কুইন্স বরো প্রেসিডেন্ট ও সিটির স্যানিটেশন কমিশনারের হিলসাইড এভিনিউ পরিদর্শন রাস্তার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ

সালাহউদ্দিন আহমেদ
নিউইয়র্ক (ইউএনএ): চলতি বছরের গত আগষ্ট মাসে কুইন্স সেন্ট্রাল লাইব্রেরী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত টাইল হল মিটিং-এর ফলোআপ হিসেবে কুইন্স বরো প্রেসিডেন্ট ডনোবান রিচার্ড (জুনিয়র) ও নিউইয়র্ক সিটির স্যানিটেশন বিভাগের কমিশনারের গ্রেগরী এন্ডারসন বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশী অধ্যুষিত হিলসাইড এভিনিউ পরিদর্শন করেন। এসময় তারা রাস্তার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়াও পর্যায়ক্রমে হিলসাইড এভিনিউতে আরো গার্বেজ ক্যান বসানো হবে বলেও জানান তারা। বুরো প্রেসিডেন্টর অফিস ও স্থানীয় কমিউনিটি বোর্ডের সদস্য সহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এসময় উপস্থিত ছিলেন। খবর ইউএনএ’র।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবীর প্রেক্ষিতে কমিউনিটি বোর্ড মেম্বার এবং জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম দেলোয়ারের আমন্ত্রণে কুইন্স বরো প্রেসিডেন্ট ও নিউইয়র্ক সিটির স্যানিটেশন বিভাগের কমিশনার বৃহস্প্রতিবার সকাল ১০টার দিকে হিলসাইড এভিনিউতে আসেন। এসময় তারা ১৬৭ স্ট্রীট এন্ড হিলসাইড এভিনিউর কর্ণারে কমিউনিটির নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করেন এবং রাস্তার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে প্রশাসন ও সিটির পরিকল্পনা তুলে ধরেন। পরে তারা ১৬৭ স্ট্রীট থেকে ১৬৮ স্ট্রীট পর্যন্ত হিসাইড এভিনিউ ঘুরে দেখেন এবং বরো প্রেসিডেন্ট স্থানীয় পুরনো স্টোর ফাতেমা গ্রোসারী ও মান্নান বেকারী এন্ড রেষ্টুরেন্ট পরিদর্শন করেন।
এসময় কুইন্স বরো প্রেসিডেন্ট অফিসের ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সাদেক, কমিউনিটি বোর্ড-৮ এর চেয়ারপার্সন মার্থা টেইলর, পার্ক কমিটির চেয়ার বিথিহারা ফুলটন, বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, ফার্সাসিস্ট সাহাব উদ্দিন কাচ্চু, জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক এনায়েত মুন্সী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জে মোল্লা সানি, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট ফিরোজ কবীর, জিল্লুর রহমান, হিমু মিয়া, সাফি আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
হিলসাইড এভিনিউতে স্যানিটেশন বিভাগের কমিশনার গ্রেগরী এন্ডারসন সাংবাদিকদের বলেন, সিটির পাঁচ বরোর সাইডওয়াকে সেনিটেশন ডিপার্টমেন্টের প্রায় ২৫ হাজার গার্বেজ ক্যান রয়েছে। এরমধ্যে ৩ হাজার ৫০০ ক্যান হারিয়ে গেছে। এই হারিয়ে যাওয়া ক্যানগুলো কে বা কারা নিয়ে গেছে, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। তিনি আরো জানান যে, আমরা নতুন ডিজাইনের আধুনিক বাস্কেট স্থাপন করছি। তবে সর্বত্রই এই বাস্কেট বা গার্বেজ ক্যান স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে পর্যায়ক্রমে এই কার্যক্রম চলবে এবং চলতি বছরের মধ্যেই পাঁচ বরোর নির্দিষ্ট রাস্তার সাইড ওয়াকে বাস্কেট স্থাপন করা সম্ভব হবে।
কমিশনার এন্ডারসন বলেন, আমাদের প্রথম অগ্রাাধিকার হচ্ছে যেসব স্পট থেকে বাস্কেট মিসিং সেখানে দ্রুত নতুন বাস্কেট স্থাপন করা। তারপর অন্যান্য স্ট্রীটেও বাস্কেট স্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, নিয়মিত গার্বেজ পরিষ্কার করা না হলে প্রয়োজনে ৩১১ এ ফোন করে অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেন।
বরো প্রেসিডেন্ট ডনোভান রিচার্ডস বলেন, হিলসাইড এভিনিউ ছাড়াও জ্যামাইকা এভিনিউতে গার্বেজ ক্যান অনেক বড় ইস্যু। এই রাস্তাটির দিকেও নজর দিতে হবে। এসময় কমিশনার জানান, আমরা সেখানেও কাজ করছি।
ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার হিলসাইড এভিনিউর গার্বেজ পরিস্থিতি ও পরিষ্কার পরিছন্নতার বিষয়টি কমিশনার ও বরো প্রেসিডেন্টের সামনে সংক্ষেপে তুলে ধরে বলেন, আমি হিলসাইড এভিনিউর একজন ক্ষুদে ব্যবসায়ী। বসাস করি এই এলাকাতেই। তাই এই এলাকার বিষয়টি আমার নখদর্পনে। তিনি বলেন, এই এলাকায় জনবসতি আর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিপার্টমেন্ট অব সেনিটেশন এবং প্রাইভেট কোম্পানীর গার্বেজ পিকআপ-এর ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ানো দরকার।
ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার অভিযোগ করে বলেন, আমরা দেখেছি অনেক নেবারহুডে সার্ভিস ভাল দেয়া হয়। কোনো কোনো নেবারহুড বঞ্চিত হয়। তিনি সকল নেবারহুড-কে সমান চোখে দেখার দাবী জানান এবং বরো প্রেসিডেন্ট ও স্যানিটেশন বিভাগের কমিশনারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ছবি: ইউএনএ
ছবিতে দেখুন



