মুক্তি পেয়ে জামায়াতের সংবর্ধনায় রিমান্ডের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন আখতারুজ্জামানের
কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে জামায়াতের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। প্রবাসীদের হয়রানির প্রতিবাদ করায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।

কারামুক্তির পর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বলেছেন, তার গ্রেফতারে কোনো আপত্তি না থাকলেও তাকে রিমান্ডে নেওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত সংবর্ধনায় তিনি এ কথা জানান।
তিনি জানান, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসীদের ভোগান্তি, অব্যবস্থাপনা ও দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদ করার কারণেই তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে আটক করা হয়েছিল এবং জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। গ্রেফতারের আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আইনি পরোয়ানা দেখানোর কথা বলেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রিমান্ড চলাকালীন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে আখতারুজ্জামান জানান, চোখ বেঁধে তাকে জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক ও অভ্যন্তরীণ বিষয়াদি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে। কোনো রাজনৈতিক দলের নিজস্ব কার্যক্রম বা নেতৃত্ব সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা পুলিশের আইনি এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আইনি জটিলতার বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, নিম্ন আদালতে জামিন প্রত্যাখ্যানের পর উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেও তা আবার চেম্বার আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। দেশের বিচারব্যবস্থা এভাবে চললে তা সাধারণ মানুষ মেনে নেবে না বলে তিনি সতর্ক করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আখতারুজ্জামান বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তারা প্রতিবাদ অব্যাহত রাখবেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখতে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের বিষয়টি ভেবে দেখতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।
প্রবাসীদের সুবিধা ও অধিকার রক্ষায় জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি প্রবাসীদের জন্য অভ্যর্থনা কেন্দ্র গড়ার ভাবনার কথা জানান। এ বিষয়ে তিনি দলের আমিরের বিশেষ মনোযোগ দাবি করেন। বক্তব্য শেষে কারাবাসকালে পাশে থাকার জন্য জামায়াত ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
