NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, রবিবার, জুলাই ২৬, ২০২৬ | ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
দূরত্বের ভার বহন করতো যে চিঠি আকবর হায়দার কিরণের দ্য স্মেল অব লেটার্স কবিতার ইতিবাচক পাঠ সানিসাইডের কবিতার মঞ্চে কবিতায়, কথায় ও শিকড়ের স্মৃতিতে মনিজা রহমান বাংলাদেশে ৫৫ বছরে ২২ প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ছুপ্পু '৩৫ দেশে ভিসামুক্ত ভ্রমণ': বাংলাদেশি পাসপোর্টের প্রকৃত চিত্র ও বাস্তবতা : কাজী আসমা আজমেরী আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন "Bangladesh Must Face Huge Challenges Ahead: The Country's Politics Has Not Been Set Right, It Is Controlled by Others" মাত্র ৭ মিনিটের আর্জেন্টিনা ঝড়ে বিধ্বস্ত ইংল্যান্ড আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের পিটিশন, ৯৮ লাখের বেশি স্বাক্ষর ফ্রান্সকে উড়িয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন
Logo
logo

দুপচাঁচিয়ায় গ্রামীণ লোকজ উৎসব চড়ক খেলা অনুষ্ঠিত


এম আব্দুর রাজ্জাক প্রকাশিত:  ২৬ জুলাই, ২০২৬, ০৮:০১ পিএম

দুপচাঁচিয়ায়  গ্রামীণ লোকজ  উৎসব  চড়ক খেলা অনুষ্ঠিত

এম আব্দুর রাজ্জাক,বগুড়া থেকে : বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার তালোড়া ইউনিয়নের ফেঁপিড়া গ্রামে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও গত ১২ জুন সোমবার বিকালে চড়ক খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গ্রামীণ লোকজ এ উৎসবকে কেন্দ্র করে এদিন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সহ আশ পাশের গ্রাম থেকে বিপুল সংখ্যাক নরনারী উপস্থিত ছিলেন। ফেঁপিড়া জুনিয়র কল্যাণ সমিতির আয়োজনে এ চড়ক খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

এ চড়ক খেলার আয়োজকরা জনান, এ উপলক্ষে সনাতনী পঞ্জিকা মতে শুভ দিন দেখে একটি নির্দিষ্ট দিন শনিবার অথবা মঙ্গলবার মঙ্গল ঘট স্থাপন করা হয়। ঘট স্থাপনের ৬দিন পর ভরণ পূজা শুরু হয়। এই ৬দিন সন্ধ্যায় বিভিন্ন দেব-দেবীর বন্দনা করা হয়। ৮দিনের মাথায় দেবী কালীর মুখাকৃতি কাঠের তৈরী চামুন্ডা মুখে বেঁধে ঢাক বাজিয়ে খেলা করা হয়। এ খেলাকে শ্মশান খেলা বলে। ১০দিনের মাথায় দুপুর থেকে সনাতন ধর্মালম্বীদের পৌরাণিক কাহিনীর আদলে সেজে ছেলেরা খেলা করে। বিকালে সন্ন্যাসীর পিঠে লোহার তৈরী কাঁটা(বর্শি) ফুঁড়ে গাছের মাথায় বাঁশ দিয়ে রশির মাধ্যমে ঘোরানো হয়।  এ খেলাকে চড়ক খেলা বলে। এবার বগুড়ার নন্দীগ্রামের সন্ন্যাসী লক্ষ্মণ চন্দ্র দাস এ চড়ক খেলা দেখিয়ে উপস্থিত বিপুল সংখ্যক দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এ খেলা উপলক্ষে আগত সন্ন্যাসী আদমদীঘির মদন মোহন বিশ্বাস জানান, এ চড়ক পূজা করতে হলে শিব, কালী সহ বিভিন্ন দেবীর বন্দনা করতে হয়। আর চড়ক খেলায় এসব দেবতার আর্শিবাদের পাশাপাশি তন্ত্রমন্ত্রের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। 

ফেঁপিড়া জুনিয়র কল্যাণ সমিতির উপদেষ্টা শ্রী চরণ দাস জানান, এক সময় ছিল যখন হিন্দু বসতি এলাকায় এ ভরণ বা বানবত্র পূজা  উপলক্ষে চড়ক খেলা অনুষ্ঠিত হতো। খেলা উপলক্ষে ওই এলাকায় মেলাও বসত। কিন্তু বর্তমানে এ চড়ক খেলা সহ মেলাও অনেকাংশে কমে গেছে। এ খেলা উপলক্ষে মেয়ে-জামাইরা গ্রামে বেড়াতে আসে। ফেঁপিড়া গ্রামের  প্রবীণ ব্যক্তি গোপেন্দ্রনাথ দাস বলেন, এখন গ্রামাঞ্চলে সনাতন ধর্মালম্বীদের লোকজ উৎসব হারিয়ে যেতে বসেছে। তার পরেও যে এ ধরনের চড়ক খেলা সহ ভরণ পূজা কিছুটা হলেও গ্রামের লোকজ ঐতিহ্যকে বজায় রেখেছে। মেলায় উপস্থিত তালোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মেহেরুল ইসলাম জানান, ফেঁপিড়া গ্রামে বেশ কয়েক বছর ধরে চড়ক খেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। দেখে খুব ভালো লাগে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্নভাবে সকল ধর্মের মানুষের ধর্মীয় উৎসব সহ আনুসাঙ্গিক কর্মকান্ডে তার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।