ভোটাধিকার বিনষ্ট হলে জনগণের কোনো আশ্রয় থাকে না: জাহেদ উর রহমান
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের সেমিনারে বক্তারা জানান, ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে অনিয়মের মাধ্যমে দেশে একদলীয় শাসন ও কারচুপির সংস্কৃতি শুরু হয়েছিল, যা পরবর্তীতে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সংকট ডেকে আনে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আয়োজিত 'গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা সেমিনার সিরিজ'-এর তৃতীয় পর্বে ১৯৭৩ সালের নির্বাচন ও তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। লেখক ও গবেষক তুহিন খানের সঞ্চালনায় 'তিয়াত্তরের নির্বাচন: ভোটচুরির আওয়ামী মডেলের সূচনা' শীর্ষক এই সভায় প্রধান বক্তা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, নির্বাচন বা ভোটাধিকারের দাবিকে কেবল দলীয় চাওয়া হিসেবে দেখলে জনগণের অধিকারকেই অস্বীকার করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচনে অনিয়মের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক চর্চা বিনষ্ট করা হয়েছিল।
সেমিনারে সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা বলেন, তিয়াত্তরের নির্বাচনে বাকেরগঞ্জ-৪ আসনে শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী জাসদ প্রার্থী আজহার উদ্দিন আহমেদকে ভোটের আগেই তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং সেখানে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়। তাঁর মতে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে কুক্ষিগত করে দেশে একক ব্যক্তির শাসন প্রতিষ্ঠার যে সূচনা তখন হয়েছিল, তা পরবর্তী শাসনামলেও দেখা গেছে।
অন্যতম আলোচক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদ খান জানান, বিরোধী দল ছাড়াই স্বাধীন দেশের প্রথম সংসদ গঠিত হয়েছিল, যা গণতন্ত্রের জন্য অপমানজনক। তৎকালীন সময়ে দলীয় নেতাকর্মীদের অপকর্ম থামাতে না পারা নেতৃত্বের বড় ব্যর্থতা ছিল। তিনি মনে করেন, দলীয় সরকারের অধীনে ভালো নির্বাচন না হওয়ার কারণেই তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা আনা হয়েছিল। কিন্তু পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তা বাতিল করায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও জাদুঘরের মহাপরিচালক এহসান মাহমুদ উল্লেখ করেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ ছিল এবং মাত্র একটি টেলিভিশন ও চারটি দৈনিক পত্রিকা সরকারের নির্দেশে চলত। সেই সময়েই দীর্ঘ স্বৈরাচারী শাসনের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। উল্লেখ্য, এই ধারাবাহিক আলোচনার চতুর্থ পর্ব বুধবার দুপুর ৩টায় জাদুঘরের মনসুন থিয়েটারে অনুষ্ঠিত হবে।
