উচ্চশিক্ষায় কর্মমুখী সংস্কার ও চীনের দৃষ্টান্ত বাস্তবায়নের আহ্বান
চার বছরের স্নাতক শেষে বাস্তব দক্ষতার অভাব মেটাতে শিক্ষাব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। চীনের আদলে কর্মসংস্থানভিত্তিক পাঠক্রম চালুর ওপর এতে জোর দেওয়া হয়।

প্রথাগত চার বছরের স্নাতক শিক্ষা শেষে শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ থাকলেও বাস্তব দক্ষতার ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। মুখস্থনির্ভর পুরোনো পাঠ্যসূচির কারণে তরুণদের কর্মক্ষেত্রের উপযোগী দক্ষতা বিকশিত হচ্ছে না, যা বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতির প্রয়োজনের বিপরীত। গত ১৬ জুলাই ‘কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিতে চাই অভিন্ন পাঠক্রম’ শীর্ষক একটি প্রবন্ধে এই সংকট ও সমাধানের পথ তুলে ধরা হয়েছিল। এরপর অভিভাবক ও শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পর্যায়ে বিষয়টি ইতিবাচক সাড়া পায়। উচ্চশিক্ষায় আমূল পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত হিসেবে চীনের অভিজ্ঞতা স্মরণ করা যেতে পারে। দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০২৪ সালে ১,৪২৮টি স্নাতক কোর্স বাতিল করে শিল্প খাতের উপযোগী নতুন পাঠ্যক্রম চালু করে। সেখানে গবেষণার ক্ষেত্রে থিসিসের পাশাপাশি পণ্য তৈরি ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। একইভাবে এ দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় মাধ্যমিক পর্যন্ত মাতৃভাষা ও মৌলিক শিক্ষাকে প্রধান রেখে দর্শন বা সাহিত্যের মতো বিষয়গুলোকে ঐচ্ছিক করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা সম্পর্কিত বিভাগগুলোকে পুনর্গঠন করে ‘ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড গ্লোবাল কমিউনিকেশন স্কুল’-এর আওতায় এনে কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের উপযোগী যোগাযোগের দক্ষতায় জোর দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
