নিউইয়র্কে চ্যানেল আই ‘বেস্ট সিঙ্গার’ সম্মাননা পেলেন রন্টি দাশ

লাইফস্টাইল ২০ অক্টোবর ২০২৬ ৪৫৮৯
নিউইয়র্কে চ্যানেল আই ‘বেস্ট সিঙ্গার’ সম্মাননা পেলেন রন্টি দাশ

আশরাফুল হাবিব মিহির

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও সম্মানিত হলেন বাংলাদেশের সংগীতশিল্পী রন্টি দাশ। যুক্তরাষ্ট্রে চ্যানেল আইয়ের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে ‘বেস্ট সিঙ্গার’ (সেরা গায়িকা) পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি। গত ১৮ অক্টোবর নিউইয়র্কের একটি হলে জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে রন্টি দাশের হাতে সম্মাননা তুলে দেন সফল নারী উদ্যোক্তা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কোনা রেজা।

চ্যানেল আইয়ের জন্মদিন উদ্‌যাপন উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে রন্টি দাশের এই স্বীকৃতি তাঁর সংগীতজীবনের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। এ সম্মাননার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলা গানের প্রতিনিধিত্বে তাঁর অবস্থানকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিলেন। দীর্ঘদিন ধরে বাংলা সংগীতের বিভিন্ন ধারায় কাজ করছেন রন্টি দাশ। আধুনিক গান, লোকসংগীত ও চলচ্চিত্রের গানে তাঁর সাবলীল উপস্থিতি শ্রোতাদের কাছে তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। আবেগময় কণ্ঠ, সুরের প্রতি সংবেদনশীলতা এবং নিজস্ব পরিবেশনাশৈলীর কারণে তিনি সংগীতপ্রেমীদের কাছে সমাদৃত।

২০০৬ সালে জনপ্রিয় টেলিভিশন সংগীত প্রতিযোগিতা ‘ক্লোজআপ ওয়ান: তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ’-এ অংশগ্রহণের মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পান রন্টি দাশ। প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে শুরু হওয়া তাঁর সংগীতযাত্রা পরবর্তী সময়ে বিস্তৃত হয়েছে অডিও গান, মঞ্চ পরিবেশনা ও চলচ্চিত্রের প্লেব্যাক পর্যন্ত। বিভিন্ন ধরনের গানে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর শিল্পীসত্তাকে করেছে আরও বৈচিত্র্যময়।

চলচ্চিত্রের গানেও রয়েছে তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান। বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেছেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে ‘শুভ বিবাহ’, ‘খোঁজ: দ্য সার্চ’, ‘দ্য স্পিড’ ও ‘বস্তির ছেলে কোটিপতি’। তাঁর পরিচিত গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘দেখো আমারি খুশিতে’, ‘হ্যালো বৃষ্টি’, ‘হৃদয় যেখানে’, ‘রং’, ‘উড়ালিয়া’, ‘ডাকাতি’, ‘একেলা’ ও ‘অভিমানি’। ২০১৪ সালে প্রকাশিত ‘দেখো আমারি খুশিতে’ এবং ২০১৭ সালের একক গান ‘ডাকাতি’ শ্রোতাদের মধ্যে সাড়া ফেলে। বিভিন্ন ধারার গানে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি শ্রোতাদের কাছে নিজের স্বতন্ত্র পরিচিতি গড়ে তুলেছেন।

চট্টগ্রামে জন্ম নেওয়া রন্টি দাশের সংগীতচর্চার শুরু শৈশব থেকেই। পারিবারিক উৎসাহ ও সহযোগিতায় তাঁর সংগীতচর্চার সূচনা। তাঁর বাবা সুবল কান্তি দাশ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং মা লাকী রানী দাশ একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। শৈশবের সেই আগ্রহই পরবর্তী সময়ে তাঁকে পেশাদার সংগীতজীবনের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। শিশু সংগীত প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি’ তে ২০০২ সালে বিজয়ী হওয়ার পাশাপাশি ১৯৯৫ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত টানা ছয়টি জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেন - যা তাঁর অসাধারণ প্রতিভার প্রমাণ বহন করে।

সংগীতচর্চার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে গান শেখানোর উদ্যোগ নিয়েছেন রন্টি দাশ। সম্প্রতি রন্টি দাশ নিউইয়র্কে প্রতিষ্ঠা করেছেন “রন্টি’স মিউজিক কিচেন” নামে ব্যতিক্রমী সংগীত বিদ্যালয় । এখানে শেখানো হয় ক্ল্যাসিক্যাল, নজরুল, রবীন্দ্র, দেশাত্মবোধক, আধুনিক ও লোকসংগীতসহ নানা ধারার গান। রয়েছে বিশেষ ভয়েস ট্রেনিং কোর্স এবং অনলাইন ও সরাসরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের বিনা মূল্যে সংগীত শেখানোর উদ্যোগও রয়েছে বিদ্যালয়টির, যা তাঁর সামাজিক দায়বদ্ধতার পরিচয় বহন করে।

চলতি বছর আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও একটি উল্লেখযোগ্য সম্মাননা অর্জন করেছেন রন্টি দাশ। ‘ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’-এ অর্জিত এই স্বীকৃতি তাঁর সংগীতযাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পরপর এমন সম্মাননা অর্জন তাঁর সংগীতজীবনের সাফল্যকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

ব্যক্তিগত জীবনে রন্টি দাশ দুই সন্তানের জননী। তাঁর মেয়ে আরশি ও ছেলে শাহবাজ। স্বামী সাঈদ রহমান জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘নোঙর’-এর গিটারিস্ট ও ভোকালিস্ট। বর্তমানে পরিবারসহ নিউইয়র্কে বসবাস করছেন এই শিল্পী। সংগীতের মধ্য দিয়ে বাংলা গান ও বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছেন তিনি।

ছবিতে দেখুন

নিউইয়র্কে চ্যানেল আই ‘বেস্ট সিঙ্গার’ সম্মাননা পেলেন রন্টি দাশ
নিউইয়র্কে চ্যানেল আই ‘বেস্ট সিঙ্গার’ সম্মাননা পেলেন রন্টি দাশ
নিউইয়র্কে চ্যানেল আই ‘বেস্ট সিঙ্গার’ সম্মাননা পেলেন রন্টি দাশ
নিউইয়র্কে চ্যানেল আই ‘বেস্ট সিঙ্গার’ সম্মাননা পেলেন রন্টি দাশ
আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন