১৯৭৩ সালের নির্বাচন থেকেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংসের সূচনা: সেমিনারে বক্তারা
১৯৭৩ সালের জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়েই দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা ও গণতন্ত্র বিনষ্টের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল বলে রাজধানীতে আয়োজিত এক সেমিনারে মন্তব্য করেছেন বক্তারা।

রাজধানীর জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মুনসুন থিয়েটারে ‘তিয়াত্তরের নির্বাচন: ভোট চুরির আওয়ামী মডেলের সূচনা’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ সিরিজের এই তৃতীয় পর্বের আলোচনায় বক্তারা বলেন, ১৯৭৩ সালের ভোটে অনিয়ম, বিরোধী শক্তিকে দমন ও একক ক্ষমতার চর্চার মাধ্যমেই দেশে স্বৈরাচারী রাজনীতির ভিত তৈরি করা হয়েছিল।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, সেই নির্বাচনে বিজয়ের বিষয়ে নিশ্চিত থাকা সত্ত্বেও বিরোধী প্রার্থীদের জয়লাভ করতে দেওয়া হয়নি। বিরোধীদের সংসদে আসতে না দেওয়ার এই প্রবণতা থেকেই পরবর্তী সময়ে বাকশাল প্রতিষ্ঠা ও ক্ষমতা এককেন্দ্রিক করার পথ তৈরি হয়।
সংগ্রামের স্মৃতি তুলে ধরে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক আবু সাঈদ খান জানান, ওই নির্বাচনে ১৫ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন এবং কয়েকটি আসনে প্রাথমিক ফলাফলে বিরোধীরা এগিয়ে থাকলেও পরে তা বদলে দেওয়া হয়। এমনকি ব্যালট বাক্স হেলিকপ্টারে উড়িয়ে এনে ফল পরিবর্তনের ঘটনাও ঘটে। যার ফলে সংসদে বিরোধীদের আসন সংখ্যা মাত্র সাতে নেমে আসে এবং মুক্ত গণমাধ্যম ও বিরোধী রাজনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সেমিনারে সংরক্ষিত আসনের বিএনপি সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা মত দেন যে, সাম্প্রতিক সময়ের মব-সহিংসতা একধরনের কর্তৃত্ববাদী মানসিকতারই প্রতিফলন। তিনি নিরপেক্ষভাবে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। এ ছাড়া জাদুঘরের মহাপরিচালক এহসান মাহমুদ সব মতের মানুষের আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সেমিনারটির পরিচালনায় ছিলেন জাদুঘরের গবেষণা কর্মকর্তা তুহিন খান।
