শব্দের রূপান্তর: মানসিক স্বাস্থ্য চর্চায় ‘পাগলামি’র নতুন পরিচয়

লাইফস্টাইল ৩ নভেম্বর ২০২৬ ২৯৯৮

মনস্তাত্ত্বিক পরিভাষার পরিবর্তনের ফলে মানসিক অসুস্থতা সংক্রান্ত বিভিন্ন শব্দের চিকিৎসাগত ও সামাজিক ব্যবহারে রূপান্তর ঘটছে। এক সময়ের নেতিবাচক ‘পাগলামি’ শব্দটি এখন আত্মপরিচয়ের নতুন মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

শব্দের রূপান্তর: মানসিক স্বাস্থ্য চর্চায় ‘পাগলামি’র নতুন পরিচয়

মানসিক স্বাস্থ্য ও রোগের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত শব্দাবলীর চিকিৎসাগত ও সামাজিক অর্থ সময়ের সাথে সাথে রূপান্তরিত হচ্ছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি মনস্তাত্ত্বিক সাময়িকীতে প্রকাশিত নিবন্ধে মানসিক পরিভাষার ইতিহাস এবং ‘পাগলামি’ বা ‘ম্যাডনেস’ শব্দের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপট ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের উৎকর্ষ এবং সামাজিক চেতনার অগ্রগতির কারণে পুরোনো অনেক পরিভাষার বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটেছে।

যেমন, এডিএইচডি (ADHD) আচরণের চিকিৎসাগত নাম যুগে যুগে বদলেছে। ১৯৫৭ সালে অতিরিক্ত চঞ্চলতা নির্দেশ করতে চিকিৎসকরা এটিকে ‘হাইপারকাইনেটিক ইমপালস ডিজঅর্ডার’ বলতেন, যাতে মনোযোগের বিষয়টি বাদ পড়েছিল। পরবর্তীতে ‘মিনিমাল ব্রেন ড্যামেজ’, ‘মিনিমাল ব্রেন ডিসফাংশন’ এবং ‘স্ট্রস সিনড্রোম’ জাতীয় নাম ব্যবহৃত হয়। পরবর্তীতে ১৯৮০ সালের 'ডিএসএম-৩' নির্দেশিকায় ‘অ্যাটেনশন ডেফিসিট ডিজঅর্ডার’ শব্দটি আসে এবং ১৯৮৭ সালের সংশোধনীতে পুনরায় চঞ্চলতার বিষয়টি যুক্ত করা হয়। তাই অতীতের আচরণকে বর্তমানের নাম দিয়ে সরাসরি ব্যাখ্যা করা অনুচিত।

ভাষার এই পরিবর্তনের অন্যান্য উদাহরণের মধ্যে ‘লুনাসি’ ও ‘ইনস্যানিটি’ উল্লেখযোগ্য। লাতিন উৎসের ‘লুনাসি’ শব্দটি চাঁদের প্রভাবে আচরণের তারতম্য ঘটার প্রাচীন বিশ্বাস থেকে তৈরি। ইংল্যান্ডের ১৮৪৫ সালের লুনাসি আইন ও চিকিৎসাকেন্দ্রে এটি থাকলেও বর্তমানে শব্দটি অসম্মানজনক। আবার ষোড়শ শতকের শেষভাগ থেকে ব্যবহৃত ‘ইনস্যানিটি’ শব্দটি আইনি আত্মপক্ষ সমর্থনে ‘ইনস্যানিটি ডিফেন্স’ হিসেবে টিকলেও চিকিৎসাবিজ্ঞান থেকে বাদ পড়েছে। এমনকি ‘মানসিক ব্যাধি’ বা ‘মেন্টাল ইলনেস’ পরিভাষাটি যেকোনো ব্যতিক্রমী আচরণকে চিকিৎসাগত সমস্যা হিসেবে তকমা দেয় বলে আপত্তি রয়েছে।

এই ধারাবাহিকতায় ‘ম্যাডনেস’ বা ‘পাগলামি’ শব্দের ইতিবাচক পুনর্জাগরণ ঘটেছে। চতুর্দশ শতকের শেষদিকে অস্বাভাবিক আচরণ বোঝাতে বা ‘ম্যাডহাউস’ চিকিৎসাকেন্দ্রের ক্ষেত্রে শব্দটি চালু হয়। তবে ১৯৭০-এর দশকের সূচনা থেকে ‘ম্যাড পিপলস মুভমেন্ট’, ‘ম্যাড প্রাইড’ ও ‘ম্যাড স্টাডিজ’-এর মতো ধারার মাধ্যমে সংবেদনশীল মানুষেরা এটিকে নিজেদের আত্মপরিচয় ও স্বাতন্ত্র্য প্রকাশের মাধ্যম বানিয়ে নিয়েছেন। তাঁদের মতে, চিকিৎসকের দেওয়া তকমার বাইরে গিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা সংজ্ঞায়িত করার সুযোগ দেয় এই শব্দ। তাই পরিভাষার নির্বাচন সমাজ এবং ব্যক্তির আত্মোপলব্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন