ওজন কমাতে ডায়েট পানীয় কতটা কার্যকরী, কী বলছেন পুষ্টিবিদ?
ওজন কমানোর প্রক্রিয়ায় কৃত্রিম শর্করামুক্ত কোমল পানীয় পানের অভ্যাস কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে সতর্ক করেছেন পুষ্টিবিদ লভনীত বাত্রা। বাজারচলতি এসব পানীয়ের বদলে তিনি ঘরোয়া পুষ্টিকর পানীয় গ্রহণের পরামর্শ দেন।

ওজন ঝরানোর প্রক্রিয়ায় অনেকেই খাদ্যতালিকা থেকে চিনি পুরোপুরি বাদ দিয়ে দেন। এই সুযোগে বাজারে থাকা বিভিন্ন শূন্য ক্যালোরি বা চিনিমুক্ত কৃত্রিম কোমল পানীয়ের চাহিদা তৈরি হয়। তবে এসব পানীয় পানে সত্যিই ওজন বশে থাকে কি না, তা নিয়ে সতর্ক করেছেন পুষ্টি বিশেষজ্ঞ লভনীত বাত্রা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় লভনীত উল্লেখ করেন, সুগার ফ্রি কিংবা ডায়েট ড্রিংকস খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। বোতলে জিরো ক্যালোরি লেখা থাকলেও তা পুরোপুরি ক্যালোরিমুক্ত নাও হতে পারে। তা ছাড়া ওজন কমানোর বিষয়টি কেবল ক্যালোরি বর্জনের ওপর নির্ভর করে না; বরং হরমোনের ভারসাম্য ও অন্ত্রের সুস্থতার ওপরও এটি অনেকাংশে নির্ভরশীল।
এই পুষ্টিবিদ আরও জানান, চিনি পুরোপুরি বর্জন করা সবসময় বুদ্ধিমানের কাজ নয়, কারণ মস্তিষ্কের কার্যকারিতায় শর্করার প্রয়োজন হয়। শর্করা সম্পূর্ণ বাদ দিলে মিষ্টিজাতীয় খাবারের প্রতি তীব্র আগ্রহ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি বাজারচলতি এসব পানীয়ে সুক্রোজসহ নানা রকম কৃত্রিম উপাদান ব্যবহার করা হয়, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর।
সোডাজাতীয় পানীয়ের বদলে তিনি কয়েকটি স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর বিকল্প বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন:
ছাতুর শরবত: ছাতু, লেবুর রস ও লবণ দিয়ে তৈরি এই পানীয় প্রোটিনে ভরপুর। রোদ থেকে ফেরার পর শরীরে দ্রুত শক্তি জোগাতে এতে অল্প চিনি মেশানো যেতে পারে, আবার চাইলে চিনি ছাড়াও পান করা সম্ভব।
ঘোল বা ছাস: টক দইয়ের সাথে পানি, সৈন্ধব লবণ, ভাজা জিরে গুঁড়ো, ধনেপাতা ও কাঁচামরিচ কুচি মিশিয়ে এই পানীয় তৈরি করা হয়। দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে।
পুদিনা-লেবুর শরবত: পুদিনাপাতা, পাতিলেবুর রস, বিট লবণ, পানি ও প্রয়োজনমতো চিনি মিশিয়ে তা বরফ ও লেবুর টুকরো সহযোগে তৈরি করা যায়। এটি পেট ঠাণ্ডা রাখার পাশাপাশি হজমে সহায়তা করে।
ডাবের পানি: ডাবের পানিতে থাকা সোডিয়াম ও পটাসিয়াম শরীরের খনিজ বা ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য ঠিক রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
