সিসাযুক্ত রঙের কাঁচামাল আমদানি ৫১ শতাংশ বাড়লেও সনাক্তকরণে নেই পৃথক কোড
দেশে গত তিন বছরে সিসাযুক্ত রঞ্জক পদার্থের আমদানি ৫১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট এইচএস কোড না থাকায় এই ক্ষতিকর কেমিক্যাল নজরদারিতে চরম চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।

বাংলাদেশে গেল তিন বছরে সিসাযুক্ত ক্রোমিয়াম যৌগের আমদানির পরিমাণ প্রায় ৫১ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২২ সালে দেশের বাজারে এই জাতীয় ৪ লাখ ২৭ হাজার ৪৮১ কেজির সমপরিমাণ কাঁচামাল আসে, যার আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ১৬ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার। পরবর্তীতে ২০২৫ সাল নাগাদ তা লাফিয়ে ৬ লাখ ৪৫ হাজার ৮০০ কেজিতে পৌঁছায় এবং আমদানিমূল্য দাঁড়ায় ২২ লাখ ৯০ হাজার ডলারে।
আইপেন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সহায়তায় ‘এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন’ (এসডো) আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় এসব তথ্য প্রকাশিত হয়। সোমবার (৩ নভেম্বর) ঢাকার অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত এক গবেষণায় জানানো হয়, দেশে আলাদা কোনো এইচএস কোড না থাকায় সিসযুক্ত কাঁচামাল পুরোপুরি শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। ৩২০৬২০ কোডের আওতায় সিসাহীন পণ্যের সঙ্গেই এই ক্ষতিকর উপাদান আসছে, যা কাস্টমস নজরদারিতে বাধা সৃষ্টি করছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দেশে স্থানীয়ভাবে লেড-ক্রোমেট তৈরি না হওয়ায় পুরোটাই আমদানি করতে হয়। বসতবাড়ির রঙের সিসা নিয়ন্ত্রণে বিএসটিআই নির্ধারিত ৯০ পিপিএম মাত্রা চালু থাকলেও শিল্পখাতের অনুরূপ নীতিমালা এখনো গেজেট প্রকাশের অপেক্ষায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাণিজ্য মনিটরিং ও আইন প্রয়োগ জোরদারের তাগিদ দেন বিশেষজ্ঞরা।
আলোচনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান সিসার বিষক্রিয়া মোকাবিলায় প্রযুক্তিভিত্তিক সমাধান এবং গবেষণায় সরকারি অর্থায়নের তাগিদ দেন। অতিরিক্ত সচিব ড. মো. সাইদুর রহমান সিসামুক্ত পণ্য উৎপাদনে অর্থনৈতিক বিশ্লেষণের পরামর্শ দেন এবং অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ সোলায়মান হায়দার উন্মুক্ত বাজার নিয়ন্ত্রণের জটিলতার বিষয়টি তুলে ধরেন।
নিপসমের পরিচালক অধ্যাপক ড. নাসরিন সুলতানা খাদ্য, ত্বক ও শ্বাসের মাধ্যমে নারী ও শিশুদের ওপর সিসার প্রভাব রোধে বিশেষ নজরদারি চান। এসডোর প্রতিষ্ঠাতা ড. মো. শাহরিয়ার হোসেন উল্লেখ করেন যে ৯০ শতাংশ রঙ প্রস্তুতকারক ইতোমধ্যেই নির্ধারিত সীমা মেনে চলছেন, তাই বাকিদের নিয়ন্ত্রণে গ্রিন ট্যাক্সেশন প্রয়োগ করা যেতে পারে। এছাড়া সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সিদ্দিকা সুলতানা সিসামুক্ত বাংলাদেশ গড়তে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা দ্রুত কার্যকর করার আহ্বান জানান।
