আসামে উচ্ছেদ অভিযানে মুসলিম পরিবারের বসতবাড়ি ও ধর্মীয় উপাসনালয় ধ্বংস

রাজনীতি ৩ নভেম্বর ২০২৬ ৩১০৯

ভারতের আসাম রাজ্যের ধুবড়ি জেলায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে বহু বাঙালি মুসলিম পরিবারের ঘরবাড়ি ও একাধিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে কয়েক হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ায় মানবিক সংকট ও ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আসামে উচ্ছেদ অভিযানে মুসলিম পরিবারের বসতবাড়ি ও ধর্মীয় উপাসনালয় ধ্বংস

ভারতের আসাম রাজ্যের ধুবড়ি জেলার গৌরীপুর রাজস্ব চক্রের আওতাধীন আলমগঞ্জ পার্ট-৯ অঞ্চলে সম্প্রতি একটি বড় ধরনের উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে রাজ্য সরকার। সরকারি প্রায় ৬৫০ বিঘা জমি দখলমুক্ত করার লক্ষে অর্ধশতাধিক এক্সকাভেটর ও বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়ে গত ১ নভেম্বর এ অভিযান চালানো হয়। এতে প্রায় ৬৪০ থেকে ৭৫০টি বাঙালি মুসলিম পরিবারের বাসস্থান ভেঙে ফেলা হয়েছে, যার ফলে চার হাজারের বেশি মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। ধুবড়ি জেলা প্রশাসন অবশ্য প্রায় ৫৫০টি পরিবারকে সরিয়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করে দাবি করেছে যে, বিধি মোতাবেক আগাম নোটিশ ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ অনুসরণ করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অভিযানে শুধু সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি নয়, বরং বেশ কিছু মসজিদ, মাজার, উপাসনালয় ও কবরস্থান ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানা গেছে। নিজেদের বহুদিনের পরিচিত পরিবেশ এবং ধর্মীয় স্থাপনা ভেঙে ফেলার সময় স্থানীয় অধিবাসীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন ও প্রার্থনা করতে থাকেন। স্থায়ী বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে বসবাস করলেও তাদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হয়েছে এবং কোনো বিকল্প ব্যবস্থা বা পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

আসামে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে বাঙালি মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসতি উচ্ছেদ নিয়ে ধারাবাহিক সমালোচনা চলছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে পরিচালিত অভিযানে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যাদের প্রধান অংশই বাঙালি মুসলিম। প্রশাসন থেকে দখলদারিত্ব বা অবৈধ অভিবাসনের অভিযোগ তোলা হলেও ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, তারা ভারতের বৈধ নাগরিক।

ভিটেমাটি হারানোর ফলে এই জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার রক্ষাও নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বসতি স্থানান্তরের পর স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণসংক্রান্ত জটিলতায় ধুবড়ি ও উরিয়ামঘাট অঞ্চলের প্রায় ৫ হাজার ৭০০ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাও যথাযথ প্রক্রিয়ার অভাব এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার হরণের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন