ওজন নিয়ন্ত্রণে রেখে যেভাবে খাদ্যতালিকায় ভাত রাখবেন: পুষ্টিবিদের পরামর্শ

লাইফস্টাইল ৬ আগস্ট ২০২৬ ২৯৯৮

শারীরিক ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাবার থেকে ভাত একেবারে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। পুষ্টিবিদদের মতে, পরিমিত মাত্রায় সঠিক নিয়মে ভাত খেলেও মেদ বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকে না।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রেখে যেভাবে খাদ্যতালিকায় ভাত রাখবেন: পুষ্টিবিদের পরামর্শ

মেদ বৃদ্ধি এড়াতে অনেকেই দৈনন্দিন খাবার থেকে ভাত ছেঁটে ফেলে ওটস বা কিনোয়ার মতো বিকল্প খাদ্য গ্রহণ শুরু করেন। তবে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, কেবল ভাত খাওয়ার কারণেই শরীর স্থূল হয়ে পড়ে—এই ধারণা সত্য নয়।

ভাতে থাকা জটিল শর্করা মানবদেহকে প্রয়োজনীয় শক্তি জোগায়। ফলে ওজন কমানোর প্রক্রিয়াতেও পরিমিত মাত্রায় ভাত খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপযোগী হতে পারে। খাদ্যতালিকা সাজানোর ক্ষেত্রে পুষ্টিবিজ্ঞানীরা একটি প্লেটকে চার ভাগে ভাগ করার কথা বলেন। এর অর্ধেক জুড়ে থাকবে নানা ধরণের শাকসবজি ও ফলমূল। এক-চতুর্থাংশ অংশে মাছ, ডিম, মুরগি, ডাল বা পনিরের মতো চর্বিহীন প্রোটিন এবং বাকি এক-চতুর্থাংশে ভাত বা শর্করাজাতীয় খাবার রাখা উচিত।

কারো দৈনিক কত ক্যালোরি প্রয়োজন, তা বয়স, লিঙ্গ, ওজন ও দৈহিক পরিশ্রমের ধরনের ওপর নির্ভর করে। উদাহরণস্বরূপ, ৬৫ কেজি ওজনের একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের দৈনিক গড়ে ২,১১০ ক্যালোরি এবং সমওজনের নারীর জন্য ১,৬৬০ ক্যালোরি আবশ্যক। এক কাপ সিদ্ধ সাদা ভাত থেকে প্রায় ২০০ ক্যালোরি মেলে; তাই প্রতিদিনের খাবারে আধা থেকে এক কাপ ভাত যুক্ত রাখা যায়।

খাবারের পরিমাণ সামলে রাখাই এখানে আসল বিষয়। অতিরিক্ত ভাত গ্রহণ করলে অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট চর্বি হিসেবে দেহে জমতে শুরু করে। ভাতের সাথে পর্যাপ্ত সবজি, ডাল এবং লিন প্রোটিন সমৃদ্ধ উপাদান যোগ করলে যেমন খাবারের ভারসাম্য বজায় থাকে, তেমনি দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে।

লাল, কালো বা ব্রাউন রাইসে কম প্রক্রিয়াজাতকরণের কারণে সাদা চালের চেয়ে ফাইবারের পরিমাণ বেশি থাকে। তবে কেবল ব্রাউন রাইস খেলেই দ্রুত ওজন কমবে—এমন কোনো নিশ্চিত প্রমাণ মেলেনি। তদুপরি, এসব চাল তুলনামূলক ব্যয়বহুল এবং কারও কারও ক্ষেত্রে হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই সঠিক নিয়মে নির্দিষ্ট মাত্রায় সাধারণ সাদা ভাত খাওয়াও সমান উপকারী।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন