলা সম্ভব এসব পরীক্ষার মাধ্যমে। চিকিৎসকদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় কোলন ক্যানসারজনিত মৃত্যুর হার প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো যায়।

স্তন ক্যানসারের পূর্বলক্ষণ বুঝতে স্বল্পমাত্রার এক্স-রেভিত্তিক ম্যামোগ্রাফি জরুরি। এটি ক্যানসারের আশঙ্কা প্রায় ২০ শতাংশ এবং মৃত্যুর ঝুঁকি ২২ শতাংশের মতো হ্রাস করে। অন্যদিকে, জরায়ুমুখের ক্যানসার ঠেকাতে প্যাপ স্মিয়ার পরীক্ষাটি অত্যন্ত কার্যকর, যা ক্যানসার সৃষ্টির বহু পূর্বেই কোষের পরিবর্তন ধরে ফেলে। নিয়মিত এই স্ক্রিনিংয়ের ফলে জরায়ুমুখের ক্যানসারে প্রাণহানি ৭০ শতাংশের বেশি কমেছে।

ধূমপায়ী বা অতীতে ধূমপান করতেন এমন ব্যক্তিদের জন্য লো-ডোজ বুকের সিটি স্ক্যানের পরামর্শ দেওয়া হয়। এর সাহায্যে লক্ষণ প্রকাশের আগেই ফুসফুসে ক্যানসারজনিত অস্বাভাবিকতা নির্ণয় করা যায়, যা মৃত্যুঝুঁকি ২০ শতাংশ কমায়। এছাড়া পুরুষদের ক্ষেত্রে পেটের আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে প্রধান ধমনির মারাত্মক ফোলা বা ‘অ্যাবডোমিনাল অ্যাওর্টিক অ্যানিউরিজম’ শনাক্ত সম্ভব। এর ফলে অ্যানিউরিজম ফেটে মৃত্যুর আশঙ্কা ৩৩ শতাংশের মতো হ্রাস পায়।

তবে এসব পরীক্ষার ফল ভালো এলেই যে কেউ পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত, এমনটি ভাবা ঠিক নয়। প্রয়োজনভেদে অতিরিক্ত পরীক্ষার দরকার হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, রোগভোগের পর প্রতিষেধক নেওয়ার চেয়ে আগাম সতর্কতা বজায় রাখা চিকিৎসাব্যবস্থায় সবচেয়ে ফলপ্রসূ কৌশল।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন