প্যালান্টিরের বিরুদ্ধে কর ফাঁকি ও বৈশ্বিক কৌশল ব্যবহারের অভিযোগ

খেলা ৬ আগস্ট ২০২৬ ২৯৯৮

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান প্যালান্টিরের বিরুদ্ধে জটিল হিসাব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী বিপুল পরিমাণ আয়কর এড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সরকারি চুক্তি থেকে বিশাল আয় করলেও প্রতিষ্ঠানটি নগণ্য কর দিচ্ছে।

প্যালান্টিরের বিরুদ্ধে কর ফাঁকি ও বৈশ্বিক কৌশল ব্যবহারের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক কর গবেষণা সংস্থা 'সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল করপোরেট ট্যাক্স অ্যাকাউন্টেবিলিটি অ্যান্ড রিসার্চ' (সিআইসিটিএআর)-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্য বিশ্লেষণ খাতের মার্কিন প্রতিষ্ঠান প্যালান্টিয়ার টেকনোলজিস বিশেষ করপোরেট কাঠামোর সুবিধা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে কেন্দ্রীয় আয়কর দেওয়া থেকে বিরত রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি সরকারি চুক্তি থেকে বিপুল উপার্জন করলেও বৈশ্বিক কর পরিশোধের হার অত্যন্ত কম।

প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, ২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্যালান্টিয়ারের আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯৩ শতাংশ বেড়ে ১.৯৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। তা সত্ত্বেও ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির কার্যকর বৈশ্বিক করের হার ধরা হয়েছে মাত্র ১.৪ শতাংশ। ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যে অর্জিত বিশাল মুনাফা হিসাবের মাধ্যমে মার্কিন প্রধান সংস্থায় স্থানান্তর করে কার্যস্থলের দেশগুলোতে করযোগ্য আয় দেখানো হয় খুব কম। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাজ্যে গত বছরগুলোতে প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলারের সরকারি কাজ পেলেও ২০২৪ সালে সংস্থাটি মাত্র ২৭ লাখ ডলারের মতো কর প্রদান করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রেও প্রতিষ্ঠানটি টানা তিন বছর ধরে কোনো কেন্দ্রীয় আয়কর দেয়নি। তারা আগের লোকসান, গবেষণা খাত ও কর্মীদের শেয়ারভিত্তিক সুবিধার করছাড় ব্যবহার করে কেবল অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে ২৫ লাখ ডলার কর দিয়েছে। এর মাধ্যমে সংস্থাটি ভবিষ্যতে বিপুল মুনাফার ওপর কর এড়ানোর সুবিধা তৈরি করে রেখেছে। যদিও সিআইসিটিএআর এই নীতিকে বেআইনি আখ্যা দেয়নি, তবে সরকারি তহবিলের ওপর নির্ভরশীল একটি প্রতিষ্ঠানের এমন কর কাঠামোর যৌক্তিকতা নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছে।

অবশ্য কোম্পানির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন যে, তারা সব দেশের প্রচলিত কর আইন যথাযথভাবে অনুসরণ করেন এবং স্থানান্তরিত মূল্য নির্ধারণ একটি বিশ্বস্বীকৃত প্রচলিত হিসাবরক্ষণ প্রক্রিয়া। ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত প্যালান্টিয়ারের গোড়াপত্তনে সিআইএ-সমর্থিত তহবিলের বিনিয়োগ ছিল। বর্তমানে নাসডাকে প্রায় ৩৭০ বিলিয়ন ডলার বাজারমূল্যের এই প্রতিষ্ঠানটি মার্কিন সামরিক, গোয়েন্দা ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে প্রযুক্তি সেবা দিয়ে থাকে।

এদিকে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে প্যালান্টিয়ারের কৌশলগত সম্পর্ক ও সফটওয়্যার সরবরাহ বাড়ানো নিয়েও সামাজিক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গাজা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে এআই প্রযুক্তি সেবা দেওয়া এবং তাদের সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের সংস্থায় নিয়োগের বিষয়টি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য ও প্রতিরক্ষা খাতে বড় অঙ্কের চুক্তি থাকায় স্থানীয় নাগরিক অধিকারকর্মী ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এসব সরকারি চুক্তি পুনর্বিবেচনার জোর দাবি জানিয়েছে।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন