আমার চোখে আমেরিকা টুইন-টাওয়ার ভবন যখন স্মৃতির মিনার
আব্রাহাম লিংকন
মোহর ভাই দিন-রাত ছায়ার মতো আমার সঙ্গেই ছিলেন। তিনিই আমাকে নানা গুরুত্বপূর্ণ স্থান ঘুরে দেখানোর দায়িত্ব নিয়েছিলেন। সারা দিন স্ট্যাচু অব লিবার্টি দেখে ফেরিতে করে ঘাটে ফিরে আমরা হেঁটে প্রথমে পৌঁছালাম নিউইয়র্ক টাইমস ভবন। ভবনের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ আছে কি না, তা আমার জানা ছিল না। মোহর খান বললেন, “বড়ভাই, নিশ্চয়ই ভেতরে যাওয়ার ব্যবস্থা আছে। তবে সেখানে সময় দিলে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার দেখা আর সম্ভব হবে না।”
আমি বললাম, “তাহলে চলুন, সরাসরি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারেই যাই।” তবে রওনা হওয়ার আগে নিউইয়র্ক টাইমস ভবনের সামনে একটি ছবি তুলতে ভুললাম না। এরপর ছুটে চললাম ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সেই মর্মান্তিক সন্ত্রাসী হামলার ক্ষতচিহ্ন দেখতে-ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের স্মৃতিসৌধ ও নবনির্মিত প্রাঙ্গণের উদ্দেশে।
আমেরিকায় আসার আগে কুয়ালালামপুর ও সিঙ্গাপুর ভ্রমণের সুযোগ হয়েছিল। কুয়ালালামপুরে দেখেছিলাম বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার। আর সিঙ্গাপুরে দেখেছি তিনটি সমউচ্চ ভবনের ওপর এক বিশাল প্ল্যাটফর্মের অনন্য স্থাপত্য। কিন্তু এসব দেখারও বহু আগে নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারের গল্প এবং তার মর্মান্তিক পরিণতির কথা জেনে গিয়েছিলাম।
আজও স্পষ্ট মনে আছে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সেই বিভীষিকাময় দিনটির কথা। পরপর দুটি ছিনতাই করা যাত্রীবাহী বিমান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দুটি টাওয়ারে আঘাত হানে। মুহূর্তেই পুরো বিশ্ব স্তব্ধ হয়ে যায়। সেদিন নিউইয়র্ক থেকেই একুশে টেলিভিশনের জন্য ঘটনাটির প্রথম সংবাদ পাঠিয়েছিলেন প্রখ্যাত সাংবাদিক আমান-উদ-দৌলা। তখন তিনি সম্ভবত জনকণ্ঠ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে কেবল অভিবাসী হয়েছেন।
আমান-উদ-দৌলা ছিলেন দেশের একজন খ্যাতিমান সাংবাদিক। তিনি আমার সেজ ভাই ওমর ফারুকের ঘনিষ্ঠ বন্ধু । জীবনের এক কঠিন সময়ে ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে দুজনই কুড়িগ্রাম রেলস্টেশনে দু’টি পৃথক রেস্তোরাঁ পরিচালনা করেছিলেন। তবে জীবিকার সেই সংগ্রাম তাঁদের তরুণ বয়সের সাহিত্যচর্চাকে থামাতে পারেনি। দুজনই ছিলেন প্রতিভাবান কবি। আমান-উদ-দৌলা লিখতেন অসাধারণ আধুনিক গদ্যকবিতা, আর ওমর ফারুকের কবিতায় থাকত জসীমউদ্দীনের পল্লীকাব্যের আবহ।
কবিতায় ওমর ফারুক বেশিদূর এগোতে পারেননি। আমান উদ দৌল্লাও একসময় রেস্টুরেন্ট ও কবিতা—দুটিই ছেড়ে দেন। কবিতা ছেড়ে কবি থেকে হঠাৎ রাজনীতিক হয়ে ওঠেন। জাগদল, অথবা পরবর্তীকালে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। সেটি আদর্শগত কারণে, নাকি পরিবারের আর্থিক অনটন ঘোচানোর তাগিদে—আজও তা আমার কাছে অজানা। তবে রাজনীতিতে তিনি এক-দুই বছরের বেশি স্থায়ী হননি। হয়তো রাজনীতির সঙ্গে নিজেকে মেলাতে পারেননি, কিংবা মত ও পথের অমিলই তাঁকে সরে আসতে বাধ্য করেছিল।
রাজনীতি ছেড়ে তিনি ঢাকায় চলে যান এবং সাংবাদিকতায় যুক্ত হন। সেখানে গিয়ে আবারও জড়িয়ে পড়েন সাহিত্য ও সংস্কৃতির অঙ্গনে। এমনকি একাত্তরের ঘাতকদের বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা গণআদালত আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। জাতীয় কবিতা পরিষদ ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি গঠনেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল। সাংবাদিকতায় এসে নিজের প্রতিভা ও যোগ্যতায় দ্রুত পরিচিতি অর্জন করেন। দৈনিক জনকণ্ঠের কূটনৈতিক প্রতিবেদক হিসেবে তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
কবিতা আর ‘কচিকাঁচার মেলা’-র সঙ্গে যুক্ত থাকার সুবাদেই আমান-উদ-দৌলার স্নেহ ও সান্নিধ্য লাভের সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। সেই সূত্রেই তাঁর সঙ্গে আমার একটি আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সাংবাদিক হিসেবে তিনি যেমন খ্যাতি অর্জন করেছিলেন, তেমনি কবি হিসেবেও ছিলেন বেশ প্রতিভাবান। একবার তাঁর একটি কবিতা জাতীয় পর্যায়ে সম্ভবত তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিল, যা আমাদের স্থানীয় সাহিত্যাঙ্গনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল।
কবিতাটি সম্ভবত সত্তরের দশকের শেষ দিকে কুড়িগ্রাম থেকে লেটারপ্রেসে ছাপা কোনো লিটল ম্যাগাজিন- রক্ত আঁখর কিংবা জীবন ঘষে আগুন-এ প্রকাশিত হয়েছিল। সে সময় প্রচুর লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশিত হয়েছে। ওই সময়টাতে আমারও কবিতায় হাতেখড়ি। তখন কুড়িগ্রামের নতুন ও পুরাতন শহরে চলছিল তুমুল সাহিত্যচর্চা। ছাত্ররাজনীতির বাইরে সাহিত্যের ভেতর দিয়ে সামরিক শাসক ও উর্দিধারীদের বিরুদ্ধে আমরা তখন লড়াই করতাম।
ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টির প্রভাবাধীন উদীচী ও খলিলগঞ্জের প্রভাতী সংসদ এবং পুরাতন শহরে জাসদ ও বাসদ-প্রভাবাধীন প্রগতি সংসদ-এসব সংগঠনের সাহিত্য-সংস্কৃতি কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিতেন- আমার দেখা অন্যতম শুদ্ধতম কবি ও সংস্কৃতি সংগঠক জ্যোতি আহমেদ, প্রয়াত সাংবাদিক মমিনুল ইসলাম মঞ্জ, প্রয়াত শিক্ষাবিদ অধ্যাপক তপন কুমার রুদ্র, প্রয়াত রাজনীতিক জাহেদুল হক মিলু এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন অর রশীদ লাল প্রমুখ।
সে সব পত্রিকায় লিখতেন- শ্রী বাস্তব (প্রয়াত শিক্ষক ও সাংবাদিক আব্দুল হামিদ), কবি জ্যোতি আহমেদ, আমান উদ দৌলা, কাজী এখলাস, আফরোজা হক লিনা, ইমতে আহসান শিলু, নাজমুন নাহার বিজলী, মঞ্জুরুল ইসলাম মণি, মিজান খন্দকার,সফি খান,মানিক চৌধুরী,হেলাল জাহাঙ্গীর, আমিন পাভেল,নেজামুল হক বিলু, রেজাউল হক লিটন, ছানা লাল বকসী, আব্রাহাম লিংকনসহ অনেকেই। সময়ের দীর্ঘ ব্যবধানে অনেক নামই আজ মনে নেই। অনেক কবি ও তাঁদের কবিতা বিস্মৃতির আড়ালে হারিয়ে গেছে। কিন্তু শব্দের কিছু হেরফের হলেও আমান উদ দৌলার মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন আর বেদনা নিয়ে পুরষ্কারপ্রাপ্ত সেই কবিতাটির কয়েকটি পঙ্ক্তি আজও আমার স্মৃতিতে অম্লান হয়ে আছে—
একাত্তরে লাল রঙের যে স্পেশাল ট্রেনটিতে চড়ে
তিরিশ লাখ যাত্রী চলে গেল,
তাদের প্রতিশ্রুতির রুমাল উড়িয়ে
আমরা কি বলিনি—
তাদের স্বপ্নের বীজ বাস্তবের মাটিতে রোপণ করবই?
তবে আজ কোন স্মৃতিভ্রমের বদৌলতে
আমরা সে প্রতিশ্রুতির হত্যাকারী সেজে আছি?
একাত্তরে হিংস্র পশুর ঔরসে যে শিশুর জন্ম,
যার বয়স বাংলাদেশের বয়সের সমান,
সে যখন তার জ্ঞান-বুদ্ধিকে আয়ত্ব করবে,
তখন কী করে তাকে বোঝাব
যে, সে দ্বিতীয় হযরত ঈসা নয়?
আমান-উদ-দৌলার লেখা এই কবিতাটি আজও আমার কাছে সমান মর্মস্পর্শী ও প্রাসঙ্গিক বলে মনে হয়। প্রায় অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে গেলেও কবিতাটির প্রশ্নগুলো যেন আজও আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়।
যাহোক, একুশে টেলিভিশনের পর্দায় বারবার স্ক্রলে ভেসে উঠছিল—‘নিউইয়র্ক প্রতিনিধি আমান-উদ-দৌলার নাম। সংবাদ উপস্থাপকেরাও তাঁর নাম উল্লেখ করে বলছিলেন, ‘আমাদের নিউইয়র্ক প্রতিনিধি আমান-উদ-দৌলা’। সে সময় বাংলাদেশে একুশে টেলিভিশনই ছিল প্রথম বেসরকারি ভূ-উপগ্রহভিত্তিক (স্যাটেলাইট) টেলিভিশন চ্যানেল। তাই ৯/১১-এর সেই ভয়াবহ ঘটনার প্রত্যক্ষ সংবাদ কোটি কোটি দর্শক প্রথম দেখেছিলেন আমান-উদ-দৌলার কণ্ঠ ও প্রতিবেদনের মাধ্যমে।
সেদিনের সেই টুইন টাওয়ারের স্মৃতিবিজড়িত স্থানে আমি পৌঁছালাম একেবারে পড়ন্ত বিকেলে। দূর থেকে ভবনটি যেমন কল্পনা করেছিলাম, বাস্তবে নতুন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার কমপ্লেক্স তার চেয়ে অনেক ভিন্ন। শুভ্র-ধবল স্থাপত্য, কাচ ও ইস্পাতের সমন্বয়ে গড়া আধুনিক নির্মাণশৈলী, আর ভেতরে নরম আলোর স্নিগ্ধ পরিবেশ পুরো এলাকাজুড়ে এক ধরনের প্রশান্তি ছড়িয়ে দিয়েছে। ভবনটির বহির্ভাগ কাচে মোড়ানো ফলে ভবনের ভিতরেও সূযের্র ও আকাশের আলো প্রতিফলিত হয়। যে কারণে দিনে একেক সময় আকাশের গতিপ্রকৃতির ওপর ভবনটির চেহারাতেও পরিবর্তন দেখা যায়।
ভবনের অভ্যন্তর এতটাই বিশাল যে অসংখ্য মানুষ উপস্থিত থাকলেও তাদের খুব বেশি মনে হচ্ছিল না। নিচতলায় রয়েছে বিশাল পরিবহন কেন্দ্র, যেখান থেকে নিউজার্সিসহ বিভিন্ন গন্তব্যে ট্রেন চলাচল করে। নিউইয়র্কে এমন অনেক রেলস্টেশন রয়েছে, যেগুলো বিশাল ভবনের নিচে নির্মিত। বাইরে থেকে দেখে বোঝার কোনো উপায়ই থাকে না যে ভবনের তলদেশেই একটি ব্যস্ত রেলস্টেশন রয়েছে।
ধ্বংসস্তূপের বুক চিরে আজ আবার মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে নতুন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার কমপ্লেক্স। আধুনিক স্থাপত্যশৈলী, নান্দনিক নকশা ও সৌন্দর্য যে কোনো দর্শনার্থীকেই বিমোহিত করে। এটি কেবল একটি স্থাপনা নয়; বরং ধ্বংসের মধ্য থেকেও পুনর্জাগরণের এক অনন্য প্রতীক। মানবসভ্যতাকে জানিয়ে দেয়-সন্ত্রাস যত ভয়ংকরই হোক, মানুষের অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও সৃষ্টিশীলতার কাছে তা শেষ পর্যন্ত পরাজিত হয়।
ধ্বংসপ্রাপ্ত টুইন টাওয়ারের স্থানেই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার কমপ্লেক্সটি তৈরি হয়েছে। টুইন টাওয়ারের উচ্চতা ছিল যথাক্রমে নর্থ টাওয়ার (WTC) ১,৩৬৮ ফুট এবং সাউথ (WTC) ১,৩৬২ ফুট। দুই টাওয়ারের মধ্যে মাত্র ৬ ফুট পর্থক্য ছিল। কিন্তু স্থপতি ডেভিড চাইল্ডসের নেতৃত্বে প্রণিত নকশায় গড়ে ওঠা ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার এর উচ্চতা ১,৭৭৬ ফুট। এই উচ্চতা আমেরিকার স্বাধীনতা ঘোষণার সন ১৭৭৬ কে ধারণ করে নেয়া হয়েছে। যা প্রতীকী অর্থ বহন করে।
ইতিহাস কখনো স্থির থাকে না। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের পুনর্নির্মাণ যেমন মানুষের পুনরুত্থানের প্রতীক, তেমনি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চরমপন্থা ও সহিংসতার নতুন অধ্যায়ও সময়ের সঙ্গে নতুন রূপে ফিরে এসেছে। আল-কায়েদার পর তালেবানের পুনরুত্থান এবং হুতি,আইএসসহ বিশ্বের নানা অঞ্চলে উগ্রবাদের বিস্তার আন্তর্জাতিক রাজনীতিকে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। ভবিষ্যৎই বলে দেবে, এই প্রবণতা মানবসভ্যতার জন্য শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথ সুগম করবে, নাকি আরও নতুন সংকটের জন্ম দেবে।
আমেরিকানরা শুধু নতুন স্থাপত্যশৈলীতে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার কমপ্লেক্স নির্মাণ করেই ক্ষান্ত হয়নি; ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সেই মর্মান্তিক সন্ত্রাসী হামলার স্মৃতি ধরে রাখতে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা ইস্পাতের বিম ও অন্যান্য নিদর্শন দিয়ে দেশের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গড়ে তুলেছে অসংখ্য স্মৃতিসৌধ। এসব স্মৃতিস্তম্ভে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের যেসব বাসিন্দা ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার হামলায় নিহত হয়েছিলেন, তাঁদের নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
এমনই একটি স্মৃতিসৌধ দেখার সুযোগ হয়েছিল ২০২৪ সালের ১২ জুলাই নিউজার্সি ভ্রমণের সময়। নিউজার্সির আটলান্টিক হাইল্যান্ডসের মাউন্ট মিচিল সিনিক ওভারলুকে (Mount Mitchill Scenic Overlook, Atlantic Highlands, New Jersey) অবস্থিত এই স্মৃতিসৌধটি ২০০৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর উদ্বোধন করা হয়। এর নকশা প্রণয়ন করেন ভাস্কর ফ্রাঙ্কো মিনেরবিনি (Franco Minervini )।
স্মৃতিসৌধটির প্রধান আকর্ষণ একটি বিশাল পাথরের ঈগলের ভাস্কর্য। যেখানে ঈগলের শক্তিশালী নখরে ধরা রয়েছে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা একটি আসল ইস্পাতের বিম। গ্রানাইটের বেদিতে খোদাই করা হয়েছে নিউজার্সির সেই ১৪৭ জন বাসিন্দার নাম, বয়স এবং অন্যান্য পরিচিতি, যাঁরা ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন।
দূর থেকে স্মৃতিসৌধটি যেমন শিল্পসৌন্দর্যে মুগ্ধ করে, কাছে গেলে তেমনি অনুভব করা যায় গভীর শোক, শ্রদ্ধা ও ইতিহাসের ভার। এটি শুধু নিহতদের স্মরণে নির্মিত একটি ভাস্কর্য নয়; বরং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মানুষের অদম্য সাহস, জাতীয় ঐক্য এবং পুনর্জাগরণের এক শক্তিশালী প্রতীক।
ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের আকাশছোঁয়া স্থাপত্যের মুগ্ধতা আমায় পেয়ে বসেছে। ধ্বংসের ইতিহাস পেরিয়ে নতুনভাবে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে থাকা এই স্থাপনাটি মানুষের অদম্য সাহস ও পুনর্জাগরণের এক জীবন্ত প্রতীক যা মুগ্ধতায় দেখছিলাম। কিন্তু ঘড়ির কাঁটা আমাকে মনে করিয়ে দিল-কিরণ ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় হয়ে এসেছে। তাই আর দেরি না করে পাতালরেলে উঠে বসলাম। ট্রেন দ্রুত ছুটে চলল কুইন্সের জ্যাকসন হাইটস–রুজভেল্ট অ্যাভিনিউ/৭৪ স্ট্রিট স্টেশনের (Jackson Heights–Roosevelt Avenue/74 Street Station) দিকে।
প্রথম লেখা- ২০/৯/২০২১ নিউইয়র্ক, পুনঃলিখন- সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।
