প্রবাসী টাঙ্গাইলবাসীর সাথে সাবেক গভর্নর ড. মনসুরের মতবিনিময় টাঙ্গাইলে হবে বিশ্বমানের হেলথ সিটি

সালাহউদ্দিন আহমেদ
নিউইয়র্ক (ইউএনএ): যুক্তরাষ্ট্র সফররত বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্ণর ড. আহসান এইচ মনসুর প্রবাসী টাঙ্গাইলবাসী ইউএসএ ইনক’র কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন। সভায় টাঙ্গাইলের কৃতি সন্তান ড. মনসুর বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের বড় শক্তি ডায়াসপোরা কমিউনিটি। যুক্তরাষ্ট্র সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন অর্থ বিনিয়য়োগ করে। তিনি বলেন, আমরা প্রবাসীদের সাথে নিয়ে দেশের স্বাস্থ্য খাতেও বিনিয়োগ করতে চাই। প্রতিষ্ঠা করতে চাই বিশ্বমানের হাসপাতাল। এজন্য প্রাথমিকভাবে টাঙ্গাইলে একটি হেলথ সিটি প্রতিষ্ঠার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। ড. মনসুর বলেন, আমরা প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিকট এক বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আশা করছি দেশের জন্য।
গত ৫ অক্টোবর সোমবার সন্ধ্যায় জ্যামাইকার একটি মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় এই মতবিনিময় সভা। খবর ইউএনএ’র।
ব্যতিক্রমী এই সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী টাঙ্গাইলবাসী ইউএসএ’র উপদেষ্টা ও সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান, সাপ্তাহিক হককথা ও বার্তা সংস্থা ইউএনএ সম্পাদক এবিএম সালাহউদ্দিন আহমেদ সহ সংগঠনের উপদেষ্টা আশেক খন্দকার শামীম, মোহাম্মদ ফরহাদ তালুকদার, সাবেক সভাপতি ফরিদুল ইসলাম খান ও মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, সভাপতি আরিফ বিন আনোয়ার, সহ সভাপতি মোহাম্মদ আতিকুর রহমান আনিস, সাধারণ সম্পাদক শামীম মিয়া, সহ সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন ও মোহাম্মদ আব্দুর রব ইসলাম।
এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন আরমান চৌধুরী সিপিএ এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মনসুর আহমেদ। সভায় ড. মনসুর খোলামেলা মতবিনিময়কালে বলেন, দেশ-বিদেশে আমাদের অনেক মেধাবী মানুষ রয়েছে। তাদের কাজে লাগাতে হবে।
এজন্য সবার সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, চিকিৎসার ব্যাপারে দেশের হাসপাতালের উপর মানুষের আস্থা নেই বলেই তারা চিকিৎসার জন্য ছুটছেন ভারত, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড। ফলে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আর্থিকভাবে। আর আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে বিদেশীরা। আমরা চাই দেশের ভিতরেই বিশ্বমানের চিকিৎসা ব্যবস্থা। এজন্য উদ্যোগে নেয়া হয়েছে বেসরকারী পর্যায়ে। ইতিমধ্যেই ঢাকায় একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার জন্য হাতিরঝিল ও মগবাজার এলাকায় ১৬তলা একটি ভবনে কাজ চলছে।
আশা করা হচ্ছে আগামী বছর থেকেই এই হাসপাতালে কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি টাঙ্গাইলে ৩০/৪০ একর জায়গায় প্রাথমিকভাবে হাতে নেয়া হয়েছে হেলথ সিটি প্রতিষ্ঠার প্রকল্প। টাঙ্গাইল রাজধানী ঢাকার নিকটে আর উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোর মানুষেরা সহজেই এই প্রকল্প থেকে সেবা নিতে পারবেন। এজন্য ঢাকা-টাঙ্গাইল-উত্তরবঙ্গ মহাসড়কের পাশে টাঙ্গাইল শহরের প্রবেশ পথের পাশে বিশাল জায়গা নেয়া হয়েছে। এছাড়াও গ্রামীন ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ও নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূস প্রতিষ্ঠিত সুখী প্রকল্প নিয়েও মানুষের সেবায় কাজ করার পরিকল্পনা চলছে। সুখী প্রকল্পে ৫০ লক্ষ সদস্য রয়েছে। কোরিয়ান সরকার এই খাতে আইটি সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানান তিনি।
ড. মনসুর বলেন, দেশে ভালো কাজ বেসরকারী উদ্যোগেই সফল হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি ব্রাক, গণস্বাস্থ্য, গ্রামীণ ব্যাংক প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের কথা উল্লেখ করে বলেন, সরকারের সহযোগিতায় সম্পূর্ণ বেসরকারী উদ্যোগে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হবে। এতে প্রবাসীরা তথা ডায়াসপোরা কমিউনিটি শেয়ার ক্রয় করতে পারবেন। মূলত: আমরা অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বিনিয়োগ করতে চাই। আমরা ১০০, ২০০, ৩০০, ৫০০ ডলার করে ছোট ছোট বিনিয়োগের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে চাই। সবার অংশগ্রহণ চাই। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে তিনি সকল প্রবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। সভায় দেশের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, বেসরকারী উদ্যাগে কোন কোন মহলের বিরোধীতা, সিন্ডিকেট ব্যবস্থা প্রভৃতির প্রসঙ্গ উঠলেও ড. মনসুর বলেন, রাতারাতি সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এর মধ্যেই আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে, দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। সভা শেষে প্রবাসী টাঙ্গাইলবাসী ইউএসএ ইনক’র পক্ষ থেকে ড. আহসান এইচ মনসুর-কে ক্রেস্ট উপহার দেয়া হয়।
ছবিতে দেখুন



