সাদা-কালোর নায়ক সরকার কবীরূদ্দীনের গল্প - মো: সিরাজুল ইসলাম

সাদা-কালোর নায়ক সরকার কবীরূদ্দীনের গল্প
মো: সিরাজুল ইসলাম
মাত্র তিনটি সিনেমায় অভিনয় করেই ঢাকাই সিনেমার এক নায়ক লিজেন্ড অভিনেতা হয়ে আছেন। আর তা দিয়েই দর্শক হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন। আবার রূপালী পর্দার জগৎ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন স্বল্পকালের ব্যবধানেই। কী গভীর রহস্য কাজ করেছে এমন হঠাৎ আলোর ঝলকানির পেছনে? ফিরে দেখা যাক তাহলে। এ নায়কের গল্পে কৌতূহল মিটবে অনেক পাঠকের,স্মৃতি জেগে উঠবে অনেক শ্রোতা-দর্শকের।
‘নতুন নামে ডাকো আমায় এই তো ছিল কামনা-’ ইউটিউবে সার্চ দিলে আজও এ গান শ্রোতার মনে গুণগুণিয়ে সুর তোলে। তাঁর অভিনীত সিনেমার গানগুলো একালের প্রজন্মকেও সুরেলা আবেশ দেবে। এক সময়ে অন্যতম শহুরে বিনোদন ছিল হলে গিয়ে সিনেমা দেখা। যখন মিষ্টি প্রেমের নিটোল গল্প ঢাকার সিনেমার দর্শককে ভীষণভাবে আকৃষ্ট করতো। সে সিনেমা রঙিন নয়। সাদা কালোয় নির্মিত সিনেমাতেই ঝলমল করে উঠতো রূপালী পর্দা। কোন্ ছবি কবে কোন্ হলে মুক্তি পাবে সে খবরে দর্শককূল অপেক্ষার প্রহর গুণতো। সে সব সিনেমার মেলোডিয়াস গানগুলোও দর্শক শ্রোতাকে মোহাবিষ্ট করে ফেলতো। হলের দেখা সিনেমার গান শোনানোর জন্য রেডিওতে অনুরোধের আসরে বিপুল চিঠি যেতো ডাকযোগে।
স্বাধীনতাপূর্বকালের ঢাকার সেসব সিনেমাগুলোকে কোলকাতার,বোম্বের বা করাচির সিনেমার সঙ্গে তীব্র লড়াই করে বাজার পেতে হতো। দর্শক ছিলেন অধিকাংশ বইপড়া সাহিত্য রুচির। সিনেমা দেখে বলতো বই দেখে এলাম। তাদের সাংস্কৃতিক চেতনা ছিল পেশা নির্বিশেষে পরিচ্ছন্ন ভাবধারার। নায়ক নায়িকার দু:খ-কষ্টে দর্শক চোখের পানি ঝরাতো। নায়ক নায়িকাকে নিজের জীবনে ছায়াপাত করে আপন করে নিতো। এখনকার মানবজমিন পত্রিকার মতো ট্যাবলয়েড সাপ্তাহিক পূর্বাণী কিংবা চিত্রালীর পাতায় ঝলমল করে শোভা পেতো সেকালের সিনেমার বিজ্ঞাপন। সিনেমার সে রোমান্টিক নায়ককে এদেশের মানুষ আজও এক নামে চেনে তবে ভিন্ন পরিচয়ে। তিনি একসময়ের রেডিও টিভির সেলিব্রেটি তারকা সংবাদ পাঠক সরকার কবীরূদ্দীন। শুধু দেশের নয়,বিদেশী রেডিওতে খবর পড়েছেন দীর্ঘকাল। এখন অবসর যাপন করছেন আমেরিকাতে। ছিলেন রাষ্ট্রীয় বিমান,বাংলাদেশ বিমানের চৌকষ জনসংযোগ কর্মকর্তা বা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা।
এবার একটু পেছন থেকে বলি। কুষ্টিয়াতে ছিল তাঁদের আদি নিবাস।
কোলকাতার জিটি রোড ধরে এগিয়ে মধুপুর,হালের গৌয়াতে মামা বাড়িতে জন্ম তাঁর। তারিখটা ১৬ই জুলাই ১৯৪৩।
ডাক বিভাগের কর্মকর্তা বাবা রহমত উল্লাহ সরকার,মা জাহানারা সরকার ছিলেন গৃহিনি।
পোস্টাল ইনসপেক্টার বাবার বদলি সূত্রে কোলকাতার খিদিরপুরে তাঁর শৈশব কাটে। দেশভাগ হলো,পূর্ববাংলায় চলে এলেন সবাই। স্কুল জীবন শুরু হলো। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন ভাইদের সাথে। গোপালগঞ্জে, ফরিদপুরে থাকাকালে শৈশবের পড়াশুনা শুরু। জীবন কেটেছে ঢাকায় এবং করাচিতে। ঢাকার নবাবগঞ্জ এলাকায় ভাড়া বাড়িতে পরে টিএন্ডটি কলোনীতে থেকেছেন। লেখাপড়া প্রিয়নাথ হাইস্কুলে,এখন যার নাম নবাবপুর গভর্ণমেন্ট হাই স্কুল। কাব-স্কাউট কতেন। পাড়ার সৌখিন নাট্যদলে অভিনয়ে শৈশবেই সেলিব্রেটি হয়ে উঠেছিলেন। যাঁর ডাক নাম ‘মন্টু’। ছেলেবেলার মন্টু সরকার স্বপ্ন দেখতেন সিনেমার নায়ক হবার,শিক্ষক হবার। শৈশবের সেসব স্মৃতি উজ্জ্বল হয়ে আছে তাঁর মানসপটে। কাব স্কাউটে আবৃত্তি,নাটকে আগ্রহের কারণে পড়াশুনায় মন ছিল না তাঁর মোটেই। মা পাঠিয়ে দিলেন কঠোর শৃঙ্খলার মামার কাছে কোলকাতায়। তিন বছর সেখানে থেকে ম্যাট্রিকুলেশন করে এলেন।
নৈতিকতা শিক্ষা, শিক্ষার গুরুত্ব,শিক্ষকের ভ‚মিকাকেও বড় করে দেখেন এই নায়ক। শিক্ষার জন্য চাই জীবন-ঘনিষ্ঠ পরিবেশ। তাঁর দৃষ্টিতে শিক্ষকতা বহুলাংশে কেবল পেশা নয়,মানুষ তৈরির দরগা বা আশ্রম। অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ দর্শন বিতরণ করে শিক্ষার্থীর অনুসন্ধিৎসা জাগিয়ে তোলেন একজন আদর্শ শিক্ষক। এভাবে গড়ে ওঠে তার মনন। সে মননে গড়ে ওঠে ছন্দোময় জীবন-অনেকটা এভাবেই সরকার কবীরূদ্দীন শিক্ষক আর শিক্ষকতার মূল্যায়ন করার চেষ্টা করেন।
আবার ঢাকায় ফিরে জগন্নাথ কলেজে আইএসসি পড়েছেন মাস ছয়েক। প্রখ্যাত সাংবাদিক শফিক রেহমানের বাবা অধ্যাপক সাইদুর রহমান তখন প্রিন্সিপাল। মন্টুর বাবার চাকরিতে বদলি হলো সুদূর পশ্চিম পাকিস্তানের করাচিতে। তখনতো অখন্ড পাকিস্তান। কলেজ ট্রান্সফার নিয়ে ভর্তি হলেন করাচির ‘নাজমাবাদ সেন্ট্রাল গভর্ণমেন্ট কলেজে’। কলেজে ভর্তি হয়ে আবার নাট্য জগতে সক্রিয় হয়ে উঠলেন। ‘কাটরাক’ হলে বাঙালি সম্প্রদায়ের আয়োজনে নিয়মিত অভিনয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। প্রফেসর মুজিবুর রহমান খান এবং অন্যান্যদের পেয়েছেন নাট্য কুশীলব হিসেবে। শিক্ষকদের প্রতি ছিল তাঁর অগাধ শ্রদ্ধা।
কলেজে পড়াকালেই অডিশন দিয়ে রেডিওতে খবর পড়া শুরু তাঁর ১৯৬০ সাল থেকেই। করাচি টিভির প্রথম সংবাদ পাঠক তিনি। সেসময়ে বেতারে কাজ করা প্রফেসর মুজিবুর রহমান খাঁন,আব্দুর রউফ প্রমুখ ছিলেন তাঁর আইডল। তখন পাঠক হিসেবে একবেলা সংবাদ অনুবাদের কাজও করতে হতো। পারিশ্রমিক প্রতিদিন আট টাকা। তখনকার দিনে আট টাকা সমান দুই ডলার। অথচ শৈশবে এই সংবাদ পাঠকের নিজেদের বাড়িতে কোনো রেডিও ছিলনা। রেডিও শুনতে হতো বিত্তবান আত্মীয় বা পড়শিবাড়ি গিয়ে।
বিজ্ঞানে আইএসসি শেষ হলো এভাবে। বিএ অনার্স বা এমএ কোনটাই তাঁর আর করা হয়নি। করাচী বিশ^বিদ্যালয় থেকে ¯্রফে পাসকোর্সে বিএ ডিগ্রি নিয়েই প্রচলিত একাডেমিক জীবন তাঁর শেষ হয়েছিল।
পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স পিআইএর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নিয়মিত চাকরি পেলেন ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে। পিআইএর কর্মকর্তা হিসেবে ‘মডার্ন মেথডস ইন ল্যাংগুয়েজ টিচিং’ শীর্ষক তিন মাসের প্রশিক্ষণে লন্ডন গেলেন। প্রশিক্ষণে গিয়ে নাজির আহমদ,সৈয়দ শামসুল হক,আব্দুল গাফফার চৌধুরী,মানসী বড়–য়া প্রমুখ বেতার ব্যক্তিত্বের সান্নিধ্য পান।
করাচিতে তখন তাঁর ব্যস্ততম সময়। রেডিওতে সকাল ৭টার খবর পড়া। আরেক বেলায় অনুবাদের কাজ। চাকরির সাথে ডিপার্টমেন্ট অব ফিল্মস এন্ড পাবলিকেশন স্টুডিওতে গিয়ে চিত্রে পাকিস্তানী খবরের স্ক্রিপ্ট লেখা,কন্ঠ দেবার কাজ করতেন। বিজ্ঞাপন চিত্রের স্ক্রিপ্ট এবং লেখার কাজ করতেন ভিন্ন দপ্তরে। সন্ধ্যায় আবার বেতারে খবর পড়া। শুধু করাচি বেতার নয়,বার্তা সম্পাদকের অনুরোধে মাসে অন্তত একবার ডিআইটি ভবনের ঢাকা টিভিতে এবং ঢাকা রেডিওতে এসে খবর পড়ে যেতেন।
সেই সময়ে হৃদয়ের বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ারে জীবন-সঙ্গী করে নিলেন কাশ্মীরী কন্যা ‘নিশাত গুল’কে। এখন যিনি নিশাত কবীর,পুরোদস্তুর বঙ্গ ললনা যেন!
