নিউইয়র্ক (ইউএনএ): বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকার প্রধান হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২৬ সেপ্টেম্বর শুক্রবার জাতিসংঘের চলতি ৮০তম অধিবেশনে ভাষণ দিবেন। তার ভাণকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও আওয়ামী লীগ পাল্টাপাল্টি সমাবেশ আহŸান করেছে জাতিসংঘ ভবনের সামনে। ফলে কমিউনিটির দেশীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশেষ করে গত ২২ সেপ্টেম্বর জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংঘটিত অপ্রীতিকর ঘটনার ফলে উভয় দলের নেতা-কর্মীদের মাঝে উত্তেজনা বাড়ছে। খবর ইউএনএ’র। প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সফর সঙ্গী বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সদস্য সচিব আখতার হোসেনকে নাজেহাল এবং ডিম নিক্ষেপের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে পরবর্তী কর্মসূচী শক্ত হাতে সফল করতে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন। ২৬ সেপ্টেম্বর শুক্রবার জাতিসংঘের অধিবেশনে ড. ইউনূস ভাষণ দেওয়ার সময় জাতিসংঘ ভবনের সামনে বিএনপি’র শান্তি সমাবেশ কর্মসূচী রয়েছে। এই কর্মসূচীতে আওয়ামী লীগ বাধা দিলে বা কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটালে তার পাল্টা প্রতিশোধ নেয়া হবে বলে দলের একাধিক নেতা-কর্মী জানিয়েছেন। ঐদিন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগেরও জাতিসংঘ ভবনের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচী রয়েছে।

এদিকে ড. ইউনূসের সফর সঙ্গী জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর, সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের-এর নিউইয়র্ক আগমন উপলক্ষ্যে প্রবাসী বাংলাদেশীর পক্ষ থেকে তাকে গণসংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকাল ৬:৩০ মিনিটে নিউইয়র্ক সিটির এস্টোরিয়া ওয়ার্ল্ড ম্যানরের বলরুমে এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে। অপরদিকে নিউইয়র্কের জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সদস্য সচিব আখতার হোসেনকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপকারী যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ কর্মী মিজানুর রহমান চৌধুরী মুক্তি পেয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যায় তাকে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ গ্রেফতার করে এবং পরদিন মঙ্গলবার তিনি মুক্তি পান। এদিকে তার মুক্তি উপলক্ষ্যে দলীয় নেতাকর্মীরা জ্যাকসন হাইটসে উল্লাসে ফেটে  পড়েন। মিজান মুক্তি পেয়ে সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসে ফিরে এলে দলীয় সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা অভিনন্দন জানান এবং গলায় মালা পরিয়ে দেন। এসময় ড. সিদ্দিকুর রহমান মিজানের মুক্তিকে আওয়ামী লীগের বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেন। এরপর তারা একে অপরকে মিষ্টিমুখ করিয়ে আনন্দ ভাগাভাগী করেন। এক পর্যায়ে মিজানকে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার সাথে ভিডিও কলে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেখা যায়।