উত্তর আমেরিকার নিউ ইয়র্কের জর্জ আইল্যান্ড পার্কের প্যাভিলিয়ন ২-এ গত ১০ আগস্ট ২০২৫, রোববার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই অ্যাসোসিয়েশন, নর্থ আমেরিকা ইনক-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ২৯তম বার্ষিক বনভোজন। এটি কেবল একটি পিকনিক নয়, ছিল এক হৃদয়ের উৎসব, এক অনন্য মিলনমেলা। সকাল থেকেই প্রকৃতি যেন অতিথিদের অভ্যর্থনার জন্য নিজেকে সাজিয়ে রেখেছিল। বাতাসের মৃদু ছোঁয়া, রোদে ঝলমলে আকাশ, আর মানুষের মুখে হাসির ঝলক—সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছিল এক আনন্দঘন পরিবেশ।
সকালের নাশতার মধ্য দিয়ে দিনের শুভসূচনা হয়। ক্রোসান্ট, কলা, ডিম আর গরম কফির স্বাদে সকালের শুরুটা হয়ে ওঠে প্রাণময়। এরপর পার্কেই তৈরী হয় সুস্বাদু সব খাবার। রনি ও তাঁর দলের হাতের বারবিকিউ, মুখরোচক কাচ্চি বিরিয়ানি, তাজা সালাদ, বোরহানি, গোলাপজাম আর সারাক্ষণের চায়ের আসর—সবকিছুই যেন শুধুই খাবার নয়, ছিল ভালোবাসার আন্তরিক বহিঃপ্রকাশ। প্রতিটি ক্ষণেই ছিল অতিথিপরায়ণতার উষ্ণতা আর হৃদয়ের আন্তরিক স্পর্শ।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন-এর বনভোজনের শুভ উদ্বোধন করেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকার প্রধান উপদেষ্টা জনাব পারভেজ গাজী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন পিকনিক কমিটির আহ্বায়ক ও কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান বকুল। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন— জনাব পারভেজ কাজী, মোহাম্মদ হাসেম, দিবাকর সেন, মোসাদ্দেক হোসেন, বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও সুরকার তাজুল ইমাম এবং স্বপ্না ইমাম, ডাঃ সায়েরা হক ও তাঁর স্বামী হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আলম ও সাধারণ সম্পাদক রুহল সরকার, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সৈয়দ মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুস সবুর, সন্দীপ সোসাইটির সভাপতি ফিরোজ আহমেদ, চট্টগ্রাম সমিতির সভাপতি মাকসুদুল হক চৌধুরী, মিসেস শাহিদা হাই, শুভাকাঙ্ক্ষী জনাব মোকাররম আহমেদ, এবং চিটাগাং রাইজিং স্টারস-এর সদস্য সচিব ইকবাল হোসেন, আলী নূর, ফরহাদ হোসেন।
সাধারণ সম্পাদক মীর কাদের রাসেল এবং সভাপতি শারমিন নিহার নিরুর দক্ষ নেতৃত্বে পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুচারুভাবে সম্পন্ন হয়। তাঁদের পাশে থেকে নিবিড়ভাবে সহযোগিতা করেছেন শুভাশিস বড়ুয়া, ফারহানা আক্তার, মাকসুদা খানম, সাইফুল ইসলাম, ইকবাল হাসান, গোলাম মোহাম্মদ মুহিত, সাইফুল ইসলাম দিদার, মাহফুজুল হাসান কিশোর, শিলা, ফরিদা আক্তার, অনুপ দাস ও জান্নাতুল মুরশিদা। তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও আন্তরিক সহযোগিতায় পুরো অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত, হৃদয়গ্রাহী ও স্মরণীয়।
এই আনন্দঘন দিনে সুরের জাদু ছড়িয়ে দেন স্বপ্নীল সজীব। তাঁর কণ্ঠে ছিল স্নিগ্ধতা, তাঁর গানে ছিল আবেগের গভীরতা। আমরা যারা বাংলা সংস্কৃতির টানে বড় হয়েছি, তাঁদের জন্য সঙ্গীত মানেই অনুভবের ভাষা। আর সেই ভাষার অনুবাদক হয়ে স্বপ্নীল সজীব যেন হয়ে উঠেছিলেন আমাদের হৃদয়ের সুর। বনভোজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল র্যাফেল ড্র। পুরস্কারের তালিকায় ছিল ৪৫ ইঞ্চি টিভি, ল্যাপটপ, আইফোন, আইপ্যাড, এয়ার ফ্রায়ার, মাইক্রোওয়েভ, স্ট্যান্ড ফ্যান। স্পনসরদের মধ্যে ছিলেন তারেক আব্দুল্লাহ, মাকসুদা খানম, জি.এম ফারুক, মাকসুদা হক চৌধুরী, গোলাম মোহাম্মদ মুনিত, মার্কস হোম কেয়ার, মামুন গ্রোসারী, চিটাগাং রাইজিং স্টারস—যাঁদের উদারতা ও ভালোবাসা এই আয়োজনকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
পুরস্কার বিতরণ করেন কবিতা সেন, সঞ্জীব তালুকদার, তারেক আব্দুল্লাহ, মাকসুদা খানম, পারভেজ কাজী, মিনারা কাজী, দিবাকর সেন,অধ্যাপক গোলাম মোহাম্মদ মুহিত এবং ওয়াহিদুজ্জামান বকুল, ত্রিদিব চৌধুরী, অনুপ দাস, এই আয়োজনকে সফল করতে বিশেষ অবদান রেখেছেন কবিতা সেন, সনজীব তালুকদার, মোঃ হুমায়ুন কবির, ডঃ ছায়েদা হক, আবদুল আজিজ নাঈমী, অধ্যাপক আক্তার হোসেন, ডঃ আকাশ, আবদুল কাদের মিয়া, নিজাম উদ্দিন, মোহাম্মদ হাসেম, জেসমিন আহমেদ যাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন আয়োজকরা। এই বনভোজন প্রমাণ করে দিয়েছে—চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এলামনাই শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি একটি পরিবার। যেখানে হাসি, গল্প, স্মৃতি আর ভালোবাসা একসাথে গাঁথা। এই মিলনমেলা আমাদের শিকড়ের সঙ্গে সংযোগ, আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে আত্মিক বন্ধন। প্রবাসে থেকেও আমরা ভুলে যাইনি আমাদের শেকড়, আমাদের মানুষ, আমাদের সম্পর্ক। এই দিনটি ছিল সেই স্মৃতির পুনর্জন্ম। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের জীবনের এক স্মরণীয় অধ্যায়। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের প্রতিটি স্মৃতি, প্রতিটি মুখ, প্রতিটি মুহূর্ত আজও আমাদের হৃদয়ে জ্বলজ্বল করে। আজকের এই আয়োজন… সেই সোনালি দিনের স্মৃতিগুলোকেই আবারও জাগিয়ে দিলো।
