নাটোর বিএনপি: এমপি আজিজের ঘটনায় কেন্দ্রকে প্রতিবেদন পাঠানো নিয়ে মতভেদ
ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যা ও সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের বিতর্কিত ভিডিও প্রসঙ্গে কেন্দ্রে সাংগঠনিক প্রতিবেদন পাঠানো নিয়ে নাটোর জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।

নাটোরের ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম হত্যা মামলা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল আজিজের একটি বিতর্কিত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কোনো প্রতিবেদন না পাঠানো নিয়ে দলীয় সিদ্ধান্তহীনতা প্রকাশ্যে এসেছে। গত ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত জেলা বিএনপির বিশেষ সভায় কেন্দ্রে লিখিত ও মৌখিক প্রতিবেদন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।
মঙ্গলবার হরিশপুরে নিজের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান অভিযোগ করেন, আহ্বায়কের অনীহার কারণে কেন্দ্রকে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, ১ নভেম্বর জেলা কমিটির আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কেন্দ্রে কোনো প্রতিবেদন না পাঠানোর কথা ব্যক্ত করেন। তবে আসাদুজ্জামান উল্লেখ করেন, কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে ইতিমধ্যে ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে অবগত ছিলেন না দাবি করে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ জানান, ৩৪ সদস্যের কমিটির মাত্র কয়েকজনকে নিয়ে সদস্যসচিব সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, কেন্দ্রের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ ছাড়া জেলা কমিটি স্বউদ্যোগে কোনো যুগ্ম আহ্বায়কের বিষয়ে তদন্ত বা সাংগঠনিক প্রতিবেদন পাঠাতে পারে না। এ কারণেই তিনি সদস্যসচিবের নেওয়া ঘোষণার বিরোধিতা করেছেন।
এদিকে গত ১৪ অক্টোবর রাতে গুরুদাসপুরের চাঁচকৈড় এলাকায় হামলার শিকার হয়ে পরবর্তীতে ২৬ অক্টোবর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম। ওই ঘটনায় নিহতের বাবা রবিউল করিম বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের বড় ছেলে নূরুজ্জামান মিন্টুসহ আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ হত্যাকাণ্ডে অন্তত ১০ জনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে এবং সন্দেহভাজন সাতজনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে বিমান ও স্থলবন্দরগুলোকে চিঠি দিয়েছে।
