৬১ বছর বয়সেও শাহরুখের ফিটনেস ধরে রাখার আসল রহস্য
বয়সের তোয়াক্কা না করে ৬১ বছর বয়সেও সুস্বাস্থ্যের উদাহরণ তৈরি করে চলেছেন অভিনেতা শাহরুখ খান। সুশৃঙ্খল রুটিন, নিয়মিত শরীরচর্চা ও নির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাসই তার এই শারীরিক ফিটনেসের মূল চাবিকাঠি।

সম্প্রতি ২ নভেম্বরের জন্মদিনে প্রকাশিত ‘কিং’ সিনেমার ‘তু মিল যায়ে’ গানে অভিনেতা শাহরুখ খানের সুগঠিত শরীর ও অ্যাকশন দৃশ্য নতুন করে অনুরাগীদের নজর কেড়েছে। ৬১ বছর বয়সেও দীর্ঘদিনের সুশৃঙ্খল অভ্যাস ও নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে তিনি এই ফিটনেস বজায় রেখেছেন।
নিজের খাওয়ার রুটিন সম্পর্কে তিনি জানান যে, দিনে সাধারণত একবারই খাদ্য গ্রহণ করেন তিনি। তবে এটি নির্দিষ্ট কোনো ডায়েট চার্ট অনুসরণ নয়, বরং তার ব্যক্তিগত পছন্দ। খাদ্যতালিকায় থাকে ব্রকলি, অঙ্কুরিত শস্য, গ্রিলড চিকেন ও অল্প ডাল। অবশ্য নিমন্ত্রণ বা অন্যের বাড়ি গেলে বিরিয়ানি, রুটি, পরোটা ও লাচ্ছির মতো পদ উপভোগ করতে তিনি দ্বিধা করেন না।
কাজের চাপ থাকলেও ব্যায়ামের জন্য দৈনিক সময় বরাদ্দ রাখেন এই অভিনেতা। অনেক সময় গভীর রাতে কাজ শেষ করে ফিরে এসেও প্রায় আধা ঘণ্টা শরীরচর্চা সারেন তিনি। তার ব্যক্তিগত প্রশিক্ষকের তথ্যানুযায়ী, সপ্তাহের ৪-৫ দিন গড়ে ৪৫ মিনিট করে শরীরের নির্দিষ্ট অংশ অনুযায়ী তাদের এই অনুশীলন চলে। পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতিও তার আগ্রহ রয়েছে। করোনা মহামারীর সময় সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনুশীলনে মনোযোগ বৃদ্ধি করায় ‘পাঠান’, ‘জাওয়ান’ এবং বর্তমানের ‘কিং’ চলচ্চিত্রে তার এই পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়।
শাহরুখের বিশ্রামের সময়সীমা সাধারণ মানুষের মতো নয়। রাতে বাড়ি ফিরে ব্যায়াম ও কাজ সেরে ভোর পাঁচটার দিকে তিনি ঘুমাতে যান। অতীতে মাত্র চার ঘণ্টা ঘুমালেও দুবাইয়ের এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, বর্তমানে পেশির পুনরুদ্ধারের সুবিধার্থে তিনি ঘুমের পরিমাণ বাড়িয়ে ৫-৬ ঘণ্টা করার চেষ্টা করছেন।
অভিনয় জীবনের সূচনালগ্ন থেকেই অ্যাকশননির্ভর চরিত্রে অভিনয়ের আকাঙ্ক্ষা তার মধ্যে এই ফিটনেস চেতনা জাগ্রত করে। প্রশিক্ষকের মতে, গত প্রায় দুই দশক ধরে নিয়মিত অনুশীলন, প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যায়ামের পরিবর্তন এবং নিয়মানুবর্তিতার কারণেই এমন দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক গঠন ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে।
