জ্বালানি খাত বেসরকারিকরণের পদক্ষেপে জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা
রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান বেসরকারিকরণের উদ্যোগে ক্ষোভ প্রকাশ করে জাতীয় সম্পদ রক্ষায় আন্দোলনের আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দেওয়ার তাগিদ উঠে এসেছে।

রাষ্ট্রীয় ছয়টি বিদ্যুৎ ও গ্যাস বণ্টনকারী প্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতের হাতে ছেড়ে দেওয়ার সরকারি পরিকল্পনাসংক্রান্ত আলোচনাকে উদ্বেগজনক বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত আমদানিনির্ভরতা বাড়াতে থাকা নীতি দেশের নিরাপত্তাকে দুর্বল করছে বলে মন্তব্য করা হয়েছে। আয়োজিত এক অবস্থান কর্মসূচিতে জানানো হয়, গত এক দশকে দেশে এলএনজি ব্যবহারের হার প্রায় ৬-৭ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৩০ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে, যা স্থানীয় সক্ষমতা হ্রাসেরই প্রকাশ।
মিয়ানমার থেকে এলএনজি আমদানির চিন্তাভাবনার তীব্র সমালোচনা করে বলা হয়, প্রায় ১৭ লাখ রোহিঙ্গার স্বদেশে প্রত্যাবাসন ইস্যুটি এখনো সমাধান হয়নি। এ রকম এক অনিশ্চিত প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ওপর জ্বালানির জন্য নির্ভরশীল হওয়া মোটেই বিচক্ষণ কাজ নয়। পূর্বে কুইক রেন্টাল প্রকল্পের মাধ্যমে বিপুল অর্থ অপচয়ের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ তুলে ধরা হয়। এখন একইভাবে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদ করপোরেট শক্তির হাতে সঁপে দেওয়া হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর।
বিদ্যমান সংকট কাটিয়ে উঠতে বিদেশি নির্ভরতার পথ ছেড়ে অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের দাবি জানানো হয়। এ উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে আরও কার্যকর করা এবং বঙ্গোপসাগরের গ্যাস ব্লকগুলোতে দ্রুত অনুসন্ধান জোরদার করার পরামর্শ দেওয়া হয়। জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে নতুন নীতি তৈরি করা এবং জনস্বার্থবিরোধী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সমন্বিত আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
উক্ত অবস্থান কর্মসূচিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন। এছাড়া এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ এবং এবি পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার ফুয়াদ আলোচনায় অংশ নেন।
