গর্ভকালীন ডায়াবেটিস: ঝুঁকি, প্রতিরোধ ও প্রসূতি মায়ের সঠিক পরিচর্যা

লাইফস্টাইল ৩ নভেম্বর ২০২৬ ৩১০৯

গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তশর্করার নিয়ন্ত্রণ মা ও অনাগত শিশুর সুরক্ষায় অত্যন্ত জরুরি। সময়মতো পরীক্ষা, নিয়মমাফিক জীবনযাপন ও চিকিৎসকের পরামর্শে জটিলতা ছাড়াই সুস্থ সন্তান প্রসব সম্ভব।

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস: ঝুঁকি, প্রতিরোধ ও প্রসূতি মায়ের সঠিক পরিচর্যা

গর্ভাবস্থায় হঠাৎ রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যাওয়াকে জেসটেশনাল ডায়াবেটিস বলা হয়ে থাকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্পষ্ট লক্ষণ প্রকাশ না পাওয়ায় কেবল শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমেই এটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়। অতিরিক্ত দৈহিক ওজন, স্বজনদের ডায়াবেটিসের উপস্থিতি, ২৫ বছর বা তার বেশি বয়স, কায়িক পরিশ্রমের ঘাটতি এবং পলিসিস্টিক ওভারির ইতিহাস থাকলে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। তবে কোনো বিশেষ ঝুঁকি ছাড়াও যেকোনো গর্ভবতী নারী এতে আক্রান্ত হতে পারেন।

সাধারণত গর্ভধারণের ২৪ থেকে ২৮ সপ্তাহের মাথায় রক্ত পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শুরুতেই পরীক্ষা করা ভালো। এই শর্করা নিয়ন্ত্রণের প্রাথমিক ধাপ হলো সুষম খাদ্য গ্রহণ, জীবনযাত্রায় শৃঙ্খলা এবং নিয়মিত হালকা হাঁটাচলা করা। সেই সঙ্গে নিয়মিত রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ মেপে তা নথিবদ্ধ রাখা প্রয়োজন।

চিকিৎসার প্রয়োজনে ইনসুলিন গ্রহণ করা একদম নিরাপদ এবং এতে গর্ভস্থ শিশুর কোনো ক্ষতি হয় না। চিকিৎসকদের মতে, মা যদি শর্করা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন, তবে শিশুর অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি ও প্রসবকালীন নানা জটিলতাসহ মায়ের উচ্চ রক্তচাপ বা গর্ভস্থ শিশুর আকস্মিক ক্ষতির আশঙ্কা থেকে যায়।

প্রসবের পরে অনেক নারীর রক্তে শর্করার পরিমাণ স্বাভাবিক হয়ে এলেও পরবর্তীতে তাঁদের টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার উচ্চ ঝুঁকি থাকে। তাই প্রসবের পর ৪ থেকে ১২ সপ্তাহের ভেতরে পুনরায় রক্তের শর্করা পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন