মানসিক ট্রমা কাটিয়ে ওঠার ৫টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ

লাইফস্টাইল ৩ নভেম্বর ২০২৬ ৪৭০০

গভীর মানসিক আঘাত পাওয়ার পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা সহজ নয়। তবে কিছু লক্ষণের মাধ্যমে বোঝা যায় ব্যক্তি ধীরে ধীরে সুস্থতার দিকে এগোচ্ছেন।

মানসিক ট্রমা কাটিয়ে ওঠার ৫টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ

গুরুতর নির্যাতন, বন্দিদশা কিংবা অতিরিক্ত মানসিক চাপের ফলে মানুষের মনে যে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়, তা থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসা বেশ জটিল। সুস্থ হয়ে ওঠার অর্থ অতীতকে একবারে মুছে ফেলা নয়, বরং প্রতিকূল পরিস্থিতি কাটিয়ে নতুন করে বাঁচার শক্তি অর্জন করা। ট্রমা থেকে সেরে ওঠার এমনই পাঁচটি প্রাথমিক লক্ষণ তুলে ধরা হলো ইউক্রেনের গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষিকা নাটালিয়ার অভিজ্ঞতার নিরিখে।

প্রথমত, যেকোনো সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারা। দখলদার রুশ বাহিনীর হাতে বন্দি অবস্থায় নির্যাতিত নাটালিয়া পরবর্তী সময়ে কর্মক্ষেত্রে এক অভিভাবকের চিৎকারে আতঙ্কিত না হয়ে নিজেকে দ্রুত সামলে নেন। শান্ত থেকে পরিস্থিতি সামলানোর এই ক্ষমতাই মানসিক উন্নতির ইঙ্গিত দেয়।

দ্বিতীয়ত, নিজের সুরক্ষা ও স্বস্তির জন্য সীমানা নির্ধারণ করা। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে তর্ক না বাড়িয়ে নাটালিয়া বিষয়টি প্রধান শিক্ষকের কক্ষে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেন। মনোচিকিৎসক ভিক্টর দ্লুগুনোভিচ এই ধরনের পদক্ষেপকে ইতিবাচক অগ্রগতির লক্ষণ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।

তৃতীয়ত, নিজস্ব পেশা বা পছন্দের পরিচয়ে ফিরে যাওয়া। দীর্ঘ ৩৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই শিক্ষিকা ভয়াবহ স্মৃতি সত্ত্বেও শিক্ষকতায় বহাল থাকেন, কারণ এটি তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

চতুর্থত, ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আগ্রহ ও উদ্দেশ্য তৈরি হওয়া। মানসিক বিপর্যয়ের পরও শিশুদের পড়িয়ে আনন্দ খুঁজে পাওয়া এবং নিজের অভিজ্ঞতা জনসমক্ষে তুলে ধরার সাহস অর্জন ট্রমা কাটিয়ে ওঠার বড় প্রমাণ।

পঞ্চমত, অবশিষ্টাংশ কষ্টকে মেনে নিয়েও সামনের দিকে এগিয়ে চলা। নাটালিয়া এখনো দুঃস্বপ্নে ভোগেন, কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খান। তবে এসব বাধা সত্ত্বেও তিনি জীবনসংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রমা থেকে নিরাময়ের এই প্রক্রিয়াটি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে এবং সময়সাপেক্ষ।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন