চিত্রশিল্পী কে সি মং এর একক চিত্রপ্রদর্শনী "প্রকৃতির ক্যানভাসে স্বদেশের ছায়া"

লাইফস্টাইল ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ৪৫৮৯

প্রকৃতির ক্যানভাসে স্বদেশের স্মৃতি: চিত্রশিল্পী কে সি মং-এর শিল্পযাত্রা

চিত্রশিল্পী কে সি মং এর একক চিত্রপ্রদর্শনী "প্রকৃতির ক্যানভাসে স্বদেশের ছায়া"

আকবর হায়দার কিরন

মানুষ যখন নাড়ির টান ছেড়ে দূরদেশে পাড়ি জমায়, তখন তার পরিচিত মানচিত্র বা ভূগোলের রেখাগুলো ঝাপসা হয়ে এলেও মন থেকে তা কখনোই মুছে যায় না। নিউ ইয়র্কের ব্যস্ত জীবনপ্রবাহে বসবাস করেও চিত্রশিল্পী কে সি মং (কিয়াও চি মং) তাঁর ক্যানভাসে শৈশব, স্বদেশ ও প্রকৃতির অনবদ্য এক সংযোগ ঘটিয়েছেন। 

সম্প্রতি নিউ ইয়র্কের গভর্নর্স আইল্যান্ডের ১৬ নোলান পার্কে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এই শিল্পীর একক চিত্রপ্রদর্শনী। ট্রাস্ট ফর গভর্নর্স আইল্যান্ডের 'অর্গানাইজেশনস ইন রেসিডেন্স' কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশী আমেরিকান আর্টিস্ট ফোরাম এই প্রদর্শনীর আয়োজন করে। 

শৈশবের মহেশখালী থেকে নিউ ইয়র্ক

শিল্পী কে সি মং-এর শৈশব কেটেছে পাহাড়, নদী ও সমুদ্রবেষ্টিত মহেশখালীতে। বঙ্গোপসাগরের সেই প্রাকৃতিক পরিবেশই পরবর্তীতে তাঁর শিল্পসত্তার মূল ভিত্তি হিসেবে গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন এবং নিউ ইয়র্কের 'আর্ট স্টুডেন্টস লিগ'-এ অধ্যয়ন তাঁর শিল্পযাত্রাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। নিউ ইয়র্ক ও চট্টগ্রামের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাঁকে এমন এক শিল্পী হিসেবে গড়ে তুলেছে, যিনি প্রবাসী হয়েও স্বদেশের মূল শেকড়কে ভুলেননি। 

ক্যানভাসে স্মৃতির পুনর্নির্মাণ

প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া ছবিগুলোতে কিয়াও চি মং প্রকৃতির রূপকে কেবল ভৌগোলিক বাস্তবতা হিসেবে ফুটিয়ে তোলেননি, বরং তুলে ধরেছেন স্মৃতির গভীর আবেগ। 

'আন্টলোপ ভ্যালি' চিত্রে কমলা, সবুজ ও বেগুনী আভায় ঢাকা পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ ও বিশালতার মাঝে মানুষের ক্ষণস্থায়ী অস্তিত্বকে তুলে ধরা হয়েছে। 

'অফসেট নিউ ইয়র্ক' সিরিজে শহরের ইট-কাঠের ইট-পাথরের কাঠামোর সঙ্গে দূর দিগন্তের নীলাভ আকাশ ও নিসর্গের বৈপরীত্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যা প্রকৃতির মাঝে মানুষের বসতির ভারসাম্য তৈরি করে। 

সমুদ্রসৈকত ও আলো-ছায়ার খেলায় আঁকা ছবিগুলোতে তিনি তুলে ধরেছেন বঙ্গোপসাগর ও আমেরিকার উপকূলের অনুভূতির এক সুন্দর মেলবন্ধন। 

মানবদেহের রূপ ও আলো-ছায়ার খেলা

প্রকৃতির পাশাপাশি মানবাকৃতির চিত্রকর্মও তাঁর এই প্রদর্শনীর অন্যতম আকর্ষণ। 

'দ্য লাইফ মডেল' সিরিজে মানবদেহের অবস্থান, আলোর দৃষ্টিভঙ্গি এবং লাল, নীল ও সবুজ রঙের নিখুঁত বিন্যাসের মাধ্যমে মানুষের মানসিক আবেগ ও নীরবতাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। 

এছাড়া, 'রাধা' শিরোনামের ঐতিহ্যবাহী চিত্রকর্মটিতে পৌরাণিক স্মৃতি ও লোকসংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। 

উপসংহার

কে সি মং-এর চিত্রকলা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মানুষের আপন হওয়ার অনুভূতি কোনো নির্দিষ্ট দেশের সীমানায় আবদ্ধ থাকে না। বঙ্গোপসাগরের শান্ত জলরাশি থেকে নিউ ইয়র্কের আধুনিক যান্ত্রিকতা—সবকিছুকেই তিনি শৈল্পিক কল্পনার সুতোয় গেঁথেছেন। তাঁর আঁকা প্রতিটি ছবি দর্শককে শুধু দেখার আনন্দই দেয় না, বরং নিজের শেকড় ও স্মৃতিকে নতুন করে খোঁজার এক আত্মিক অনুভূতি উপহার দেয়।

এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, ২০১৯ সালে উডসাইডের নোঙ্গর গ্যালারিতে তাঁর একক প্রদর্শনী ছিলো একটি ঐতিহাসিক। দেশী বিদেশীদের ভীড়ে গিয়ে আমরা পরম বিস্মিত হয়েছিলাম। তাঁর এই বিশেষ শিল্পকর্ম ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের পক্ষ থেকে আমি গ্রহন করেছিলাম।

ছবিতে দেখুন

চিত্রশিল্পী কে সি মং এর একক চিত্রপ্রদর্শনী "প্রকৃতির ক্যানভাসে স্বদেশের ছায়া"
চিত্রশিল্পী কে সি মং এর একক চিত্রপ্রদর্শনী "প্রকৃতির ক্যানভাসে স্বদেশের ছায়া"
চিত্রশিল্পী কে সি মং এর একক চিত্রপ্রদর্শনী "প্রকৃতির ক্যানভাসে স্বদেশের ছায়া"
চিত্রশিল্পী কে সি মং এর একক চিত্রপ্রদর্শনী "প্রকৃতির ক্যানভাসে স্বদেশের ছায়া"
আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন