‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের পরিচিতি সভা পরিণত হলো পরামর্শ আর প্রতিবাদ সভায়
মামলার কারনে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন স্থগিত

সালাহউদ্দিন আহমেদ
নিউইয়র্ক (ইউএনএ): আদালতে মামলার কারনে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন স্থগিত হয়ে গেছে। ২৫ অক্টোবর রোববার এই নির্বাচন হওয়ার কথা ছিলো। আর এই নির্বাচন উপলক্ষ্যে ২৩ অক্টোবর শুক্রবার ছিলো নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্ব ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের শেষ পরিচিতি সভা। এই দিনই আদালত থেকে নির্বাচন স্থগিতের আদেশ আসে। ফলে ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের পরিচিতি সভা পরিণত হয় পরামর্শ আর প্রতিবাদ সভায়। ঐদিন সন্ধ্যায় সিটির উডসাইডের গুলশান ট্যারেসে এই সভার আয়োজন করা হয়েছিলো। সভায় বক্তারা মামলার প্রেক্ষিতে সোসাইটির ইতিহাসে রেকর্ড ৩৫ হাজারোধিক ভোটারের নির্বাচন স্থগিত হয়ে যাওয়ার কারণ, এজন্য কারা দায়ী প্রভৃতি বিষয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি বর্তমান নেতৃত্বের তীব্র সমালোচনা করেন। আবার একাধিক বক্তা এই সভায় মামলা পরবর্তী পদক্ষেপ ও করনীয় নিয়েও বক্তব্য রাখেন। বক্তারা মামলার বাদী-বিদাদীর মধ্যকার সমঝোতার মাধ্যমে অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহারের দাবী এবং অতি দ্রæত নির্বাচনের দাবী জানান। সভায় ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানের সভাপতি পদপ্রার্থী আজমাল হোসেন কুনু ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ফিরোজ আহমেদ সহ প্যানেলের নেতৃবৃন্দ সভায় উপস্থিত শত শত প্রবাসীর উপস্থিতিতে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে দাবী করেন জনগণের ভালোবাসায় ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেল জয়ী হয়েছে। খবর ইউএনএ’র।
‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহŸায়ক রুহুল আমীন সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক ট্রাষ্ট্রি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক সভাপতি এম এ আজিজ। সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়।
সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা জামাল আহমেদ জনি, সোসাইটির সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার নাসির খান পল, বাংলাদেশ সোসাইটি ও গ্রেটার নোয়াখালী সোসাইটির সাবেক সভাপতি আব্দুর রব মিয়া, নর্থ বেঙ্গল ফাউন্ডেশন ইউএসএ’র সভাপতি ডা. চৌধুরী সারোয়ারুল হাসান, বিশিষ্ট রাজনীতিক ও ব্যবসায়ী গিয়াস আহমেদ, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট এমাদ চৌধুরী, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকার সাবেক সভাপতি মইনুল হক চৌধুরী হেলাল ও বদরুন নাহার খান মিতা, সোসাইটির সাবেক সহ সভাপতি ও কুইন্স নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ফারুক চৌধুরী, সোসাইটির সাবেক কর্মকর্তা নূরুল হক, ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান বেলাল মাহমুদ, কো-চেয়ারম্যান এবং বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতি ইউএসএ’র সভাপতি ইউনুস সরকার, অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান মইনুল ইসলাম, ব্রঙ্কস নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা আলহাজ সোলায়মান ভূইয়া, রিয়াজুল জান্নাহ ইসলমিক সেন্টার সাবেক সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক, নারায়নগঞ্জ জেলা সমিতি ইউএসএ’র সাবেক সভাপতি ও উপদেষ্টা মোহাম্মদ মহসীন, কুইন্স বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি কাজী তোফায়েল ইসলাম, কমিউনিটি নেতা টি মোল্লা, জ্যামাইকা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ভিপি জহির মোল্লা, মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর এসোসিয়েশন ইউএসএ’র সভাপতি শাহাদৎ হোসেন, প্রবাসী টাঙ্গাইলবাসী ইউএসএ’র সাবেক সভাপতি আকতারুজ্জামান হ্যাপী, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট মিজানুর রহমান মিজান, সাইফুর খান হারুন, সোসাইটির আজীবন সদস্য আছিয়া আক্তার, উডসাইড নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আমিনুল ইসলাম চৌধুরী, ব্রæকলীন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহŸায়ক মাইনুল উদ্দিন মাহবুব, ওজনপার্ক নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহŸায়ক ফখরুল ইসলাম, জ্যামাইকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব কাজী আবু নাসের প্রমুখ।
এছাড়াও সভায় ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী সহ অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সহ সভাপতি পদপ্রার্থী ও সোসাইটির বর্তমান সহ সাধারণ সম্পাদক কালাম ভূঁইয়া, কোষাধ্যক্ষ পদপ্রার্থী ও সোসাইটির বর্তমান কোষাধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম রুমি প্রমুখ।
যৌথভাবে সভা পরিচালনা করেন ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী বাবুল চৌধুরী ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব আনোয়ার হোসেন।
এম এ আজীজ বলেন, সোসাইটিতে যোগ্য নেতৃত্ব চাই। যারা ঐক্য বিনষ্ট করে তাদের বয়কট করুন। তিনি সোসাইটির সঠিক তথ্য, বাস্তব তথ্য তুলে ধরার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহŸান জানান।
গিয়াস আহমেদ বলেন, মামলার কারণে ইতিমধ্যেই দেড় লাখ ডলার ব্যয় হয়েছে। তিনি মামলাবাজদের চিহ্নিত করে সামাজিকভাবে বয়কটের এবং সোসাইটিকে রাজনীতি আর সিন্ডিকেট মুক্ত রাখার আহŸান জানান।
সভায় আজমল হোসেন কুনু বলেন, মামলার কারণে এতো বড় নির্বাচন স্থগিত হওয়াতে সবার মতো আমিও দু:খিত, ব্যথিত, ভারাক্রান্ত। তবে আমরা কাউকে দোষারোপ করতে চাইনা। তবে সোসাইটির কর্তকর্তারা জেনেও কেন আগে থেকে মামলা মোকোবেলা করেননি। মামলায় বিপুল পরিমান অর্থ ব্যয় দু:খজনক। তিনি বলেন, আমরা সত্তর নির্বাচন চাই। জনতার রায়ে আমরা জিতে গেছি। আজকের সভা তাই প্রমাণ করে। তিনি ঐক্যবদ্ধ থেকে ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলকে জয়ী করার আহŸান জানান।
ফিরোজ আহমেদ বলেন, আজ নতুন করে বলার কিছু নেই। কিন্তু কেনো কি কারনে, কাদের জন্য নির্বাচন স্থগিত হলো তা আমাদের জানতে হবে। আমরা আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তিনি হতাশ না হয়ে প্যানেলের সকল প্রার্থী, কর্মকর্তা ও সমর্থকদের নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান।
ছবিতে দেখুন