এ পর্যায়ে সরকার কবীরের মা জাহানারা সরকার ক্যান্সারে মারা গেলেন।
১৯৬৫ সালের ভারত পাকিস্তান যুদ্ধের কিছুদিন পরের কথা। করাচিতে মমতাজ আলী নামে একজন তাঁর পরিকল্পিত ‘নতুন নামে ডাকো আমায়’ ছবিতে নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করার জন্য সরকার কবীরূদ্দীনকে অফার দেন নায়িকা সুচন্দার বিপরীতে। তিনি সে আমন্ত্রণ গ্রহণ করে চুক্তিবদ্ধ হন। সে ছবির কাহিনি চিত্রনাট্য,সংলাপ,গীতিকার ছিলেন সে সময়কার ট্যাবলয়েড সিনে পত্রিকা চিত্রালীর সম্পাদক আহমদ জামান চৌধুরী ‘আজাচৌ’। ঢাকার এফডিসিতে চিত্রায়িত এই ছবির তত্ত¡াবধায়ক পরিচালক ছিলেন জহির রায়হান। ঢাকা থেকে পাঠানো সিডিউল অনুযায়ী করাচি থেকে ঢাকায় এসে ২/৩ দিন অভিনয় সেরে আবার ফিরে যেতেন সরকার কবীরূদ্দীন।
ঢাকায় এসে উঠতেন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অথবা তাঁর বাবার ভাড়াবাড়ি নয়াপল্টনে,এখনকার বিএনপির অফিসভবন যেটি। ছবির থিম সঙ্গীত ‘কে তুমি এলে গো আমার এ জীবনে’- গানটি দ্বৈত কন্ঠে গেয়েছিলেন পাকিস্তানের গায়ক আহমেদ রুশদী,এবং লাহোরের গায়িকা নাহিদ নিয়াজী। একসময় গায়িকা নিয়াজীর গাওয়া
‘আকাশের ওই মিটি মিটি তারার সাথে কইবো কথা,
নাইবা তুমি এলে’-দারুণ জনপ্রিয় হয়েছিল। এ ছবির সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন আলী হোসেন।
এরপর তাঁর অভিনীত দ্বিতীয় ছবির নাম ‘নতুন ফুলের গন্ধ’। সরকার কবীরূদ্দীনের বিপরীতে এ ছবিতে নায়িকা ছিলেন কবরী। ঢাকার মতিঝিলের পুলিশ হাসপাতালের ওখানে চিত্রায়িত হয়েছিল। নায়িকা ছাড়া অন্যসব প্রায় একই রকম ছিল। এ ছবিটি বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর কোলকাতার মেট্রো সিনেমাতেও রিলিজ হয়েছিল।
নায়ক হিসেবে সরকার কবীরূদ্দীনের তৃতীয় এবং শেষ ছবির নাম ‘মায়ার সংসার’। এটি এখনও ইউটিউবে সার্চ দিয়ে দেখা যাবে। এ ছবি কোলকাতার ‘বসু পরিবার’ ধাঁচের একটি পরিবেশনা।
ছবিটি নির্মিত হয় ছবির প্রযোজক সুমিতা দেবীর ব্যানারে,সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন সত্য সাহা। পরিচালক প্রফেসর মাহমুদুর রহমান। আর নায়িকা ছিলেন সুজাতা।
এরপর তিনি আর অভিনয় করতে পারেননি। ব্যক্তিগত কারণে মমতাজ আলীর ‘রক্তাক্ত বাংলা’,জহির রায়হানের ‘লেট দেয়ার বি লাইট’,এবং কোলকাতার এক পরিচালকের ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ ছবিগুলোতে অভিনয় করতে না পারায় সাইনিং মানি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন নায়ক কবীর ।
এই নায়ক বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ তথা একাত্তুর পূর্ব এবং একাত্তুর পরবর্তীকালে করাচিতে আটকে পড়েছিলেন। ঊনিশশো বাহাত্তুর সালে করাচি থেকে পালিয়ে দুর্গম পথে আফগানিস্তান,দিল্লি,কোলকাতা হয়ে দেশে ফিরে দেশের মাটিতে চুম্বন করেছিলেন মাথা নুয়ে। আসার পথে কোলকাতা নিউমার্কেট এলাকায় নিজের অভিনীত নতুন ফুলের গন্ধ সিনেমার পোস্টার দেখেছেন। নিদারুণ অর্থকষ্টের কারণে সে সিনেমা নিজে দেখতে পারেননি। ঢাকায় ফিরে বাংলাদেশ বিমানের চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। করাচিতে গাড়িসহ সবকিছু ফেলে এসেছিলেন,তবুও বাংলাদেশ সরকারের প্রস্তাবে সরকারি বরাদ্দের বাড়ি-গাড়ি নেননি।
সেইসাথে ঢাকার বেতার টিভিতে খবর পড়তে ব্যস্ত হয়ে উঠলেন,তবে অভিনয়ের ছেদ আর পূরণ করতে পারেননি। তাঁর পিতাও অভিনয় ক্যারিয়ার পছন্দ করতেন না। যদিও তাঁর স্ত্রী নিশাত কখনোই বাঁধা হয়ে দাঁড়াননি। তবে সিনেমা ছাড়তে আরেকটি কারণ ছিল,তাঁদের জ্যেষ্ঠ কন্যা সন্তানের কান্না,যে কীনা অল্প বয়সেই পৃথিবীর মায়া ছেড়ে গেছে। সরকার কবীরের একটি ছবি দেখে মেয়ে খুব কান্নাকাটি করেছিল। নায়িকার সঙ্গে অন্তরঙ্গ একটি দৃশ্য দেখে কেঁদে কেঁদে চীৎকার করে বলেছিল,
‘হোয়াই দ্যাট ওম্যান ইজ উইথ মাই ফাদার? -আমার আব্বুর সাথে ওই মহিলা কেন’?
সেখান থেকেই সিনেমা ছেড়ে আসার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে যায়।
একসময় রাষ্ট্্রীয় কর্মীবাহিনীর বৈশিষ্ট্য হতো রাষ্ট্্রীয় স্বার্থ রক্ষা করা। নিরপেক্ষ ভ‚মিকায় থাকা। পিআইএ এবং বাংলাদেশ বিমানের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর ভূমিকা ছিল অনন্য। বিমানের কর্মকর্তা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের সফরসঙ্গী হয়ে রাওয়ালপিন্ডি গেছেন। আবার প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাথে পাকিস্তান গেছেন ১৯৭৭ সালে। জেনারেল এরশাদ এর সাথেও বৈদেশিক সফর করেছেন। তাঁর স্মৃতি থেকে রাষ্ট্রনায়কদের চেনা যাবে আলাদা করে। সার্ভিসের মান বজায় রাখায় দক্ষ,অনন্য পাবলিক রিলেশন্স পারফর্মার এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব সরকার কবীরূদ্দীনের গ্রহণযোগ্যতা ছিল এমনই। কর্মসূত্রে রাষ্ট্রনায়কদের সাথে তাঁর কয়েকটি বৈদেশিক ভ্রমণের গল্পও শোনানো যাবে আগামী কোনো লেখায়।
এ নায়ক বিটিভির সেরা সংবাদ পাঠকের সম্মাননা পান ১৯৭৬ সালে। ১৯৮৪ সালে ঢাকা ছেড়ে ভয়েস অব আমেরিকায়,ওয়াশিংটনে যোগ দেন। দীর্ঘকালের বলিষ্ঠ কন্ঠের লিজেন্ড সংবাদ পাঠক তিনি। বাংলা বিভাগের ম্যানেজিং এডিটর হিসেবে কর্মজীবন শেষ করেছেন ২০২০সালে। সেখানেই অবসর যাপন করছেন সপরিবারে,বাংলা সিনেমার বিস্মৃতপ্রায় এই নায়ক। ভালোবেসে কর্মে মনোযোগী হলে সফল হওয়া যায়-এই জীবন সঞ্চিত অভিজ্ঞতা তিনি তাঁর ভক্তদের দিতে চান। না তিনি হারিয়ে যাবেন না। সরকার কবীর আছেন অগণিত শ্রোতা-দর্শকের ভালোবাসার,ভালোলাগার বন্ধনে। সিনেমা পিপাসুর হৃদয়ে।
ছবিতে দেখুন



